মামলার নির্দেশ থাকলেও হয়নি মামলা….. শার্শায় সরকারী কাছারি বাড়ির জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড 

0
62
শার্শা প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার থানার পিছনে সরকারি ঐতিহ্য কাছারি-বাড়ির ৩৫ শতক জমি বর্তমান বাজারের অনুমানিক মূল্য ১৫০০০০০০(দেড় কোটি টাকা) এখনো উদ্ধার হয়নি।
যে জমির ভিতরে রয়েছে মানুষের চলাচলের জন্য সুবিশাল রাস্তা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে মামলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও এখনো মামলা হয়নি।
জিপি দপ্তর থেকে জানায়, আইনজীবি কাজী বাহাউদদীনের কাছে  মামলার সমস্ত কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে  কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর হয়নি।
হাল রেকর্ড (আর,এস) প্রকাশনার পর মামলা মোকাদ্দমা আর অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে না বলে এলাকায় প্রচার চালিয়ে একটি চক্র সরকারি  সম্পত্তি উদ্ধারে যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন তাদেরকে মাঝে মাঝে শাসাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে থানার পিছন দিয়ে হাজারো মানুষের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন ব্যবহার নিয়ে ভবিষ্যতে বিপাকে পড়বে ও দিনে দিনে দখলকারীদের সাথে সংঘাত হবে বলে মনে করছে এলাকার সচেতন মহল।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরও মামলা না হওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারি কাছারি-বাড়ীর জমি নিয়ে ১৭.০২.২০২০ তারিখে দূনীতি দমন কমিশন থেকে ডিসি (যশোর) বরাবর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি দেন।
তদন্ত উঠে আসে, নালিশী জমি ৭২ নং শার্শা মৌজার এস,এ ১নং খতিয়ানের এস,এ ১২৫৫ নং দাগের ৩৫.০০শতক জমি পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশ পক্ষে কালেক্টর, যশোর এর নামীয় কাছারি-বাড়ি রাস্তার জমি।
কাছারি-বাড়ির জমি ধানী শ্রেণী দেখিয়ে ২২/Xll/৮০-৮১ নং এ বন্দোবাস্ত নেয়। পরে ২১.১১.৮১ তাং ১৫(পনের) বছর মেয়াদি ৬৪নং কবুলিয়ত সম্পাদন করে দেওয়া হয় (যার স্মারক নং (০৩/০৩/২০ তারিখের ০৫.৫৩৫.০১৮.০০.০০০.০০৩.২০২০.৪১৭ স্মরক তদন্ত পত্রে)।
পরে কিছু অসৎ ভূমি কর্মকর্তার যোগসাজে জমিটি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেন প্রতারক চক্র। এস,এ ১নং খতিয়ানের ১২৫৫নং দাগের ৩৫ শতক জমির মধ্যে আর এস রেকর্ডে আর, এস ২৩৩৬নং দাগে ৩২.৬৩ শতক জমি আর এস ৫৫৩নং খতিয়ানে রেকর্ড করে ১)মো:জসিম উদ্দিন ২)মো:কবির উদ্দিন ৩) মো:মনির হোসেন ৪) ইমাম হোসেন সকলের পিতা-মৃত: ফজলুর রহমান, শার্শা, যশোরে বসবাস করছেন।
এবিষয়ে, শার্শা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসনা সারমিন মিথি বলেন, জমিটি উদ্ধারে বুরুজবাগান ইউনিয়ন ভূমি সহকারীকে এল,এস,টি মামলার নির্দেশ দিয়েছি।
ইউনিয়ন ভূমি সহকারী নজরুল ইসলাম জানান, এল,এস,টি মামলার কাগজপত্র ইতিমধ্যে যশোরে পাঠিয়েছি এখনো কোন সর্বশেষ ম্যাসেজ আসেনি৷
সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানায়, ১৯৮১ সাল থেকে সরকারি কাছারি-বাড়ির জমি, রাস্তা ও ড্রেন তাদের দখলে রেখেছে।
এলাকায় বসবাসকারী হাজারো লোকের ব্যবহারের রাস্তা ও ড্রেন ব্যক্তি মালিকানায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে। হাল রেকর্ড প্রকাশনার পর তারা রাস্তা ও ড্রেনকে কেন্দ্র  করে এ পর্যন্ত হিন্দু/মুসলমান মিলে অনেক লোকজনকে মারধর করেছে চক্রটি।
এখনো মাঝে-মাঝে হুমকি দিয়ে থাকে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাননা।
সরকারী এই জমি এবং ঐতিহ্যবাহি  কাছারিবাড়ির জায়গা ও নিশানা যাতে ব্যক্তি মালিকানায় বেদখল না হয়ে যায় সে ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক ও ভূমি মন্ত্রালয়ের  হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।
এই জমির মামলার বিষয়ে চলতি বছরের গত ১০/১১/২০ তারিখে আইনজীবী জিপি কাজী বাহাউদদীন ইকবলের সাথে কথা বললে জানান, শার্শা সরকারি ঐতিহ্য কাছারি-বাড়ি জমির মামলার নির্দেশ পেয়েছি।
১৫ই নভেম্বর-২০ আদালতে মামলা রেকর্ড হবে।
পরে ১৭ই নভেম্বর-২০ ফোন দিলে তিনি বলেন, আপনি ২৪ নভেম্বর ফোন দিলে মামলার নাম্বার বলতে পারবো। পরে ২৫ নভেম্বর ফোন দিলে বলে এখনো মামলা হয়নি।
তবে কবে মামলা হবে বা মামলা হবে কিনা?? জানতে চাইলে বলেন ৬ -৭ ডিসেম্বরে ফোন দিয়েন। ৬ই ডিসেম্বর ফোন ধরে নাই ৭ই ডিসেম্বর জানান, এখনো মামলা হয়নি। তবে কতদিনে মামলা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তার অফিস সহকারী হাসানের কাছে ফোন দিতে বলেন।
সর্বশেষ এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়নের কিছু অসৎ ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে এটা সম্ভব হয়েছে ৷ সরকারি ঐতিহ্য কাছারি-বাড়ী জমি দখলকারীরা তাদের নিজেদের নামে করা জমি টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার ও দৌড়ঝাপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here