মুজিব বর্ষের উপহার – ছিন্নমুল মানুষ পাবে বসত ঘর- এই শ্লোগান আজ আর স্বপ্ন নয়; বাস্তব যশোরের ৬৬৬ পরিবারের হাতে আগামীকাল হস্তান্তর করা হবে জমি ও বসত ঘরের দলিল

0
504

স্টাফ রিপোর্টার : মুজিব বর্ষের উপহার – ছিন্নমুল মানুষ পাবে বসত ঘর – এই শ্লোগান আজ আর স্বপ্ন নয়; বাস্তব। মুজিব বর্ষেও উপহার হিসেবে এবার যশোরের ৬৬৬ পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে স্থায়ী ঠিকানা। তাদেও প্রত্যেকের নামে ২ শতক জমিসহ তার ওপর একটি বসত বাড়ি নির্মান কওে দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে এসব ঘরের নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চলছে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা। আগামীকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশ ব্যাপী মুজিব বর্ষেও উপহার স্বরুপ গৃহহীন ছিন্নমুল পরিবারের জন্য নির্মিত জমিসহ ঘর হস্তানএতর কর্মসূচী উদ্বোধন করবেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভবন থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একযোগে ৬৪ জেলায় এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করবেন বলে জানান যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। এ উপলক্ষে যশোর সদও উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভাচুয়াল সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ও সুফলভোগীদেও কারোর কারোর সাথে কথাও বলতে পারেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।
ক’দিন আগেও যাদের নিজের জমি জিরেত বলতে কিছু ছিলো না। অন্যের দয়ায় উপর নির্ভর করে চলতে হতো। জরাজীর্ণে কোনোরকম মাথা গোঁজার ভাগ্য যাদের নিয়তি হয়ে গিয়েছিলো তারাই এখন দু’শতক জমির দলিলসহ পাকা বাড়ির মালিক। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রায়ণ প্রকল্প নামের যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বদলে গেছে তাদের জীবনের দিনলিপি। এখন শুধু একটি ঘোষণার অপেক্ষার মাত্র। শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী গণভবণ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৬৪ জেলার ৬৯ হাজার নয়শ’ চারটি পরিবারের মাঝে জমি ও ঘর হস্তান্তর কাজের উদ্বোধন করবেন। ৬৯ হাজার নয়শ’ চারটি ঘরের মধ্যে যশোর জেলায় রয়েছে ছয়শ’৬৬টি। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধনের পর যশোরের ঘরগুলি সুবিধাভোগীদের হাতে তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার বেলা বারোটায় যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আহমেদ জিয়াউর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুল হক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান।
“মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষনার পর শুরু হয় ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল, অসহায় দরিদ্র পরিবারের জন্য ৬৯ হাজার নয়শ’ চারটি পাকা বাড়ির নির্মাণ কাজ। মুজিব শতবর্ষে দলিলসহ দুই শতক জায়গার উপর সুদৃশ্য রঙিন টিনের ছাউনিযুক্ত দুই কক্ষ বিশিষ্ট শয়ন কক্ষ, রান্নাঘর, টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেসসহ প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে সারাদেশে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। এ প্রকল্পের আওতায় যশোরের ৮ উপজেলায় তৈরী হচ্ছে এক হাজার ৭৩টি পাকা বাড়ি । এর মধ্যে ২৩ জানুয়ারি উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রস্তুত ছয়শ’৬৬টি পাকাবাড়ি।
যশোরের আটটি উপজেলায় আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল মানুষের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে এক হাজার ৭৩টি ঘর। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে কেশবপুর উপজেলায় একশ’৫টির মধ্যে ১২টি, চৌগাছায় ২৫টির মধ্যে ২৫টি, যশোর সদর উপজেলায় চারশ’৫৫টির মধ্যে দুইশ’২৯০টি, শার্শায় একশ’১৫টির মধ্যে ৫০টি, অভয়নগরে ৫৭টির মধ্যে ৫৭টি, বাঘারপাড়ায় ৩৫টির মধ্যে ১৪টি, ঝিকরগাছায় ১৯টির মধ্যে ১৯টি এবং মণিরামপুর উপজেলায় দুইশ’৬২টির মধ্যে একশ’ ৯৯টি পাকাবাড়ি প্রস্তুত করা হয়েছে। যশোরের ছয়শ’৬৬টি বাড়ি সারাদেশের সাথে একযোগে উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছেন একহাজার ৭৩ টি ঘরের মধ্যে বাকি থাকা চারশ’৭টি ঘরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে চারশ’৭টি পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হবে।
“মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশে একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষনার পর গত বছরের ২৬ নভেম্বর থেকে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে গঠিত হয় ৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। উপজেলা পর্যায়ে মিটিংয়ের পর প্রতিটি উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিংসহ চালানো হয় প্রচারণা । ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষ আবেদন করেন ঘর পাওয়ার জন্য । এ কাজে তাদের সহায়তা করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস। আবেদন প্রাপ্তির পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান যাছাই বাছাই শেষে প্রদান করেন ভূমিহীন সনদ।
ভূমিহীন সনদ পাওয়ার পর এই আবেদনগুলি জমা পড়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখান থেকে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে ইউনিয়ন অনুযায়ী পাঠানো হয় স্ব স্ব উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) এর কার্যালয়ে। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা হয়ে উপকারভোগীদের তথ্য আর প্রকল্প প্রস্তবনা চলে আসে জেলা কমিটির কাছে। জেলা প্রশাসককে সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালককে সদস্যসচিব করে গঠিত জেলা কমিটির অনুমোদনের পর শুরু হয় মাঠ পর্যায়ে ঘর নির্মাণের কাজ। উপজেলা সহকারী কমিশনার( ভূমি) এর কর্মতৎপরতায় শুরু হয় সরকারি জায়গা অধিগ্রহণ।
জায়গা নির্ধারণের পর প্রকল্পের লে আউট প্লান অনুযায়ী (ছবি) শুরু হয় ঘর নির্মাণের কাজ। খোলা চোখে ঘর তৈরী মনে হলেও আসলে তা ছিলো স্বপ্ন পূরণের এক দূর্বার অভিযাত্রা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়না ছিলো শুরু থেকেই। যশোরের আটটি উপজেলায় চলতে থাকে এই কর্মযজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্বাবধায়নে নির্মিত পাকা বাড়ির কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে ৩ জানুয়ারি যশোর আসেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প -২ এর পরিচালক মুহম্মদ শাহীন ইমরান। যশোরের কর্মকান্ডে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে জেলঅ প্রশাসক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, প্রতিটি পরিবারের গৃহ নির্মাণের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। এই স্বল্প বরাদ্ধে প্রতিটি পরিবারের জন্য মানসম্মত ২টি শোবার ঘর, একটি রান্না ঘর, একটি সেমি পাকা টয়লেটসহ বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। এতো স্বল্প বরাদ্ধের কারনে কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দিয়ে সরাসরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পিআইও এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওইউপি সচিবের তত্বাবধানে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here