সেই কিশোর নির্যাতনকারী সন্ত্রাসী মীর কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঝিনাইদহের গান্না ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইউনুছ সরকারের পরিবারের উপর হামলা মারপিট বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট,থানায় মামলা

0
359

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়ন চন্ডিপুর গ্রামে সেই কিশোর নির্যাতনকারী সন্ত্রাসী মীর কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইউনুছ সরকারের পরিবারের উপর হামলা মারপিট বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাটের অভিযোগে সদর থানায় মামলা হয়েছে। গতশুক্রবার ২২মে দুপুরে সরকারপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ঈদের নামাজ পড়ার বিষয়ে বৈঠক ডাকলে ঈদগাহে এবং মসজিদে নামাজ পড়াকে কেন্দ্রকরে চন্ডিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।মামলার আসামীরা হলঃ-১। মীর কামরুজ্জামান, ২। জসিম মুন্সি, ৩। উজ্জ্বল মুন্সি, ৪। বাদশা মীর, ৫। হানিফ মীর, ৬। সাইফুল মুন্সি, ৭। কামাল মুন্সী, ৮। শামীম মীর ও আজিজুল সহ আরো অনেকে।
মীর কামরুজ্জামান এর নামে চাঁদাবাজি, শিশু নির্যাতন, ঘুষ-দুর্নীতি, মারপিট ইত্যাদি বিষয়ে একাধিক মামলা রয়েছে। চন্ডিপুর এলাকা তার বাহিনীর কাছে জিম্মি ।তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।
সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চন্ডিপুর সরকারপাড়া জামে মসজিদ এর ভিতর ইমাম সাহেব ঈদের নামাজ বিষয়ে বৈঠক ডাকেন । সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরকারের ছেলে ইয়াসিন সরকার বাংলাদেশ সরকারের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদের ভিতরে ঈদের নামাজ পড়ার প্রস্তাব রাখে ।কিন্তু মীর কামরুজ্জামান সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পার্শ্ববর্তী এলাকার চারটি মসজিদ সংশ্লিষ্ট লোকজন নিয়ে বড় আকারে মাঠে ঈদের নামাজ পড়তে চায় ।কামরুল মীরের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মসজিদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে এসে ইয়াসিনকে মারপিট করে। তার ডাক চিৎকার শুনে ঠেকাতে গেলে ইউনুস সরকার ,সবুজ সরকার ,মাজহারুল সরকার মন্টা আহত হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত বারেক সরকার, করিম সরকার, আলী হোসেন, জয়নাল সরকার, সাদ্দাম সরকার, হাসেম সরকার, মিজান সরকার, আবুল কাশেম সরকার ও মোসলেম সরকার জানান,ঘটনার আধাঘন্টা পরে মীর কামরুজ্জামান ও তার ৭০ জনের অধিক সন্ত্রাসী ও লাঠিয়াল বাহিনীসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গান্না ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ সরকার এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সাবেক জেলা জজ ও সচিব ডি.এম.সরকার এর বড় ভাই হাফিজ উদ্দিন সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়।হাফিজ উদ্দিন সরকারের নাতি সবুজ সরকার ও মাজহারুল সরকারকে বাড়িতে না পেয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ও সবুজের বউ ও ভাবিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে তাকে লান্চিত করে।
পরে সেখান থেকে গিয়ে মীর কামরুজ্জামান ও তার সন্ত্রাসী লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরকারের বাড়িতে হামলা চালায়। সেখানে ইয়াসিন সরকার কে না পেয়ে তার ঘরের দরজা ভেঙে ফার্নিচার ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধন করে।লাঠিয়াল বাহিনীরা বিছানার নিচ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেয় ও মুক্তিযোদ্ধা ইউনুস সরকারের পুত্রবধূ মেঘলাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় এবং তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন যার আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
সন্ত্রাসী মীর কামরুজ্জামানের বাহিনী দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ তাহের মাষ্টার, চাঁন মিয়া,মইনুল,মান্নান,
আমীর হোসেনসহ অনেকেই জানিয়েছেন, মীর কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এলাকায় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।আমাদের মত অনেককেই চাঁদা দিতে হয়েছে।অনেকের চাঁদার টাকা না পেয়ে হাতুড়ি দিয়ে মেরে পা ভেঙ্গে দিয়েছে। ইউনুছ,মালেক,সিদ্দীক,শামসুল,মোর্শারফ,
গরু ব্যবসায়ি ইউসুফ,মবিন,কামরুল, সাদ্দাম ও আমীর হোসেনসহ অনেকেই লক্ষ লক্ষ চাঁদার টাকা দিতে হয়েছে।মীর কামরুজ্জামানের বাহিনীর হাতে এক কিশোরকে নির্যাতন হতে হয়েছে।তখন পত্র-পত্রিকায় বাহিনীর নিমর্ম নির্যাতন প্রকাশিত হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,মামলা রেকর্ড হয়েছে,ব্যাতাই ক্যাম্প ইনচার্জকে দায়িত্ব ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাতাই ক্যাম্প ইনচার্জ এস.আই হাবিবুল আলম জানান,আসামীদের ধরার জন্য তৎপর আছি।বর্তমানে আসামীরা পলাতক আছে,খোজ পাওয়া মাত্রই আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here