চুকনগরে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

0
67

চুকনগর প্রতিনিধি ॥ চুকনগরে নূরানিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) এবং ২জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অসত্য সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মাদরাসা প্রাঙ্গনে এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মোঃ রহমতুল্ল্যাহ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন যাবৎ অত্র এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে এবং সুনামের সাথে অত্র মাদরাসাটি যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানে ৪টি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের পায়ঁতারা চালাচ্ছে। তার অংশ হিসেবে গত ১৩/১২/২০২০ইং তারিখে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে আমাকেসহ মাদরাসার শিক্ষক জহুরুল ইসলাম ও আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে বিলাল হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন এবং এঅভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৪/১২/২০২০ইং তারিখ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিতও হয়। তবে তিনি জানান, বিষয় গুলোকে তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তার পুরোটাই ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তিনি বলেন, বলা হয়েছে আমি ০১/০১/১৯৮৯ তারিখে ভরত ভায়না এ.বি.জি.কে ফাজিল মাদরাসায় জুনিয়র ও সহকারী মৌলভী পদে যোগদান করি। কিন্তু তা সঠিক নয়। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানে দাখিল (ক্বারী) পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হই। যার ইনডেক্স নং ৩৫৭৭২০। এছাড়া ১৯৯২ সালে নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে কামিল পরীক্ষা দেয়ার বিষয়টিও সঠিক নয়। আমি বহিরাগত পরীক্ষার্থী হিসেবে ২য় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হই। রেজিঃ নং- ব-১৩২১ ও রোলঃ ব-৬২৬১। এরপর ০১/১১/১৯৯৪ইং তারিখে আমি সম্পূর্ণ বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরবি প্রভাষক পদে নূরানিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসায় যোগদান করি। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠান ফাযিল স্তরে উন্নীত হলে আমি উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হই। এ সময় রেজুলেশনে উল্লেখ থাকে যে, উপাধ্যক্ষ পদে বেতন না হওয়া পর্যন্ত আমি আরবি প্রভাষকের বেতন উত্তোলন করতে পারব। এক্ষেত্রে পত্রিকার সম্পাদক ও অধ্যক্ষ বা অন্য কারও সাথে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন হয়নি। এরপর গত ৩১/০১/২০২০ তারিখে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু সাঈদ সাহেব অবসর গ্রহণের পূর্বে ২৫/০১/২০২০ তারিখ মাদরাসা গভর্নিং বডির সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে ০১/০২/২০২০ ইং তারিখ থেকে জৈষ্ঠতার ভিত্তিতে আমি অত্র প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি যা অদ্যাবধি চলমান। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি মাদরাসায় মোট ৪টি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে আর্থিক লেনদেনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে তাও ভিত্তিহীন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৪টি পদের মধ্যে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদটি সরকারী ভাবে বিলুপ্ত হওয়া এবং জনবল কাঠামোর জটিলতার কারণে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এ কারনে উক্ত দুটি পদে নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাকি দুটি পদ হিসাব সহকারী ও আয়া পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। তবে যেহেতু এখনও নিয়োগ হয়নি। সেহেতু আর্থিক লেনদেনের প্রশ্নই উঠে না। এছাড়া রেজুলেশনে সভাপতির স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টিও সঠিক নয়। গভর্নিং বডির প্রতিটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কার্যবিবরণী পড়ে সভাপতি মহোদয় স্বাক্ষর করে থাকেন।
মূলত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে অভিযোগকারী বিলাল হোসেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তার নিয়োগ চুড়ান্ত করার জন্য সুপারিশ করেন। পরে উক্ত পদে নিয়োগ স্থগিত ঘোষিত হওয়ায় তিনি বাকি দুটি পদের নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান। কিন্তু আমিসহ গভর্নিং বডির অন্যান্য সদস্যরা তার এই প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় তিনি এইসহ মনগড়া অথ্য তুলে ধরে ওই দুটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া পন্ড করা এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করার মানষে অভিযোগ করা এবং সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। এই হীন চক্রান্ত এবং মিথ্যা তথ্য প্রচার করায় আমরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ষড়যস্ত্রকারীদের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য উদ্ধোর্তন কর্তৃপক্ষসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগীতা কামনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন গভর্নিং বডির সহ সভাপতি এম এ সালাম, শিক্ষক প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম মোড়ল, মিজানুর রহমান, রুহুল আমীনসহ অত্র মাদরাসার সকল শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here