মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া বাজারের একটি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড ও সাইনবোর্ড টানিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

0
163

স্টাফ রিপোর্টার: মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া বাজারের একটি জমি জালিয়াতির মাধ্যমে রেকর্ড ও সাইন বোর্ড টানিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের ঘর জামাই অবসরপ্রাপ্ত নায়েব আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা এ চাঁদাবাজি করেছেন। স্থানীয় ভাবে মীমাংসায় ব্যর্থ হয়ে জমির মালিক ঢাকুরিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা কবির আদালতে মামলা করেছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও তার লোকজন খুন জখমের হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি থানায় একটি অভিযোগও দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, মামলার আসামি আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিন পরোসম্পদ লোভী ও চাঁদাবাজ লোক। মামলার বাদী গোলাম মোস্তফা কবির একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। কবির ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকুরিয়া মৌজার বাজারের ১৮০২, ১৮০৩ ও ১৮০৫ দাগের একর এক শতক জমি কিনে ভোগদলক করে আসছেন। আসামি আফিল উদ্দিন ও তার ছেলে গিয়াস উদ্দিন এ জমি থেকে কবিরকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করে আসাছিলেন। সম্প্রতি কবির তার বাড়ি ও কেনা জমিতে প্রাচির দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এরমধ্যে আফিল উদ্দিন এ জমির মধ্যে ৪৮ শতক জমি তার বলে একটি সাইবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। বিষয়টি জানতে পেরে কবির থানায় একটি অভিযোগে দেন। সালিসে আফিল উদ্দিন জমির ছাড়তে ১৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে সালিস না মেনে চলে আসেন। এরপর কবির তাকে চাঁদার ৩ লাখ টাকা দেন। চাঁদার বাকি টাকা না দেয়ায় আফিল উদ্দিন ও তার ছেলে এ জমির ছাড়বেন বলে জানিয়ে দেন। প্রাচীর তৈরীর জন্য রাখা প্রায় ৫০ হাজার টাকার সরঞ্জম নষ্ট করে ফেলে আফিল ও তার লোকজন। অবশেষে গোলাম মোস্তফা কবির বাদী হয়ে আদালতে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা করেছেন।
চাঁদাবাজি মামলা করায় আফিল উদ্দিন ও তার বাড়ির লোকনজন কবিরের উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন। ২২ জনুয়ারি কবির বাড়ি থেকে বের হলে আসামিরা তার উপর চড়াও হয়। এ সময় চাঁদার টাকা দাবি করে হুমকি দিতে থাকেন। চিৎকার চেচামেচিতে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ব্যাপারে গোলাম মোস্তফা কবির ওই দিন মনিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে আফিল উদ্দিন বিশ্বাস ও তার ছেলে সাকিব এবং গিয়াস উদ্দিন ও তার স্ত্রী নাজমুন্নাহার।
গোলাম মোস্তফা কবির জানিয়েছেন, আফিল উদ্দিন বিশ্বাস তার প্রতিবেশী। তিনি অবসরপ্রাপ্ত নায়েব ও এলাকার ঘরজামাই। ২০০৮ সালে ওই জমি কেনার সময় দলিলে তিনি সনাক্তকারী ছিলেন। এ জমি কেনার পর থেকে ভোগদখল ও ব্যাংকে মডগেজ দিয়ে লোন নিয়েছি। সম্প্রতি ব্যাংকের লোনের টাকা পরিশোদের জন্যে এ জমির মধ্যে কিছু বিক্রি ও বাড়ির প্রাচির নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহন করি। এমধ্যে কেনার জমির দুইটি দাগ উল্লেখ করে ৪৮ শতক জমির মালিক আফিল উদ্দিন বিশ্বাস বলে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেন। বাধা দেয়ায় আফিল উদ্দিন তার ছেলেরা মোটা অংকের চাঁদা ও খুন জখমের হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here