চৌগাছায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি- বিতর্কিত দুই ব্যক্তির নাম বাদ দেয়ার দাবীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

0
174

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের চৌগাছায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে বিএনপি পন্থী ও বহু বিতর্কিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনকে সদস্য পদে নিয়োগ দেয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক ােভের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত দুই ব্যক্তির নাম কমিটি থেকে বাদ দেয়ার দাবীতে মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধন করে। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন। ২৯ জানুয়ারি শুক্রবার বেলা ১১ টায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পুরাতন ভবনের সামনে মুক্তিযোদ্ধারা এই মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন থেকে মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মাধ্যমে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাই কমিটিতে বিএনপি পন্থী বিতর্কিত বহুল আলোচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামকে সভাপতি এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রহুুল আমিনকে সদস্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ব্যাপক ােভের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বিভিন্ন অপকর্মের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে গত ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা এবং ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গ মানব বন্ধন এবং ঝাড়ু মিছিল করে। মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, চৌগাছার বহুবিতর্কিত সাবেক সিবিএ ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালামের রোষানলে পড়ে ১শ ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন। সীমাহীন প্রতারণা করে অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রাণি করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও পরিবারের সরকারি আর্থিক সহযোগিতার নামে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা । তিনি ইতোপূর্বে বিএনপির অন্যতম নেতা ছিলেন। শুধু তাই নয় ওই সময় তিনি একটি নির্মিত তোরণে জিয়াউর রহমানকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি দিয়ে ব্যানার দেন। ফলে ওই সময় বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সমালোচিত হন আব্দুস সালাম। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বিগত দিনে সিবিএ নেতা হিসাবে ব্যাংকে বদলি বানিজ্য করে লাখলাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচিত তিনি। এছাড়া বিগত বিএনপি সরকারের সময় ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গবন্ধুর ছবি পদদলিত করেন একই সাথে মাইক ভেঙ্গে ফেলেন। সে সময় দম্ভের সাথে বঙ্গবন্ধুকে বিকৃত নামে ডেকে নিজের ঘৃণার বিষদাগরণ করেন। তার দম্ভক্তি ও নেক্কারজনক এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ করেন। বর্তমানে বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল আওয়ামীলীগের সাথে মিশে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। দলের মধ্যে বিশৃংখলায় মেতে উঠেছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধেও রয়েছে নানা অভিযোগ। এসব অভিযোগের কারনে উল্লেখিত ২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই-বাছাই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করার জন্য ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বারিত লিখিত অভিযোগ গত ২০ ডিসেম্বর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসক যশোর বরাবর দেয়া হয়। তারপরও অনৈতিক ভাবে চৌগাছা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটিতে উল্লেখিত ২ জন বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এ সময় মানববন্ধনে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ার দাবী জানান। মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ নূর হোসেন, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কিতাম আলী, সাবেক সাংগঠনিক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জেল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াহেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজের আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কেরামত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউছুপ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিতাব আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আশারফ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহাম্মদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিয়ার রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহিদুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান রেজাউল করিমসহ মুক্তিযোদ্ধা ও পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here