করোনা ভাইরাসের কারনে পশুহাট কেমন হবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় চৌগাছার খামারীরা

0
173

এম হাসান মাহমুদ চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে চরম বিপাকে পড়েছেন গরুর খামারীরা। উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় এক হাজার গরুর খামার আছে। এক বছর ধারে এ সব খামারে গরু পালন করছেন পবিত্র ঈদুল আযহায় বিক্রির জন্য। কিন্তু করোনার কারনে গরু বিক্রি করা নিয়ে সকল খামারী চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছাতে ছোট বড় মিলে সহ¯্রাধিক গরুর খামারে প্রায় ৬ হাজার পশু আছে। এ সব খামরে বছরের পুরা সময় জুড়ে কম বেশি গরু পালন করলেও পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে খামারিরা বেশি গরু পালন করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গরুর খামার তৈরী হয়েছে। প্রতিটি খামারে ২ থেকে ৫০টি পর্যন্ত গরু পালন করা হয়েছে। গরু পালন অত্যান্ত লাভজনক হওয়ায় এ জনপদের মানুষ দিন দিন গরুর খামারে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন বলে অনেকে মনে করছেন।
উপজেলার মশিউরনগর গ্রামে তিন সহোদর আলাউদ্দিন, শরিফুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম। সকলেই পেশায় চাকুরীজীবি। কিন্তু চাকুরীর পাশাপাশি তারা বাড়ির পাশে ৩৬ শতাংশ জমির উপর পরিকল্পিত ভাবে গরুর খামার গড়ে তুলেছেন। ২০১৯ সালে তাদের খামারের যাত্রা। এ পর্যন্ত দুই বার গরু বিক্রি করেছেন। তাদের খামারে বর্তমানে ৩৬ টি গরু আছে। যার এক একটির দাম ১ লাখ ৩০ হাজার হতে ২ লাখের উপরে। সামনে পবিত্র ঈদুল আযহা তাই শেষ সময়ে এসে গরুকে খাওয়ানো গোসলসহ সব ধরনের কাজ চলছে খুব যতœসহকারে। কিন্তু যখনই করোনার কথা মনে হচ্ছে তখনই যেন চরম হতাশা নেমে আসছে খামার মালিকদের মাঝে। গতকাল সরেজমিন গরু খামারে যেয়ে দেখা যায়, দায়িত্বরত দুই ব্যক্তি গরু পরিচর্জায় বেশ ব্যস্ত। তারা দুইজনই ওই খামারে বেতনভুক্ত কর্মচারী। খামার মালিক আলা উদ্দিন সব কিছু দেখা শুনা করছেন। এ সময় কথা হয় খামার মালিকের সাথে। তিনি জানান, এ বছর গরুর খামারে ব্যাপক ব্যয় হয়েছে। কারণ গো-খাদ্যের দাম আকাশ ছোয়া। ১ বস্তা ভুষির দাম ২ হাজার টাকা, অনরুপ ভাবে বিচেলী, খোল, পালিস, কুড়া এমনকি গরুর ওষুদের দামও বৃদ্ধি। এত ব্যয়ে গরু পালন করে যদি কাংখিত দামে গরু বিক্রি না করতে পারি তাহলে কষ্টের শেষ নেই। করোনা ভাইরাসের কারনে কুরবানী ঈদের হাট কেমন হবে এখন সেই চিন্তায় আছি। তিনি বলেন, খামারে ৩৬ টি গরু আছে, কুরবানী ঈদে সব গরু বিক্রি করতেই হবে। তা না হলে এই গরুতে লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি মনে করছেন। তিন ভাইয়ের মত উপজেলার অধিকাংশ গরুর খামারীরা মহা দুঃশ্চিন্তায় দিন পার করছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অন্য বছরের মত এ বছরও দেশের প্রতিটি স্থানে গরু হাট বসানোর দাবি করেছেন গরু খামারীরা। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রভাষ চন্দ্র গোস্বামী বলেন, গরু পালন লাভজনক হওয়ায় উপজেলাতে দিন দিন গরুর খামার বাড়ছে। করোনা ভাইরাসের কারনে গরু বিক্রি নিয়ে খামারীরা কিছুটা চিন্তায় আছেন। তবে আমি বিশ^াস করি শেষমেষ খামার মালিকরাা তাদের পশু সঠিক দামেই বিক্রি করতে পারবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here