শার্শায় ২৪ দিন বয়সের চুরি যাওয়া নবজাতক কে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো যশোর পিবিআই

0
134

স্টাফ রিপোর্টার: পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বিপিএম (বার), পিপিএম, ডিআইজি, বাংলাদেশ পুলিশ এর সঠিক তত্ত্ববধান ও দিক নির্দেশনায়, পিবিআই যশোর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন এর নেতৃত্ত্বে পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ আব্দুস সালাম ও এসআই(নিঃ) মোঃ জিয়াউর রহমান সহ যশোর জেলার চৌকস দল গত ২৩-০১-২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ২১.০০ টার সময় অভিযুক্ত ১। মোসাঃ সালমা খাতুন(২৩), স্বামী-মিলন, পিতা-মৃত নজরুল ইসলাম ২। মোঃ লুৎফর গাজী(৫৫), পিতা-বাসের গাজী, উভয় সাং-উত্তর সোনাবাড়ীয়া, থানা-কলারোয়া, জেলা-সাতক্ষীরাদ্বয়কে তাদের নিজ বাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের হেফাজত হতে নবজাতক পুত্র তাহসিন(২৪ দিন) কে উদ্ধার করা হয়।
যশোর জেলার শার্শা থানার মামলা নং-২৭, তারিখ-২০/০১/২০২১ খ্রিঃ, ধারা-মানব পাচার প্রতিরোধ দমন আইন, ২০১২ এর ১০ মামলাটি পিবিআই, যশোর জেলা স্ব-উদ্দ্যোগে গ্রহণ করে মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক(নিঃ)/ মোঃ আব্দুস সালাম এর উপর অর্পণ করেন। মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে তিনি সঙ্গীয় এসআই(নিঃ) মোঃ জিয়াউর রহমান ও ফোর্সসহ গত ২৩-০১-২০২১ খ্রিঃ রাত অনুমান ২১.০০ টার সময় অভিযুক্ত মোসাঃ সালমা খাতুন(২৩) ও তার শ^শুর মোঃ লুৎফর গাজী(৫৫) দ্বয়কে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানাধীন সোনাবাড়ীয়া গ্রাম হতে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকালে তাদের হেফাজত হতে নবজাতক পুত্র তাহসিন(২৪ দিন) কে উদ্ধারপূর্বক হেফাজতে গ্রহণ করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইং ২৮/১২/২০২০ তারিখ অত্র মামলার বাদী আশরাফুল ইসলাম এর স্ত্রী মোছাঃ জান্নাতুল এর গয়ড়া বাজারে ‘‘রমজান ক্লিনিকে’’ সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান তাহসিন (২৪ দিন) জন্ম গ্রহণ করে। পুত্র সন্তান নিয়ে ক্লিনিক থেকে বাড়ীতে আনলে ইং ০১/০১/২০২১ তারিখ অভিযুক্ত মোসাঃ সালমা খাতুন বোরকা পরিহিত অবস্থায় বাদীর বাড়িতে এসে বলে যে, ‘‘যাদের নতুন বাচ্চা হয়েছে তাদেরকে সরকার থেকে তিন কিস্তিতে ৩০,০০০/-(ত্রিশ হাজার) টাকা অনুদান প্রদান করবে’’। এরপর ইং ২০/০১/২০২১ তারিখ সকাল অনুমান ০৯.০০ ঘটিকার সময় অভিযুক্ত সালাম খাতুন বাদীর বসত বাড়ীতে এসে তার সদ্য ভুমিষ্ট নবজাতক পুত্র সন্তানের খোঁজ করে। একপর্যায়ে বাদীর বৃদ্ধ পিতা জহুর আলী, স্ত্রী মোছাঃ জান্নাতুল ও দুগ্ধ নবজাতক পুত্র তাহসিন(২৪ দিন)কে নিয়ে অনুদানের টাকা দেওয়ার জন্য বাগআাঁচড়া অফিসের কথা বলে নিয়ে আসে। বাগআঁচড়া পৌছিয়ে অভিযুক্ত আসমা খাতুন সকালের নাস্তা করার অজুহাত দেখিয়ে বাদীর স্ত্রী, ছেলে ও পিতাকে “রিফাত হোটেলে” নিয়ে যায়। বাদীর বৃদ্ধ পিতা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য হোটেল থেকে বাহিরে যায়। বাদীর স্ত্রী (জান্নাতুল) নাস্তা করার সময় অভিযুক্ত সামলা খাতুন বাদীর ছেলেকে কোলে নিয়ে তার পাশে বসে থাকে। বাদীর স্ত্রী নাস্তা খাওয়া শেষে বেলা অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় বেসিনে হাত ধৌত করতে যায়। তখন অভিযুক্ত সালমা খাতুন অত্র মামলার বাদী আশরাফুল ইসলামের সদ্য ভুমিষ্ট নবজাতক পুত্র তাহসিন (২৪ দিন) কে নিয়ে পালিয়ে যায় মর্মে স্বীকার করে। অভিযুক্ত সালমা খাতুনকে অদ্য ২৪-০১-২০২১ তারিখ জনাব মাহাদী হাসান, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালত, যশোর আদালতে সোপর্দ করলে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। বাদীর স্ত্রী জান্নাতুল তার সন্তান তাহসিন (২৪ দিন) ও আসামী সালমা খাতুনকে সনাক্ত করেন এবং এই সংক্রান্তে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি প্রদান করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here