অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছেনা আগুনে ঝলসে যাওয়া গৃহপরিচারিকা ছালেহা বেগমের

0
215

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে যাওয়ার পরেও অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছে না গৃহপরিচারিকা ছালেহা বেগম (৩০)। অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন ঝিকরগাছা মল্লিকপুর রেললাইনের ধারে বস্তিতে। জরুরি ভিত্তিতে তার চিকিৎসা না হলে বাঁচবে না বলে জানিয়েছে চিকিৎসরা। তার পুরো চিকিৎসার জন্য দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু গৃহপরিচারিকা ছালেহা বেগমের পে এ খরচ বহন করা অসম্ভব।
ছালেহা বেগম ঝিকরগাছা উপজেলার মল্লিকপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের স্ত্রী। তার কোন পৈত্রিক বসতবাড়ি নাই। রেললাইনের সরকারি খাসজমিতে গড়া উঠা বস্তিতেই তার বসবাস। স্বামী আর দুই সন্তান নিয়েই ছিলো তাদের ছোট্ট সংসার। কিন্তু ৪ বছর আগে স্বামী মনিরুল ইসলাম কাউকে না বলে বাড়ি থেকে চলে যান। এখনো বেঁচে আছে না মরে গেছে জানেন না পরিবারের কেউ। স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পরে দরিদ্রতার কষ্টঘাতে নি¤্রজিত ছালেহা বেগম স্বপ্ন দেখতে ১১ বছরের এক ছেলে ও ৯ বছরের মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করার। তাইতো পরের বাড়িতে ঝি-এর কাজ করে তিনি তার সংসার চালানোর পাশাপাশি স্বপ্ন পূরণ করতে চলছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে গিয়ে ভীষণভাবে তিগ্রস্ত হয় তার শরীর। জীবন-মরণ স্বন্নিক্ষনে ছালেহার দুই সন্তানের মানুষ করার স্বপ্নও ফিকে হয়ে যাবে তিনি যদি না বাঁচেন। ছালেহা বেগম বলেছেন, সে বাঁচতে চাই। তিনি মারা গেলে তার দুই অবুজ শিশু পথে পথে ঘুরে নষ্ট হয়ে যাবে। ছালেহা অসুস্থ্য হওয়ার পর থেকে তিনি কোনো কাজ করতে না পারায় তার দুই সন্তান অনাহারে কষ্টে দিন পার করছেন। এই রোগের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় চিকিৎসার খরচ মিলাতে পারছে না পরিবার। যার কারণে তিনি বাঁচার জন্য রাষ্ট্রের বিত্তবান ও প্রবাসীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ছালেহা বেগমের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ছালেহা পেশায় ছিলেন একজন শ্রমিক আবার মাঝে মাঝে মানুষের বাড়ীতে ঝি-এর কাজ করতেন। দুই সন্তানকেই নিয়েই তার সুখের সংসার ছিলো। কিন্তু গত ৭ আগষ্ট শুক্রবার দুপুরে ঝি-এর কাজ সেরে প্রতিবেশীর কাছ থেকে চেয়ে আনা রাইচ কুকারে বাড়িতে বুটের ডাল সিদ্ধ করছিলেন। এসময় হঠাৎ রাইচ কুকারটি বিস্ফোরন হয়ে তার শরীরে আগুন ধরে যায়। ভাগ্রক্রমে তার দুই সন্তান বেঁচে গেলেও সে এখন জীবন মৃত্যুর সন্নিক্ষণে। স্বজনেরা প্রথমে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসার অবনতি দেখে তাৎণিকভাবে তাকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু বার্ন ইউনিটে রেফার্ড করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু সেখানে চিকিৎসার নেওয়ার অর্থ অভাবে নিয়ে যেতে পারেনি তার পরিবার। অর্থের অভাবে কোন হাসপাতাল কিনিকে চিকিৎসা না নেওয়ার কারণেই সেই মল্লিকপুর রেললাইনের বস্তিতেই ঝুবড়িতেই বিচানায় কাটরাচ্ছেন সংগ্রামী ও দুই সন্তানের জননী ছালেহা বেগম। তিনি আরো বলেন, তার শরীরের ৬০ ভাগই পুড়ে গেছে। এখন পোড়ার ত শুকাতে শুরু করলেও তার তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফাক হয়ে আছে। বর্তমানে তিনি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। খুলনা মেডিকেল কলেজের বার্ন বিভাগের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুস্থ্য ও স্বাভাবিক হতে ছালেহার স্কিনসার্জারি করতে হবে। এজন্যে প্রায় দেড় থেকে দু’লাধিক টাকার প্রয়োজন। ছালেহার ভাই জাহাঙ্গীর আলম পেশায় মাছ বিক্রেতা হওয়ার তাই বোনেরও তিনি চিকিৎসা করাতে পারছেন না। তার পরেও তার বোনের চিকিৎসার জন্য তার অর্ধলক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান। এরপরও তিনি সর্বস্ব শেষ করে সাধ্যমতে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন তার আর কোনো সামর্থ নেই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। খাওয়া দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছালেহা বেগম ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেনের আকুল আবেদন, সে স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে চায়। সমাজের বৃত্তশালীরা যেন তার দুটি অবুজ শিশুর কথা ভেবে হলেও তাকে (ছালেহার) আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ছালেহা বেগমের চিকিৎসার আর্থিক সহায়তা পাঠাতে ও যোগযোগ বিকাশ (পার্সোনাল) নাম্বার : ০১৯৩৪-৩৪৪২৪০।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here