কেশবপুরে ভুমি অফিসের আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

0
143

কেশবপুর ব্যুরো: যশোরের কেশবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) দপ্তর অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রারিক আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার অবসরপ্রাপ্ত কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার আব্দুল মান্নান বিশ্বাস উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ের উপর আগামী রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজনগর বাকাবর্শী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত কৃষি স¤প্রসারণ অফিসার আব্দুল মান্নান বিশ্বাস ১৯৮৯ সালের ২৫ মে ও ২৬ আগস্টে ১৫৫২ দাগে এবং ২৪৮৫ হালে কবলা মূলে ১১ দশমিক ৫০ শতক জমি ক্রয় করেন। জরিপের সময় ভুলবসত ১/১ খতিয়ানে অন্তভুক্ত হয়। জমি নিজ নামে নাম জারি করার জন্য সেই সময় কর্মরত ইউনিয়ন ভ‚মি সহকারী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে তার জমির দলিল দুটি প্রদান করেন। তিনি ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি তার নাম জারির একটি পর্চা দেন। পরবর্তীতে ভ‚মি উন্নয়ন কর দিতে গেলে তার নামে কোন হোল্ডিং খোলা না থাকায় একটি মিস কেস করেন। পরবর্তীতে কেশবপুর উপজেলা ভ‚মি অফিস কর্তৃক তাকে প্রথম নোটিশ প্রদান করেন এবং ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি শুনানীর দিন ধার্য করেন। শুনানীর দিন উপস্থিত হলে অফিস বন্ধ থাকায় করোনা পরবর্তী অফিস চলাকালীন সময়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ওই কেসের তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে পাঁজিয়া ইউনিয়ন ভ‚মি অফিসকে নোটিশ করেন। ২০২০ সালের ৮ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে প্রতিবেদনের আলোকে তাকে ২য় নোটিশ প্রদান করলে তিনি (বাদী) যথাসময়ে হাজিরা দেন এবং বিবাদী ফুলমতি বেগম আদালতে হাজির হয় না। তার ছেলে বি.এম. মাসুদুর রহমান ভ‚মি অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ আবুল হোসেন সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন বিবাদীকে তার নির্দিষ্ট ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ও অফিসে তাদের কোন ফাইল পাওয়া যাচ্ছে না। বিবাদীকে খুঁজে পেতে এবং অফিসে ফাইল খুঁজতে তার ছেলের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নেন। পরে আবার ২য় শুনানীর দিন ধার্য করলে যথাসময় শুনানীতে হাজিরা দিয়ে আবুল হোসেনের সাথে সাক্ষাত করলে তিনি মিথ্যার আশ্রয় নেয় এবং তার ছেলেকে বোকা বানিয়ে ফাইল খুঁজে বের করতে এবং বিবাদীর বাড়ি খুজে বের করতে আরও ১ হাজার টাকা নেন। পরবর্তীতে আবুল হোসেনের কুপরামর্শে ও কথিত সহযোগী আয়শা বেগমের সহযোগীতায় এভাবে পর্যায়ক্রমে ৮টি শুনানীর পিছিয়ে যায়। পরে সার্ভেয়ার মিরাজকে ফাইল খোঁজার ও দুই পক্ষের মূল দলিল-পর্চা দেখে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করতে ৯ম শুনানীর দিন ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়। ৯ম শুনানীর দিন সার্ভেয়ার মিরাজ ফাইল এবং তদন্ত প্রতিবেদন সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) নিকট পেশ করেন। বিবাদীর পক্ষের হয়ে অন্যপথ অবলম্বন করে আবুল হোসেন সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) কে বলেন যে উক্ত জমির এলএসটি মামলা আছে। যার ফলে এলএসটির মামলার অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য সময়ের প্রয়োজন। তিনি (বাদী) এ বিষয়ের সাথে কোন সম্পর্ক নেই বললেও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আবুল হোসেনের পরামর্শে নতুন শুনানীর দিন ধার্য করেন। বারবার শুনানী পিছিয়ে তাকে হয়রানি করানো হচ্ছে। এমতাবস্থায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক আবুল হোসেনের কুপরামর্শে হয়রানি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন আগামী ৩১ জানুয়ারি রোববার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্যালয়ে এক শুনানির জন্য নোটিশ করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here