বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা , প্রাণহানির আশংকা হচ্ছে প্রবল করোনার হট স্পট যশোর ও চুয়াডাঙ্গা

0
326

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলা বর্তমানে করোনার হট স্পট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ২ জেলায় জেলায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছি করোনা রোগীর সংখ্যা। গতকাল যবিপ্রবি ল্যাবে যশোরে কোভিড-১৯ এ আরো ১৭ জন ও চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ তিনজন চিকিৎসক,একজন নার্স রয়েছেন। যশোর সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার রেহনেওয়াজ গতকাল শনিবার ১৬ মে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে যশোর জেলায় গত ১০ মার্চ থেকে গতকাল ১৬ মে পর্যন্ত ৯০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। আর চুয়াডাঙ্গা জেলায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৬ । তিনি আরো জানান,যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার থেকে ৩৯টি রিপোর্ট প্রদান করেন। তার মধ্যে যশোরে ১৭টি পজিটিভ এসেছে। ১৭ জনের মধ্যে যশোর ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত একজন ইন্টার্ণ চিকিৎসক,প্রসূতী বিভাগে কর্মরত একজন সেবিকা,যশোর মাতৃ কল্যাণ কেন্দ্রের একজন চিকিৎসক ও বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক রয়েছেন। এছাড়া ১৭ জন পজিটিভের মধ্যে ১২জন পুরুষ ও ৫ জন নারী। তিনি আরো জানান, নতুন করে ১৭ জন আক্রান্ত ছাড়াও ১ জনের ডবল পজিটিভ, ৬ জন ফলোআপ পজিটিভ এসেছে। দিন দিন যশোর সদরে করোনা ভাইরাস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকের মধ্যে আতংক বিরাজ শুরু হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে দিন দিন বাজার শপিং মলে ভীড় করায় জেলা প্রশাসনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন সর্তকর্তা জারি করলেও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যবি প্রবি জিনোম সেন্টার থেকে জানাননো হয়েছে, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে পরীায় গত ৪৮ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৫৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ১৬৫টি নমুনা পরীা করে ৫৬টিতে করোনার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
এর মধ্যে যশোরে ১৭ জন করোনা পজেটিভ বলে শনাক্র হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে এ তথ্য প্রচার করা হয়। ফলো গতকাল মনিবার যশোরে ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ রোগী শনাক্তের ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন সেক্টর ও পেশার মানুষ। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যশোরের ৩৯ জনের নমুনা পরীা করে ১৭ জনের, চুয়াডাঙ্গার ১২৩ জনের নমুনার মধ্যে ৩৮ জনের এবং ঝিনাইদহের ৩ জনের নমুনা পরীা করে এক জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে যবিপ্রবির ল্যাবে গত দুইদিনে ১৬৫ জনের নমুনা পরীা করে ৫৬ জনের পজিটিভ এবং ১০৯ জনের নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
ফলে দেখা যাচ্ছে দেশের দণি-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ঝিনাইদহেও ক্রমেই বাড়ছে করোনা রোগী। গেল দুইদিনে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জেনোম সেন্টারে নমুনা পরীা করে যশোরের ১৭টি এবং চুয়াডাঙ্গার ৩৮টিকে পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নমুনা পরীা কার্যক্রমের নেতৃত্বে থাকা ড. শিরিন নিগার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে যশোর জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একশয়ের কাছাকাছি পৌঁছালো। আর চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টার থেকে গতকাল শনিবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পরীার যে ফল পাঠানো হয়েছে, তাতে দেখা যায়, ১৬৫টি নমুনার মধ্যে ৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত। গেল দুই দিনে এই ল্যাবে যশোরের ৩৯টি নমুনার মধ্যে ১৭টি পজেটিভ রেজাল্ট দেয়। চুয়াডাঙ্গার ১২৩টি নমুনার মধ্যে ৩৮টিরই পজেটিভ ফল আসে। এছাড়া ঝিনাইদহের তিনটি নমুনা পরীা করে একটির ফলাফল পজেটিভ আসে। ফলে ঝিনাইদহ জেলায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা জানাচ্ছেন, এই অঞ্চলের মধ্যে যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আগের দিন পর্যন্ত আইডিসিআর-এর হিসেব অনুযায়ী খুলনা বিভাগের অন্য জেলাগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়ায় ২২ জন, খুলনা ও মাগুরা জেলায় ১৯, নড়াইলে ১৫, বাগেরহাটে ৭, মেহেরপুরে ৬ এবং সাতীরায় ২জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ দণি-পশ্চিমের কোনো জেলা আর করোনামুক্ত নেই। যদিও নড়াইলের সিভিল সার্জন একবার তার জেলাকে করোনামুক্ত ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তারপর ওই জেলায় নতুন করে অন্তত দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন । এদিকে যশোর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই জেলা গুলোর দোকান পাঠ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঈদের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। তবে সাধারণ মানুষের দাবি অবিলম্বে এই মহামারি মোকাবিলায় এই হট স্পট হিসেবে চিহ্নিত জেলা যশোর ও চুয়াডাঙ্গার সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে সামাজিক নিরাপত্তা দূরত্ব বিধি নিষেধ কঠোর ভাবে মেনে চলতে জনগণকে বাধ্য করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি দিন দিন অস্বাভাবিক আকার ধারন করতে পারে। বাড়তে পারে প্রাণহানির সংখ্যাও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here