চৌগাছার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ি আসলামের বস্তাবন্দি লাশ ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার

0
288

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী একাধিক মাদক মামলার আসামী বিয়ে পাগল আসলাম উদ্দিনের (৩৮) বস্তাবন্দি লাশ ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে সেখানকার পুলিশ। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন। শ^াসরোধে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দি করে বুড়িগঙ্গা নদে ফেলে দেয়া হয় বলে পরিবারের দাবি। বর্তমানে মরাদেহটি ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালের হিমঘরে আছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসলাম উদ্দিনের মা আনোয়ারা বেগম ও বড় ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ। সূত্র জানায়, চৌগাছা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কারিগরপাড়ার মৃত নান্নু মিয়ার ছেলে আসলাম উদ্দিন (৩৮)। তিন ভাইয়ের মধ্যে আসলাম উদ্দিন মেঝে। বড় ভাই আসাদ চৌগাছা বাজারে ও ছোট ভাই ইসলাম ঢাকা আব্দুল্লাহপুরে মাছের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করলেও আসলাম উদ্দিন ছিল ভিন্ন। সে চৌগাছা এলাকার একজন চিহৃত মাদক ব্যবসয়ী বলে পরিচিত। তার নামে চৌগাছা থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা আছে বলে জানা গেছে। আসলাম উদ্দিন মাদক ব্যবসার পাশাপাশি একাধিক বিয়েও করেছেন। মৃত্যুর পূর্বে সে ৫নং স্ত্রীর সাথে সংসার করতো। গতকাল সকালে নিহত আসলাম উদ্দিনের বাড়ি পৌর এলাকার কারিগরপাড়াতে গেলে দেখা যায় বৃদ্ধা মা আনোয়ারা বেগম চুপচাপ বসে কি যেন ভাবছেন। এ সময় কথা হয় বৃদ্ধা মায়ের সাথে। তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অনেক চেষ্টা করেও তাকে (আসলামকে) ভাল করা গেল না, শেষমেষ তাকে লাশ হতে হল। মা আনোয়ারা বেগম বলেন, সর্বশেষ বিয়ে করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে। স্ত্রী কনা খাতুন ও একমাত্র ছেলে শিহাবকে নিয়ে সে কেরানীগঞ্জ থাকত। মাঝে মধ্যে চৌগাছায় আসত কয়েক দিন থেকে আবার ফিরে যেত ঢাকাতে। গত জুন মাসের ৩০ তারিখে সে ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনরা স্থানীয় থানায় একটি জিডি করেন। নিখোঁজের ৫ দিন পর দক্ষিন কেরানীগঞ্জ হাসনাবাদ নৌ পুলিশ ফাঁড়ির অদুরে বুড়িগঙ্গা নদে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় পুলিশ। খবর পেয়ে আসলামের স্বজনরা সেখানে ছুটে যান এবং লাশ শনাক্ত করেন। আসলাম উদ্দিনের মা বলেন, চৌগাছায় খবর আসার পর তিনিসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা কেরানীগঞ্জ ছুটে যান। সেখানে তিন দিন থাকার পর ছেলের মরাদেহ দেখতে পান। আইনি নানা জটিলতা থাকার কারনে লাশ উদ্ধারের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনও পর্যন্ত পরিবার লাশ হাতে পাইনি। আসলামের বড় ভাই আসাদ ও ছোট ভাই ইসলাম বলেন, তারা এখনও ঢাকাতে অবস্থান করছেন, কেরানীগঞ্জ পুলিশ তাদের শরীরের রক্তসহ নানা ধরনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। ডিএনএ পরীক্ষা শেষ করে বেশ কিছু আইনি জটিলতা শেষ হওয়ার পর পুলিশ তাদের কাছে মরাদেহ হস্তান্তর করবে বলে জানিয়েছেন। নিহতের স্বজনরা জানান, আসলাম উদ্দিনের ছোট স্ত্রী কনা খাতুন ঢাকা কেরানীগঞ্জের মেয়ে। তার আগেও একটি বিয়ে ছিল। আসলামের সাথে বিয়ের পর সে পূর্বের স্বামীর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। আসলাম নিখোঁজ পরবর্তীতে লাশ উদ্ধার এ সব কিছুর পিছনে ছোট বউ কনার হাত আছে বলে তারা দাবি করেন। আসলামের মরদেহ উদ্ধারের পর হতে স্ত্রী ও শ^াশুড়ি আত্মগোপনে আছেন বলে ঢাকা থেকে মোবাইল ফোনে জানান আসলামের ছোাট ভাই ইসলাম। চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিফাত খান রাজিব বলেন, এ ধরনের একটি খবর বেশ আগে ভাগেই শুনেছি, তবে পরিবারের পক্ষ হতে কোন অভিযোগ করা হয়নি। হত্যার শিকার আসালাম উদ্দিন একজন চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী, তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা আছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here