মনগড়া তথ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করা হচ্ছে , উন্নয়ন গতিশীল রাখতে প্রয়োজন নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা: যবিপ্রবি নীল দল

0
230

 প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ভুলে ভরা, মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়কে (যবিপ্রবি) জাতির সামনে হেয় করা হচ্ছে। যবিপ্রবির কতিপয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর কর্মকাÐে পুরো বিশ^বিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। বিশ^বিদ্যালয়ের অর্জন এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সমাজে যে সম্মান রয়েছে, সেটাকে তুচ্ছ করে অত্যন্ত নি¤œ ও অনাকাঙ্খিত পদ্ধতিতে তারা প্রতিবাদ করছেন, যেটা কোনো বিবেকবান মানুষ নিতে পারে না।

যবিপ্রবি নীল দল মনে করে, সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর বিদায়ের পর তাঁকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এবং মানববন্ধনে যে কদর্য ভাষা ও অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরো শিক্ষক জাতির জন্য অপমান।
তাঁদের অভিযোগে একটি অংশে ঢাকায় উপাচার্য বাড়ি ভাড়া বাবদ ৬০ হাজার টাকা নেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে যবিপ্রবিতে উপাচার্যের বাংলো নির্মাণাধীন থাকায়, যবিপ্রবি উপাচার্য বাংলোর শুধুমাত্র একটি কক্ষ ব্যবহার করেন। এই কক্ষের ভাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রিজেন্ট বোর্ড’ কর্তৃক নির্ধারণ করা হয়। যেহেতু বাংলো নির্মাণাধীন ও সপরিবারের বসবাসের উপযোগী নয় এবং এখনো পর্যন্ত এটা উপাচার্য মহোদয়কে হস্তান্তর করা হয়নি, সেহেতু ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের তাঁর বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল করা হয়নি। ফলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি ও রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হিসাব দপ্তর বিধি মোতাবেক ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরকে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ হস্তান্তর করে থাকে; এ বাবদ মাননীয় উপাচার্যকে সরাসরি কোন অর্থ প্রদান করা হয় না। এ ছাড়া বাংলোর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) নতুনভাবে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে এবং ঐ বাংলোর কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য সম্প্রতি যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সঠিক তথ্যের জন্য অভিযোগকারীগণ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন।
আর বাংলাদেশ সরকারের প্রেষণ বিধিমালা অনুযায়ী একজন শিক্ষক বা কর্মকর্তা তাঁর মূল প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হন যা পূবর্তন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সর্বশেষ বেতন সনদ (এলপিসি) অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। সে আলোকেই যবিপ্রবি উপাচার্য ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যে হারে গবেষণা ভাতা পেতেন, সে হারেই এলপিসি অনুযায়ী তিনি যবিপ্রবিতে গবেষণা ভাতা পান।
শিক্ষক সমিতির নিকট থেকে যবিপ্রবি উপাচার্য সেরা গবেষক হিসেবে সম্মাননা নেন বলে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে, শিক্ষক সমিতি যখন উপাচার্যসহ যবিপ্রবির সেরা গবেষকদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন, তখন তিনি সংবর্ধনা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর নামের সাথে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের একজন প্রাক্তন অধ্যাপকের নামের মিল থাকায় বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে গত ২২ নভেম্বর ২০২০ খ্রি. তারিখে একটি সংশোধনীও প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে যবিপ্রবি উপাচার্যের গবেষণার ইম্প্যাক্ট ফ্যাক্টর ছিল ৫৭ দশমিক ৮৩৬, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল। তিনি বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর স্বর্ণপদক বিজয়ী বিজ্ঞানী এবং তিনি এই একাডেমির একজন সম্মানিত ফেলো। ফলে যবিপ্রবি উপাচার্যের গবেষণা মান নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে যে তীর্যক মন্তব্য করা হয়েছে তা দুঃখজনক।
তাদের অভিযোগের আরেকটি অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, উপাচার্যের নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের দাবিকৃত ১৭ লাখ টাকা দিতে না পারায় একজন চাকরি প্রার্থীর নিয়োগ হয়নি। উক্ত চাকরি প্রার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ^বিদ্যালয় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বর্তমানে এ বিষয়টি তদন্তাধীন। উল্লেখ্য, অভিযোগকারীর চাকরির বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল করে। এর সাথে উপাচার্য বা অন্য কারো কোন সম্পৃক্ততা নেই।
শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান (পিইএসএস) বিভাগের ফিজিওথেরাপি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে দেখা যায়, আবেদনকারী সকলেরই বয়স ৩০ ঊর্ধ্ব। তখন পিইএসএস-এর বিভাগীয় প্লানিং কমিটি ৩০ ঊর্ধ্ব সকল প্রার্থীকেই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সুপারিশ করে। উল্লেখ্য, ডা. মো. ফিরোজ কবির ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেই আবেদন করেন। বিশ^বিদ্যালয়ের সকল নিয়োগবিধি মেনেই রিজেন্ট বোর্ড তাঁর নিয়োগের চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগটি বিশ^বিদ্যালয়ের টিওই ভুক্ত নয় এবং অনুমোদনহীন মর্মে তাদের তুলে ধরা তথ্যটিও সত্য নয়। এ বিভাগটি বাংলাদেশের বিশ^বিদ্যালয়গুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউজিসি কর্তৃক যথাযথভাবে অনুমোদিত। আর ডা. মো. ফিরোজ কবিরকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিধিসম্মতভাবেই পিইএসএস বিভাগ থেকে পিইএসএস বিভাগের পদসহ ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের স্থানান্তর করা হয়; এটি নতুনভাবে নিয়োগ নয়। ডা. মো. ফিরোজ কবিরের স্ত্রী ডা. শর্মিলা জাহানকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত অমান্য করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মর্মে প্রকাশিত তথ্যটিও সত্য নয়, কারণ রিজেন্ট বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেই ৩০ উর্ধ্ব যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কেননা ইতঃপূর্বে দুইবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেও ৩০ বছরের কম বয়সী কোন প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ডা. শর্মিলা জাহান কর্মরত অবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেন।
৩৫ বছর ১১ মাস বয়সী একজন মেডিকেল অফিসার নিয়োগে যে অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয়েছে, তা সঠিক নয়। কারণ ডা. নুসরত জামান গাজী মেডিক্যাল কলেজে কর্মরত অবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করেন। তাছাড়া, সংশ্লিষ্ট প্লানিং কমিটি অধিকতর যোগ্য সকল প্রার্থীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুপারিশ করে। ফলে ডাক্তার ও ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগে অনিয়মের কোন প্রশ্নই ওঠে না।
উপাচার্যের বোন এবং শ্যালিকা বিশ^বিদ্যালয়ে ব্যবসা করছেন বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। শিক্ষক সমিতির এ অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত কাজ চলমান। এ ছাড়াও অনিয়মের মাধ্যমে ড্রাইভার নিয়োগ, প্লানিং কমিটি, ডিন ও চেয়ারম্যান নিয়োগসহ যে সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ২০ মে ২০১৭ খ্রি. – ১৯ মে ২০২১ খ্রি. পর্যন্ত অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণ: মাত্র ৩৫ একর আয়তনের এ বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ হতে। আয়তনে ছোট আর বয়সে নবীন হলেও বিভিন্ন বাধা-বিঘœ অতিক্রম করে সেশনজট মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিতকরণ এবং কোভিড সঙ্কটকালে দেশের প্রথম পাবলিক বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করাসহ শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে বহুবিধ অসাধারণ অর্জনের কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এখন বাংলাদেশের এক অনুকরণীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন ও অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু
এ বিশ^বিদ্যালয়ের ¯œাতক শ্রেণির সকল বর্ষের পরীক্ষা বিভাগভিত্তিক আলাদাভাবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হতো। ফলে কোনো কোনো বিভাগ এগিয়ে থাকতো, কোনো কোনো বিভাগের পরীক্ষায় বিলম্বে অনুষ্ঠিত হতো। একটি সেমিস্টারের ফলাফল ৪৪ মাস পরেও প্রকাশের নজির সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের এ দুর্দশা লাঘবে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে অভিন্ন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেন। ফলে সকল বিভাগের ¯œাতক সকল বর্ষের পরীক্ষাসমূহ একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাত্র দুই মাসের মধ্যে সকল বর্ষের ফলাফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়। দ্বিমূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অন্য পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা থাকায় আর সময় কমানো সম্ভব হয়নি। শিক্ষার্থীদেরকে প্রত্যেক সেশনের ক্লাস শুরুর আগে পুরো বছরের মুদ্রিত অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রদান করা হয়। যার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যেক সেমিস্টার শুরুর আগেই ক্লাস শুরু এবং শেষ; পরীক্ষার সময় এবং ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ জানতে পারে। এ ছাড়া করোনাকালে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব অনলাইন লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজট ও র‌্যাগিংমুক্তকরণ
শুধু সেশনজট মুক্তই নয়, এ বিশ^বিদ্যালয় সম্পূর্ণরূপে র‌্যাগিং মুক্ত। ২০১৯ সালের শুরুতে এ বিশ^বিদ্যালয়কে র‌্যাগিং মুক্ত করতে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ সময় যারা র‌্যাগিংকে হাতিয়ার বানিয়ে ছাত্রদেরকে অপকাজে ব্যবহার করত, তিনি তাদের ঘৃণ্য অপরাজনীতি ও গুজবের শিকার হন। প্রশাসনের কাছে র‌্যাগিংয়ের কোনো অভিযোগ এলে সঙ্গে সঙ্গে তা আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষার্থী এলে তাদের ব্রিফিং করে সাহস দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বিশ^বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিশ^বিদ্যালয়ের হলসমূহ, অ্যাকাডেমিক ভবন ও যশোর শহরস্থ মেসসমূহে নিয়মিত টহল দেওয়া হয়। এমনকি, যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের মেসে মেসে যখন অপরাজনীতির ধ্বজাধারীরা আক্রমণ করে, তখন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের হল ও মেসে গিয়ে সাহস দেন। প্রশাসনের দৃঢ়তায় যবিপ্রবিতে এখন কোনো র‌্যাগিং নেই। জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান যবিপ্রবি এখন অন্যদের জন্য অনুকরণীয় বলা যায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন
শিক্ষার্থীদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ^বিদ্যালয়ের হলগুলোতে নানাবিধ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। নির্বিঘœ পড়াশোনা নিশ্চিত করার জন্য শহীদ মসিয়ূর রহমান হলে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পাঠকক্ষ নির্মাণ করা হয়। শেখ হাসিনা ছাত্রী হলে সাইবার ক্যাফে ও ফিটনেস সেন্টার স্থাপন করা হয়। হলসহ পুরো ক্যাম্পাসকে ফ্রি ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের সকলের শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম। পাঠদান ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি বিভাগে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বিভাগে ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানের শিক্ষার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করার জন্য খুদে বার্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস পরীক্ষা, জিনোম সিকুয়েন্সিং ও গবেষণা
সারা বিশ^ যখন করোনা ভাইরাস অতিমারীতে ঘরবন্দী, বিশ^বিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম যখন বন্ধ, তখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় এগিয়ে আসে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। যবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য একজন অণুজীববিজ্ঞানী হওয়ায় এবং এ বিশ^বিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে আরটি-পিসিআর, অটোক্লেভ, এনজিএস মেশিন ও দক্ষ জনবল থাকায় তিনি সরকারকে দ্রæত অনুমতি প্রদানের লিখিত আবেদন জানান। অনুমতিপ্রাপ্তির পর ২০২০ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে যবিপ্রবির জিনোম সেন্টারে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়ে অদ্যবধি চলমান রয়েছে। জিনোম সেন্টারে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের এটি নিয়মিত দায়িত্বের অংশ না হলেও দেশমাতৃকার প্রয়োজনে বাংলাদেশের প্রথম বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে এই মানবিক বিপর্যয়ে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসায় দেশে নজির স্থাপন করে। শুধু করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা নয়, করোনার গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা বিষয়ে এ জিনোম সেন্টারে গবেষণা চলমান রয়েছে। গত ৮ মে যবিপ্রবির উপাচার্য ও জিনোম সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যবিপ্রবির ল্যাবে প্রথমবারের মতো করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়। ভাইরাসের এ ধরণটির জিনোম সিকুয়েন্স সংক্রান্ত গবেষণা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের একদল গবেষক কম খরচে করোনা ভাইরাস শনাক্তে ‘সাইবারগ্রিন পদ্ধতি’ উদ্ভাবন করে। এই পদ্ধতিতে করোনা শনাক্ত করতে প্রতি নমুনার জন্য বাংলাদেশি টাকায় মাত্র ১৪০ টাকার মত খরচ হবে এরমধ্যে আরএনএ এক্সট্রাকশন কিট ১০ টাকা, আরটি-পিসিআর কিট ১২০ টাকা, প্রাইমার ৩ টাকা ও অন্যান্য ৭ টাকা। এ পরীক্ষায় সময় লাগবে মাত্র ৯০ মিনিট। একটি মাত্র টিউবেই এ পদ্ধতিতে করোনার বর্তমান ধরণগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এ গবেষণা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা।

অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন ও সমৃদ্ধকরণ
অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এ বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই যবিপ্রবিকে একটি গবেষণা বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এ লক্ষ্যে যবিপ্রবির শিক্ষকদের গবেষণা ভাতা প্রদান শুরু করেন এবং গবেষণার জন্য বিভাগভিত্তিক গবেষণাগারগুলোর উন্নয়নে গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি করেন। একইসঙ্গে হ্যাচারি অ্যান্ড ওয়েট ল্যাব, ইউটিএম ল্যাব, অ্যানালিটিক্যাল ল্যাব, জিনোম সেন্টারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিকমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেন। যবিপ্রবিতে একটি অ্যানিমেল হাউসের প্রতিষ্ঠার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এটির নির্মাণকাজ শেষ হলে জিনোম সেন্টারের সহায়তায় যবিপ্রবিতে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের ভ্যাকসিন তৈরি করাও সম্ভব হবে। বিশ^মানের নতুন ল্যাব স্থাপনের জন্য আরও ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প সরকারের চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অন্যান্য ল্যাবসমূহে বেনাপোল স্থলবন্দরে বিভিন্ন পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া যশোরের স্থানীয় শিল্প কলকারখানার বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়। আগামীতে আরও নতুন সেবা সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে গবেষণা প্রবৃদ্ধিতে যবিপ্রবি প্রথম
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্কোপাস ডেটাবেইস অনুযায়ী, ২০২০ সালে বাংলাদেশে ৪২ শতাংশ গবেষণা প্রবৃদ্ধি করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় প্রথম স্থান অর্জন করে। মূলত বর্তমান উপাচার্য এ বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পর্যায়োন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশের শর্ত দেন। বর্তমানে যবিপ্রবিতে গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হওয়াতে অধিকাংশ শিক্ষক বয়সে তরুণ হলেও তাঁরা আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত অনেক জার্নালে তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করে যাচ্ছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক ২০২০ সালে প্রস্তুতকৃত বিশে^র সর্বাধিক উদ্ধৃত গবেষকের মধ্যে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের তিনজন তরুণ শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। এ বিশ^বিদ্যালয় থেকে সর্বপ্রথম একজন বিদেশি শিক্ষার্থীকে পিএইচডি ও আরেক জন শিক্ষার্থীকে এমফিল ডিগ্রি প্রদান করেছে।

গবেষক হিসেবে যবিপ্রবি উপাচার্য
যবিপ্রবির বর্তমান উপাচার্য বাংলাদেশের অন্যতম সেরা গবেষক। উপাচার্য হিসেবে দাপ্তরিক কাজের চাপ থাকলেও তিনি তাঁর গবেষণাকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। ২০২০ সালে তাঁর গবেষণার ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর ৫৭.৮৩৬ যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক বিরল অর্জন। এ ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস-এর একজন স্বর্ণপদক বিজয়ী বিজ্ঞানী ও সম্মানিত ফেলো। তিনি বিশ^খ্যাত গবেষণা জার্নাল ঞৎধহংনড়ঁহফধৎু এবং ঊসবৎমরহম উরংবধংব এর সম্পাদনা পরিষদের অন্যতম সদস্য। এ ছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর তাঁর বিভিন্ন গবেষণামূলক নিবন্ধ জাতীয় গণমাধ্যমসমূহে প্রকাশিত হয়েছে।

অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন
বর্তমান উপাচার্য যোগদানের পর তিনি অ্যাকাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সময় ও বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে বিশ^বিদ্যালয়ের ভিশন-মিশন নির্ধারণ করেন এবং সে আলোকে সকল বিভাগের জন্য ‘আউটকাম-বেইসড’ কারিকুলাম প্রণয়ন করেন। একইসঙ্গে যুগের চাহিদার সাথে মিল রেখে পরিবর্তিত বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন, নার্সিং অ্যান্ড হেল্থ সায়েন্স, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটিং বিভাগ খোলা হয়। এছাড়াও ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইট অ্যান্ড টেকনোলজি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে একটি ডিপ্লোমা কোর্স চালু করার প্রক্রিয়া চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা হবে বাংলাদেশে প্রথম।

নোবেল জয়ী বিজ্ঞানী এনে সমাবর্তন আয়োজন
দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র নয় মাস পর তিনি একজন নোবেল বিজয়ী জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট হিউবারকে এনে বিশ^বিদ্যালয়ের তৃতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করেন। এটা শিক্ষার্থীদেরকে যেমন উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেছিল, তেমনি দেশের মধ্যে যবিপ্রবির সক্ষমতাকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশে অধিকাংশ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে আগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়, সেখানে যবিপ্রবিতে নতুন বিভাগ খোলার পর আগে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বিভাগের শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই শিক্ষকদের তত্ত¡াবধানে শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকতে পারছেন। যবিপ্রবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনুপাত বিশে^র উন্নত বিশ^বিদ্যালয়গুলোর সমপর্যায়ের।

শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন
বিশ^বিদ্যালয়ে যখন কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়, তখনই যবিপ্রবি উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, চেয়ারম্যান ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের নিয়ে সকল বিভাগের সকল বর্ষের শ্রেণি প্রতিনিধিদের (সিআর) সাথে সভাও করেন। এতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা সংক্রান্ত জটিলতাগুলো বিশ^বিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপাচার্যকে সরাসরি বলার সুযোগ পান এবং তাৎক্ষণিক সমাধানও পেয়ে থাকেন। ফলে বিশ^বিদ্যালয়ে এখন কোনো শিক্ষার্থী অসন্তোষ নেই বললেই চলে। করোনা ভাইারাসের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছরে প্রায় ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে অভ্যন্তরীণ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।

মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে এক কোটি টাকার শিক্ষার্থী কল্যাণ ট্রাস্ট চালু
মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে গত ৩০ মার্চ ২০২১ খ্রি. তারিখে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ তৎপরতায় যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রাথমিক তহবিল গঠনে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এ ট্রাস্টে এক কোটি টাকার অনুদান দিয়েছে। এ তহবিল আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধকরণের কাজ চলমান রয়েছে।

করোনাকালেও উন্নয়ন প্রকল্প চলমান
যবিপ্রবির প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরকার সময় স্বল্পতার কারণে যবিপ্রবিকে এগিয়ে নেওয়ার তেমন সুযোগ পাননি। বিশ^বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তারের সময়ে যবিপ্রবি-তে প্রায় ২৮২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প আসে। এরপর থেকে বিশ^বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু হয়। তবে তিনি তাঁর মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ শেষ করে যেতে পারেননি। বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের সময় প্রচেষ্টায় ২৮২ কোটি টাকার প্রকল্প ৩২০ কোটি ২৩ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। ২০১৭ সালে যখন তিনি এ বিশ^বিদ্যালয়ের তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন, তখন থেকেই শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, অ্যাকাডেমিক ও গবেষণায়ও যবিপ্রবি এগিয়ে যেতে থাকে। ১০-তলা বিশিষ্ট স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু অ্যাকাডেমিক ভবন, বীর প্রতিক তারামন বিবি হল, মুনশি মোহাম্মদ মেহেরুল্লাহ হল, টিএসএসসি ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রাসারণ, জরুরি কর্মচারী আবাসিক ভবন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবনের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ তরান্বিত করতে বর্তমান উপাচার্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, উপ-ঠিকাদার, তদারকির কাজে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং শিক্ষকদের সাথে নিয়মিত সভা করছেন। প্রায় প্রতিদিন সকাল এবং বিকেলে সশরীরে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান। কারিগরি ত্রæটি দৃশ্যমান হলেই তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কয়েক মাস আগে ভবন বুঝে নেওয়ার কিছুদিন পূর্বে টিএসসি ভবনের ফ্লোরের টাইলসের মান খারাপ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তা পাল্টাতে বাধ্য করেন। একইসঙ্গে শেখ রাসেল জিমনেসিয়াম ভবন বুঝে নেওয়ার সময় ফ্লোরে ফাটল দেখা দিলে সেটি সম্পূর্ণ নতুন করে নির্মাণে বাধ্য করেছেন বলে যবিপ্রবির উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চেতনা ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে একটি সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেখা ও শোনার ডিজিটাল ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের উপরে লেখা বিভিন্ন বই ও গবেষণাপত্র রয়েছে।

সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রতিপালন ও জাতীয় শোক দিবসে ফ্রি হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন
এ বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলাফল যেন এর আশপাশের মানুষ পেতে পারে, এ জন্য প্রতি বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে আয়োজন করা হয় ফ্রি মেডিকেল হেল্থ ক্যাম্প। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ঢাকা ও যশোরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত ৬ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেন। একইসঙ্গে রোগীদের জন্য ফ্রি ঔষধ সামগ্রীও দেওয়া হয়। এ ছাড়া জাতির পিতার ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী যশোর জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ৫০৫টি পরিবারকে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শুধু শিক্ষা ও গবেষণায় নয়; যবিপ্রবি খেলাধুলায়ও অনেক এগিয়ে গেছে। ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ^বিদ্যালয় অ্যাথলেটিক চ্যাম্পিয়নশিপ ২০১৯’-এ প্রথম স্থান অধিকার করে যবিপ্রবি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে। এ ছাড়া ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবি যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজীকরণ
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা একটি বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও দূরূহ কাজ। বিষয়টি বুঝতে পেরেই যবিপ্রবি উপাচার্য শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সকল নতুন নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা চালু করেন। লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অতিক্রম করার পর যোগ্যতমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে যোগ্যরা যবিপ্রবিতে নিয়োগ পাচ্ছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চিঠি ও ক্ষুদে বার্তা প্রেরণের পাশাপাশি উপযুক্ত প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
একটি বিশ^বিদ্যালয়ের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা কখনো শেষ হয় না। ফলে যবিপ্রবি আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে শিক্ষা ও গবেষণায় আর অবদান রাখবে দেশ গড়ার আন্দোলনে। তবে সেক্ষেত্রে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা একটি অপরিহার্য বিষয়। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চার বছর সময় যথেষ্ট নয়। এ জন্য প্রয়োজন বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা। তাই গুটিকয়েক ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য যবিপ্রবির যেন সুনাম ক্ষুণœ না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার অনুরোধ করছি। যবিপ্রবি নীল দলের আহবায়ক ডঃ ইকবাল কবির জাহিদ ও কার্য নির্াহী সদস্য ডঃ মোঃ ফিরোজ কবির স্বাক্ষরিত এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আহবান জানানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here