যশোর বাঘারপাড়ায় ইটভাটায় গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করল কারা? মামলার আসামী স্বামী গ্রেপ্তার

0
171

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউনিয়নে ইটভাটা থেকে রাজিয়া বেগম নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে খাজুরা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে যেয়ে এ লাশ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধু রাজিয়া (২৪) যশোর সদর উপজেলার পাগলাদাহ গ্রামের গ্রামের মোজাহার বিশ্বাসের ছেলে শহিদ বিশ্বাসের দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত রাজিয়া ও তার স্বামী শহীদ বিশ্বাস ওই ভাটাতেই শ্রমিকের কাজ করতেন। ওই ইটভাটার মধ্যেই তারা টিনের একটি ঘরে থাকতেন। মঙ্গলবার ভোরে শহীদ বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানায়। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন গৃহবধুর স্বামী যশোরে চুন্নু হত্যা মামলার প্রধান আসামী শহিদকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। নিহত গৃহবধুর স্বামী শহিদ জানান, গত সোমবার মনিরামপুর উপজেলার রসুলপুরে রাজিয়াকে নিয়ে তার বাবার বাড়ীতে ছিলেন। সন্ধ্যায় স্ত্রীকে নিয়ে কর্মস্থল ইটভাটায় ফেরেন। এদিন রাত ২টার দিকে কয়েকজন লোক ভাটার লোক পরিচয়ে তার ঘরের দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলা মাত্রই ঘরে ঢুকে তাকে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে সে দৌড়ে পাশের মাঠে পালিয়ে যায়। এর ২ ঘন্টার পর সে ভাটার নৈশপ্রহরী আবু তাহেরকে নিয়ে ঘরের দিকে গিয়ে দেখে তার স্ত্রী বিবস্ত্র নিথর দেহ পড়ে আছে। দ্রুত ভাটার মালিক মামুনকে জানালে সে পুলিশকে খবর দেয়। তিনি আরও জানান, ৫ বছর আগে যশোর সদরের বাগডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে পুতুলের সাথে তার প্রথম বিয়ে হয়। সে পক্ষে রাকিব নামে ৪ বছরের এক সন্তান রয়েছে তার। গত ৬ মাস আগে রাজিয়ার সাথে তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়। এরপর সে রাজিয়াকে নিয়ে মামুন ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। সম্প্রতি এই ভাটার পার্শ্ববর্তী তৈলকুপ গ্রামে একটি মেয়েলি ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কয়েকজন লোক এসে এ হামলা চালায় বলে জানান। দূর্বত্তরা ২ মাসের অন্ত:সত্তা স্ত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। ইট ভাটার নৈশপ্রহরী আবু তাহের বিশ্বাস জানান, সোমবার রাত ৪টার দিকে শহিদের সাথে গিয়ে দেখি তার স্ত্রীর বিবস্ত্র লাশ ঘরের সামনে পড়ে রয়েছে। তাৎক্ষণিক ভাটার মালিককে ফোন করে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে ভোর ৫টার দিকে খাজুরা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁঁছায়। খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই জুম্মান খান জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাটার পশ্চিমে ঘরের সামনে মাটিতে ওই গৃহবধুর লাশ পাওয়া যায়। নিহত গৃহবধুর স্বামী শহিদ জখম অবস্থায় লাশের পাশে অবস্থান করছিল। প্রাথমিকভাবে শহিদকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। লাশের সারা শরীরে ব্লেড দিয়ে কাটা ও ইটের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) জামাল আল নাসের, বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আল মামুনসহ জেলা গোয়েন্দা ও ডিএসবি’র কর্মকর্তারা। এ সময় বাঘারপাড়া থানার ওসি জানান, ওই গৃহবধুর স্বামী যশোরের চুন্নু হত্যা মামলার প্রধান আসামী ছিলেন। দীর্ঘদিন ভারতে পালিয়ে থাকার পর গত ১ বছর আগে দেশে ফিরে বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করছিল। এ হত্যার ঘটনায় সন্দেভাজন হিসেবে জিঞ্জাসাবাদের জন্য শহিদকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রস্ততি চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here