যশোর পৌরসভার উন্নয়নের হালচাল-২ দৃশ্যমান উন্নয়নের সফল পরিসমাপ্তি ঘটাতে রেন্টুকে পুনরায় মেয়র হিসেবে দেখতে চায় পৌরবাসী

0
1211

স্টাফ রিপোর্টার : শতাব্দী প্রাচীন যশোর পৌর সভার উন্নয়ন এখন দৃশ্যমান। রাস্তা সংস্কার ও ড্রেন নির্মানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পৌর এলাকার এমন কোন জায়গা নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যে দিকে দৃষ্টি যায় সেদিকে চোখে পড়ে বর্তমার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর হাতের স্পর্শ। শহরের পুর্ব বারান্দীপাড়া থেকে পশ্চিমে কারবালা আরবপুর, উত্তরে ঘোপ ধানপট্টি থেকে দক্ষিনে শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে উন্নয়নের কর্মকান্ড। ঘর থেকে বের হলেই পৌর নাগরিকরা দেখতে পাচ্ছেন পৌর মেয়রের সার্বিক তত্বাবধানে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের দৃশ্য। যার সুফল ভোগ করছেন পৌর নাগরিকবৃন্দ। আর এ কারনেই আগামী নির্বাচনেও যশোর পৌরসভার সর্বস্তরের নাগরিকরা জননেতা জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে ফের পৌর মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। তারা মনে করেন এসব চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ডের সফল পরিসমাপ্তির জন্য বর্তমান মেয়রের ধারাবাহিকতা দরকার। তারা রেন্টু চাকলাদারকে নৌকার কান্ডারী হিসেবে অঅগামী নির্বাচনে পেতে চায় নাগরিকদেও মাঝে।
বৃটিশ ভারতের অন্যতম প্রাচীন এই পৌর শহরে বইছে উন্নয়নের জোয়ার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ছোঁয়া এখন যশোর শহওে দৃশ্যমান। পৌর এলাকার যে দিকে নাগরিকদের চোখ যায় সেদিকেই নজরে পড়ে উন্নয়নের কাজ। যশোর পৌর সভার অভ্যান্তরে ফোর লেন সড়কের উদ্ভাবক পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। তার হাত ধরেই ফোর লেন সড়কের শহরে প্রবেশ করেছে যশোর।এই শহরের বেশ কয়েকটি রাস্তা ইতিমধ্যে ফোরলেনে উন্নীত হয়েছে। যার মধ্যে শহরের দড়াটানা থেকে গরীব শাহ দরগা ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পর্যন্ত পালবাড়ি রোড, বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল থেকে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত ঈদগাহ মোড় আল্লাহু ভাস্কর্য পর্যন্ত প্যারিস রোড, ঈদগাহ মোড় থেকে চাঁচড়া মোড় পর্যন্ত মুজিব সড়ক, পালবাড়ি ভাস্কর্যের মোড় থেকে মণিহার হয়ে মুড়লী পর্যন্ত বারান্দীপাড়া ঢাকা রোড , চৌরাস্তা থেকে আশ্রম মোড় হয়ে সরকারী হাঁস মুরগীর খামার- চাঁচড়া বৈধ্যভূমি শংকরপুর পারহাউজ মোড় পর্যন্ত রেল রোডসহ শহরের বেশ কিছু সড়ক ইতিমধ্যে ফোর লেনে উন্নীত হয়েছে। কয়েকটি সড়কের কাজ চলমান। এসব সড়কের সংস্কারসহ আধুনিকায়নের নানা উদ্যোগ আজ দৃশ্যমান। প্রায় প্রতিটি সড়কের ডিভাইডারের ওপর সড়ক বাতির মার্কারী আলোর লাইটে গোটা এলাকা ঝলমল করছে। এর পাশাপাশি পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডের পাড়া মহল্লার রাস্তার উন্নয়নে চলমান রয়েছে কোটি কোটি টাকার কাজ। এছাড়া চলতি অর্থ বছরে আরো যেসব রাস্তা সংস্কার প্রয়োজন সেগুলোর উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও দাতা সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান পৌর সভার প্রধান প্রকৌশলী। তিনি জানান, যশোর পৌরসভায় বর্তমানে রাস্তা ও ড্রেন উন্নয়নে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান। এছাড়া পাইপ লাইনে আছে আরো শত শত কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প। যার মধ্যে বেশ কিছু কাজ চলতি অর্থ বছরে ও বাকি কাজ আগামী অর্থ বছরে শুরু হবে। এছাড়া পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে সকল সড়কে সড়ক বাতির সু ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিদিন নিয়ত মনিটরিং টিম এসব এলাকার লাইট সিস্টেম সচল আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার ফলে পৌর এলাকার কোথাও নাগরিকদের অন্ধকারে পথ চলতে হয় না। পৌর কমিশনার আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান মেয়রের আমলে যশোর পৌরসভায় যে পরিমান উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড সম্পন্ন হয়েছে তা অতীতে কখনো হয়নি। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান। রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেন পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও ময়লা নিষ্কাশনে বর্তমান মেয়রের যুগোপযোগী পদক্ষেপের কারনে যশোর পৌরসভা এখন দেশের মধ্যে মডেল পৌরসভার স্বীকৃতি লাভ করেছে। দাতা সংস্থা গুলো এখন যশোর পৌরসভার নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে বরাদ্ধ দিতে স্বেচ্ছায় আগ্রহ প্রকাশ করছে। অথচ এক সময় এই দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা এই পৌরসভাকে কালো তালিকা ভূক্ত করে বরাদ্ধ বাতিল করেছিল। এক সময় যশোর পৌরসভার কর্মকর্তা কর্মচারীদের বছরের অধিকাংশ সময় বেতন ভাতার বড় একটা অংশ বকেয়া থাকতো। কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় বিদ্যুৎ বিভাগ লাইন কেটে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়ে বার বার চিঠি চালাচালি করেছে। কিন্তু বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সকল বকেয়া পরিশোধ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেন। বর্তমানে পৌর সভার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের মাসিক বেতন ভাতার টাকা নির্ধারিত সময়েই পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে পুঞ্জিভূত মৃত বা অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা কর্মচারীদের অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা বর্তমান মেয়র দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে পর্যায়ক্রমে নিয়মিত পরিশোধ করছেন। বাড়তি করের বোঝা নাগরিকদের ওপর না চাপিয়ে চলমান রাজস্ব সঠিক পদ্ধতিতে আদায়ের সু ব্যবস্থার কারনে বর্তমানে যশোর পৌর সভার রাজস্ব আদায়ের পারিমান ঈর্ষনীয় ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এসব পদক্ষেপ গ্রহনের ফলে স্থানীয় সরকার বিভাগে যশোর পৌর সভার ভাবমুর্তি দিন দিন উজ¦ল হচ্ছে বলেই মনে করেন পৌর কমিশনার হাবিবুর রহমান মনি চাকলাদার। পৌর কমিশনার আলমগীর হোসেন সুমন বলেন, শুধু সরকারী বরাদ্ধ নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বর্তমান পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু ও তার পরিষদ পৌর নাগরিকদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপশি সুবিধা বঞ্চিত নাগরিকেদের কল্যানে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। শতাব্দী প্রাচীন এই পৌরসভাকে ঢেলে সাজাতে বর্তমান মেয়রের পরিকল্পার কোন অভাব নেই। তিনি একজন আধুনিক চিন্তা ধারার মানুষ। তার মন ও মননশীলতায় আধুনিকার ছোঁয়া স্পষ্ট। তিনি এই শহরকে দেশের মধ্যে একটি অন্যতম মডেল পৌর শহরে পরিণত করতে চান। ইতিমধ্যে তিনি শহরের গুরুত্বপূর্ণ চারখাম্বার মোড়ে শেখ রাসেলের ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে শেখ রাসেল চত্বর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন। যশোর ঈদগাহ ময়দানের পশ্চিমপাশের্^ একদিকে আল্লাহু ও অপর পাশে খেজুর গাছের ভাস্কর্য্য স্থাপনের মাধ্যমে যশোরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য যেমন ফুটিয়ে তুলেছেন তেমনি যশোরের ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি প্রদর্শন করেছেন বিশেষ সম্মান বোধ। যা যশোরবাসী চিরদিন মনে রাখবে। পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা বলেন, যশোর পৌরসভার অবহেলিথ একটি অঞ্চল ছিল শংকরপুর। বিগত কোন সরকারের আমলে মেয়ররা এই অঞ্চলের উন্নয়নে কোন কাজই করেননি। কিন্তু বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে পাল্টে গেছে শংকরপুরের হালচাল। বর্তমানে এই অঞ্চলটি শহরের অন্যতম ভিআইপি এলাকার মর্যাদা লাভ করেছে। এলাকার রাস্তা, ড্রেন, কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়নে মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার কোটি কোটি টাকা বরাদ্ধ করেছেন। যা ওয়ার্ডবাসির প্রত্যাশারও বেশি। শুধু শংকরপুর নয় পৌর এলাকার কারবালঅ, মিশনপাড়া, আরবপুর, খড়কী, চাঁচড়া ডালমিল, পোষ্ট অফিসপাড়া, ষষ্টিতলাপাড়া, তালতলা আনসার ক্যাম্প এলাকা, বেজপাড়া বিহারী কলোনী, বুনোপাড়া, নীলগঞ্জ তাতীপাড়া, সরকারী সিটি কলেজপাড়া, বারান্দী মাঠপাড়া, পূর্ব বারান্দী নাথপাড়া, লোন অফিস পাড়া, পশ্চিম বারান্দীপাড়া, খালধার রোড, ডিআইজি রোড পাড়া, ঘোপ ধানপট্টি, কাজীপাড়া ঘোষপাড়া, পালবাড়িসহ গোটা পৌর এলাকায় উন্নয়নে মহাযজ্ঞ চলমান। এসব উন্নয়ন কর্মকান্ডের সফল পরিসমাপ্তি ঘটাতে বর্তমান মেয়রের ধারাবাহিকতার কোন বিকল্প নেই বলেই মনে করেন পৌরবাসী। আর এ কারনেই আগামী নির্বাচনে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুকে নৌকার কান্ডারী হিসেবে দেখতে চান সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ। – – চলবে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here