পৌর নির্বাচন ঃ মাগুরা, শৈলকুপা ও মোংলায় নৌকার জয়

0
392

যশোর ডেস্ক: খুলনা বিভাগের ৩ পৌর সভার নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। মাগুরা পৌরসভায় টানা দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন খুরশীদ হায়দার টুটুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির ইশবাল আখতার খান কাপুরকে পরাজিত করে বিজয় নিশ্চিত করেন। নির্বাচনে খুরশীদ হায়দার টুটুৃল ৩৯ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আখতার খান কাফুর পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৩ ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী আশরাফুল আজম জয়ী হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট নয় হাজার ৮৪৯।
ঝিন্ইাদহের শৈলকুপা পৌরসভায় আওয়ামীলীগের আশরাফুল আজম টানা তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী তৈয়বুর রহমান খান বাবু জগ প্রতীকে পেয়েছেন সাত হাজার ২৬৫ ভোট।
বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনে আ’লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান ১১ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি প্রার্থীর্ মোঃ জুলফিকার আলী পেয়েছেন ৫৮২ ভোট ।
মাগুরা পৌরসভাঃ
আমাদের মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী খুরশীদ হায়দার টুটুৃল ৩৯ হাজার ৪৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী ইকবাল আখতার খান কাফুর পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৩ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মশিউর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৩৪৫ ভোট। ইভিএম পদ্ধতিতে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে খুরশীদ হায়দার টুটুল দ্বিতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মাগুরা পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬ জন। কেন্দ্রের সংখ্যা ছিল ৩৫টি। নির্বাচিত কাউন্সিলররা হচ্ছেন- ১ নম্বর আসিফ আল আসাদ মেলিন, ২ নম্বর রেজাউল ইসলাম, ৩ নম্বর লিয়াকত হোসেন, ৪ নম্বর মকবুল হাসান মাকুল, ৫ নম্বর জাহিদুল ইসলাম, ৬ নম্বর আব্দুল কাদের গণি মোহন, ৭ নম্বর সাকিবুল হাসান তুহিন, ৮ নম্বর আশুতোষ সাহা, ৯ নম্বর আবু রেজা নান্টু। সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলররা হলেন ১,২,৩, সবেতারা বেগম, ৪,৫,৬ সুরাইয়া আক্তার ও ৭,৮,৯ মনিরা বেগম শাবানা নির্বাচিত হয়েছেন।
মোট ভোট সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬, তারমধ্যে ৪৮৯৭৮ জন তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন। যা শতকরা ৬৩ শতাংশ। যার মধ্যে ৯৩টি ভোট বাতিল হয়েছে।
শৈলকুপা পৌরসভা ঃ
আমাদের শৈলকুপা প্রতিনিধি নোমান পারভেজ জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও স্বতন্ত্র (আ’লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থীর গাড়ি ভাংচুরের মধ্য দিয়ে শনিবার নির্বাচন শেষ হয়েছে। তবে বড় ধরণের কোন অপ্রীকর ঘটনা ঘটেনি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে নারী ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেবার জন্য অপো করে। দুপুর পর পুরুষ ভোটাররা ব্যাপক হারে ভোট দিতে দেখা যায়। দুপুর ১২টার মধ্যে ৬৩% ভোট পোল হওয়ার কথা জানান কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসররা। সকালে শৈলকুপা পৌর এলাকার শাহী মসজিদ এলাকার ভোট কেন্দ্রে নৌকার সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ঢুকতে বাধা দেয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন পরিবেশ ফিরিয়ে আনে। সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে পৌরসভার খুলনা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আযম ও সতন্ত্র জগ মার্কা প্রতিকের প্রার্থী তৈয়ব খার সমর্থকদের মাঝে প্রথমে উত্তেজনা ও পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় আহত হয় দুই জন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। দুপুর ১২ টার দিকে ঝাউদিয়া ভোট কেন্দ্রে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তৈয়বুর রহমানের গাড়ী ভাংচুর করে প্রতিপরা। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈয়বুর রহমান খান অভিযোগ করেন, বেলা ১২ টার দিকে ঝাউদিয়া ভোট কেন্দ্রে গেলে নেকৈা প্রতিকের প্রার্থীর লোকজন গাড়ীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। শৈলকুপা উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার জুয়েল আহমেদ জানান, নির্বাচনে ১টি চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে ৪জন, ৯জন সাধারণ কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ৩৬ জন, ও ৩ জন সংরতি মহিলা কাউন্সিলর পদের বিপরীতে ১২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেন। শৈলকুপা পৌরসভায় মোট ভোটার ছিল ২৮ হাজার ৬৩২। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪ হাজার ১১৩ ও মহিলা ভোটার ১৪ হাজার ৫১৯ জন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিভিন্ন কেন্দ্রে ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শহরে দুই প্লাটুন বিজিবি, ৪শ’ পুলিশ সদস্য এবং ১৩৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করার কারণে বড় ধরণের কোন ঘটনা ঘটেনি। নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপুর্ন হওয়ায় জেলা প্রশাসনের প থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। আশরাফুল আজম টানা চারবারের জন্য শৈলকূপা পৌর সভার মেয়র নির্বাচিত হলেন।
মোংলা পৌরসভা ঃ
আমাদের মোংলা প্রতিনিধি জানান, মোংলা পোর্ট পৌরসভার নির্বাচনে আ’লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান ১১ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোঃ জুলফিকার আলী পেয়েছেন ৫৮২ ভোট। মোংলা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান। এ পৌরসভায় প্রথমবারেরমত ইভিএমে নির্বাচন হওয়া প্রাপ্ত ভোটের ৩৯ শতাংশ ভোটাররা তাদের ভোট প্রয়োগ করতে পেরেছে বলে জানায় রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার ১৬ জানুয়ারী ভোট গ্রহন শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। সকালে ভোট শুরুর দুই ঘন্টার মাথায় কেন্দ্র দখল, জোর করে ভোট প্রদানসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন বিএনপি মেয়র প্রার্থী মোঃ জুলফিকার আলী। একই সাথে বিএনপির সমর্থিত সংরক্ষিতসহ ১২ কাউন্সিলর প্রার্থীও ভোট বর্জনের ঘোষনা দেন। মোংলা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন ভোট সুষ্ঠ হয়েছে দাবি করে বলেন, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করেন। ভোট শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে নৌকার প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করা শেখ আব্দুর রহমান ১১ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন এ নির্বাচনে অংশ নেয়া জুলফিকার আলী পেয়েছে ৫৮২ ভোট। এছাড়া সাধারণ আসনে কাউন্সিলর পদে কবির হোসেন, শরিফুল ইসলাম, বাহাদুর মিয়া, শফিকুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, জি এম আল আমিন, হুমায়ূন হামিদ নাসির, সরোয়ার হোসেন ও মজনু গাজী এবং সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর পদে জাহানারা চানু, জোহরা বেগম ও শিউলি আকন এবারের পৌর নির্বাচনে বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন। মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে ১২টি কেন্দ্রে ১৩৮টি ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, বিএনপির মোঃ জুলফিকার আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোকছেদুর রহমান গামা মেয়র পদে এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৫ জন কাউন্সিলর ও ৩টি সংরতি ওয়ার্ডে ১২ জন মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিা করেছেন। এবারের নির্বাচনে পৌরসভায় মোট ৩১ হাজার ৫২৮ জন ভোটার তাদের ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৬৮১ জন পুরুষ এবং ১৪ হাজার ৮৪৭ জন নারী ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মোট ১২ হাজার ১৭০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রোয়োগ করেছেন। সুষ্ঠুভাবে নির্বান অনুষ্ঠানের জন্য মোংলা পোর্ট পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রের জন্য ১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ২২০ জন পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, আনাসার ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ১২টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের জন্য ১২ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ৯২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেছেন আর শনিবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট চলছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here