এতোদিন কোথায় ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃতি খুনি মাজেদ?

0
339

নিউজ ডেস্কঃজাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার আত্মস্বীকৃতি খুনি পলাতক আবদুল মাজেদ আকস্মিকভাবে গ্রেফতার হয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বেশ কয়েক বছর দেশেই ছিলেন। এরপর হঠাৎ দেশত্যাগ করে গা ঢাকা দেন। তাকে কোনোভাবেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গত প্রায় চারদশক ধরে তার বিষয়ে কোনোই তথ্য ছিল না কারো কাছে।

হঠাৎ করেই ২০১৯ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) এক কর্মকর্তা তার সম্পর্কে তথ্য দেন। ওই কর্মকর্তা জানান, খুনি মাজেদের সর্বশেষ অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানে। সে সময় দুই দেশকে চিঠিও দেয়া হয় তার অবস্থান নিশ্চিত হতে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, মাজেদ তাদের দেশে নেই। তবে এ ব্যাপারে পাকিস্তান থেকে কোনোই জবাব মিলছিল না।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নির্মমভাবে খুন হন বিপথগামী কিছু সেনার হাতে। সেই ঘটনার পর খুনিদের ফাঁসি কার্যকর হলেও মাজেদসহ ৬ জন দণ্ডপ্রাপ্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে ছিলেন। তবে আকিস্মিকভাবে সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুরে মাজেদ ধরা পড়েন। বাকি পলাতকরা হচ্ছেন- রাশেদ চৌধুরী, নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, কর্নেল রশীদ, মুসলেহউদ্দীন রিসালদার।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাজেদ পুলিশের কাছে বলেছেন, গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে সরকারপক্ষের আইনজীবী মাজেদকে আদালতে তোলার পর তার আত্মগোপন বিষয়ে জানতে চান। তখন মাজেদ বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি ২২ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন।

প্রশ্ন উঠেছে,কখন কীভাবে মাজেদ বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন? এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দেননি মাজেদ। তবে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর ধারণা, করোনার কারণে ভারত থেকে অনেককেই পুশ ব্যাক করা হয়েছে। সে কারণেই হয়তো ২৬ মার্চ ময়মনসিংহের সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করে থাকতে পারেন। এর আগে মাজেদ লিবিয়া ও পাকিস্তানে আত্মগোপনে ছিলেনও বলে জানা যাচ্ছে।

একটি সূত্র বলছে, ১৯৯৫ সালের দিকে মাজেদ বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখান থেকে পালিয়ে প্রথমে পাকিস্তানে। এরপর চলে যান লিবিয়ায়। সেখান থেকে ২০১৬ সালে আবারও ভারতে ফেরেন। এরপর থেকে কলকাতাতেই আত্মগোপনে ছিলেন।

মাজেদের গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্যেও রয়েছে নাটকীয়তা। পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট সূত্রমতে, সোমবার দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে মাজেদকে রাজধানীর মিরপুরে রিকশায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তখন পুলিশের সন্দেহ হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় মাজেদ দ্বিধাদ্বন্দ্ব না করেই পুলিশকে বলেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ।

এদিকে, দুপুরে মাজেদকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সূত্র-ভোরের কাগজ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here