যবিপ্রবি ও যশোর প্রেসক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন ।। সাবেক ভিসি ড. আনোয়ারের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা

0
218

স্টাফ  রিপোর্টার :  যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালযের একটি স্বার্থন্বেষী মহল যে ৫৫টি অভিযোগ তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা; অনেকগুলো তুচ্ছ ও হাস্যকর। তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে যবিপ্রবির উপাচার্য হলে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে অনৈতিক-অন্যায্য সুবিধা হাসিল করতে পারবে না বিধায়, তাঁর বিরুদ্ধে এ মহলটি লাগাতার মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও কদর্য ভাষায় আক্রমণ করছে। সরকারকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা করছে।

আজ বুধবার যবিপ্রবি ও যশোর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ঐক্যবদ্ধ হোন, যবিপ্রবিকে বাঁচান’ শীর্ষক স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে লাগাতার মিথ্যাচার, অপবাদ ও কুৎসা রটনার বিরুদ্ধে মানববন্ধনে যবিপ্রবির বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যবিপ্রবির শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আহূত এ মানববন্ধনে সংহতি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শুভানুধ্যায়ীরাও এ মানববন্ধনে শামিল হন।

যবিপ্রবি পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষে মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ। তিনি বলেন, ভুলে ভরা, মিথ্যা ও মনগড়া তথ্য দিয়ে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির ব্যানারে কতিপয় শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে (ইউজিসি) যবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ৫৫টির মতো কল্পিত অভিযোগ দেন বলে জানতে পেরেছি। উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ হতে আশানারূপ সাড়া না পাওয়ায় এ স্বার্থান্বেষী মহল গত ২০ মে ২০২১ খ্রি. তারিখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেই ৫৫টি কল্পিত অভিযোগ তুলে ধরেন। প্রকৃতপক্ষে, যবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ সম্পূর্ণ মিথ্যা; অনেকগুলো তুচ্ছ ও হাস্যকর। তাদের সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও বানানো তথ্যের উপর ভিত্তি করে যবিপ্রবির সদ্য সাবেক মাননীয় উপাচার্যকে নিয়ে যে রুচিহীন ভাষা ও অভিযোগ করা হয়েছে, তা পুরো শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানজনক বলে আমরা মনে করি। এমনকি, যবিপ্রবির সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের বিদায়ের দিন কতিপয় শিক্ষক অত্যন্ত নোংরা ও রুচিহনি ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করেছেন। তাদের এহেন কর্মকাণ্ডে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার স্তম্ভিত। তিল তিল করে সারা দেশে যবিপ্রবির যে সম্মান অর্জিত হয়েছিল, তাদের কারণে তা আজ ভূলুণ্ঠিত। এ জন্য একদিন তাদের যবিপ্রবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সর্বোপরি মেহনতি জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, মাত্র ৩৫ একর আয়তনের এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ হতে। আয়তনে ছোট আর বয়সে নবীন হলেও বিভিন্ন বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে সেশনজট মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিতকরণ এবং কোভিড সঙ্কটকালে দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করাসহ শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে বহুবিধ অসাধারণ অর্জনের কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) এখন বাংলাদেশের এক অনুকরণীয় উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু স্বার্থান্বেষী মহলটির কারণে এ ভাবমূর্তি আজ ধূলিসাৎ হতে চলেছে। তিনি বলেন, যবিপ্রবিতে প্রায় ২৭২ জন শিক্ষক থাকলেও তাদের মানববন্ধনে তারা সাত/আটজন ব্যতীত কোনো সাধারণ শিক্ষক উপস্থিত থাকেন না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় অনুমোদন না নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও অবৈধ সুবিধা হাসিলের জন্য তারা একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে ‘দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচার’ বলে অভিহিত করেছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতিকে তাঁরা অত্যন্ত হালকা একটি সংগঠনে রূপান্তরিত করেছেন।

অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, তাঁরা অভিযোগ করেছেন- ক্যালেন্ডারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতি করা হয়েছে। বাংলাদেশের কোনো উপাচার্য কি ক্যালেন্ডার তৈরি করে? নাকি এটি তাঁর কাজ? ক্যালেন্ডার তৈরির কমিটি ক্যালেন্ডার করে; ভুল-ত্রুটি হলে সেটি তাঁরা দেখবেন-এটাই নিয়ম। একটি মুদ্রণজনিত ত্রুটিকে দীর্ঘদিন ধরে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বারবার প্রচার করে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। বাস্তবতা হলো মুদ্রণজনিত যে ত্রুটি হয়েছিল তার জন্য সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান তাদের দায় স্বীকার করে লিখিত স্বীকারোক্তি পত্রও দিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। তারপরও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে ওই প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কালো তালিকাভুক্ত করেছে। সুতরাং এর সঙ্গে যবিপ্রবির সাবেক মাননীয় উপাচার্যকে জড়ানোর কোনো সুযোগই নেই। তা ছাড়া উচ্চ আদালতে এটিকে নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন বলে আমরা গণমাধ্যমে জেনেছি।

পরে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সেলিনা আক্তার বলেন, সারা বিশ্ব যখন করোনা ভাইরাস অতিমারীতে ঘরবন্দী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম যখন বন্ধ, তখন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় এগিয়ে আসে যবিপ্রবি কর্তৃপক্ষ। ওই স্বার্থান্বেষী মহল করোনা ভাইরাস পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য মিথ্যা তথ্য দিয়ে এলাকাবাসীকে সংক্ষুব্ধ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা চালাতে থাকে। তাঁরা পরীক্ষণ দলের সদস্যদের তাঁদের আবাসস্থল থেকে উৎখাতের চেষ্টা করে। তাঁদের বিছানাপত্র ফেলে দেয়, এমনকি খাবার পানি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, সকল বাধা উপেক্ষা করে শুধু করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা নয়, করোনার জীবন রহস্য উন্মোচন, গতিপথ পরিবর্তনসহ নানা বিষয়ে এ জিনোম সেন্টারে গবেষণা চলমান রয়েছে। গত ৮ মে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে যবিপ্রবির ল্যাবে প্রথমবারের মতো করোনার ভারতীয় ধরণ শনাক্ত করা হয়। এ ছাড়া তাঁর নেতৃত্বে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কম খরচে করোনা ভাইরাস শনাক্তে ‘সাইবারগ্রিন পদ্ধতি’ উদ্ভাবন করে। এ ধরনের গবেষণা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন বর্তমান নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা।

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আফিকুর রহমান অয়ন বলেন, ওই স্বার্থান্বেষী মহলটি তাদের স্ত্রী, ভাই, চাচা বা আত্মীয়স্বজনদের অবৈধভাবে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন স্যারের মাধ্যমে নিয়োগ দিতে না পারায়, তাদের এই ক্ষোভ। যবিপ্রবি ছাত্রলীগ ঐক্যবদ্ধ এবং কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।

যবিপ্রবির শহীদ মসিয়ূর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিপ্লব দে শান্ত মানববন্ধনে বলেন, অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এ বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাধর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করেছেন। দেশের প্রয়োজনে করোনা পরীক্ষার মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। মিথ্যা অপপ্রচারে ছাত্রলীগের ব্যানার কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

মানববন্ধনে যবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা বলেন, গত ২৪ মে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে ওই স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক আয়োজিত মানববন্ধনে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের ব্যানারে ড্রাইভার, ক্লিনার এবং কিছু অছাত্রকে দাঁড় করিয়ে দেয়। এতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। ছাত্রলীগকে নিয়ে অনেক খেলা হয়েছে, আর খেলতে দেওয়া হবে না। বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে যবিপ্রবির ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বিবৃতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে যবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির ডিন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. মো. মেহেদী হাসান, চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম, ড. মো. জাফিরুল ইসলাম, ড. জাভেদ হোসেন খান, ড. শিরিন নিগার, ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ড. মো. হাফিজ উদ্দিন, ড. তানভীর ইসলাম, ড. মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ড. হাসান মো. আল-ইমরান, ডা. ফিরোজ কবির, প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হাসান, ড. সেলিনা আক্তার, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আলম হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক ড. আশরাফুজ্জামান জাহিদ, সহকারী অধ্যাপক মো. মুনিবুর রহমান, ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফাতেমা-তুজ-জোহরা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রভাস চন্দ্র রায়, পূজা বৈদ্য, মো. আব্দুস সালামসহ ৫০ জনের অধিক শিক্ষক; কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ড. মো. আব্দুর রউফ, সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামরুল হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহেদ রেজা, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. হায়াতুজ্জামান মুকুল, কর্মচারী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজ উদ্দিন, সাবেক সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম শাহীন, সাবেক সদস্য আমিনুর রহমানসহ বহু সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কর্মসূচিতে যবিপ্রবির ছাত্রলীগ নেতা শিলা আক্তার, রুহুল কুদ্দুস রোহিত, নূর মোহাম্মদ টনি, আশিক খন্দকার, নাজমুস সাকিব, আল-মামুন শিমনসহ সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here