করোনা শনাক্ত কমলেও বেড়েছে মৃত্যু

0
2554

যশোর ডেস্ক : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে কমলেও মৃত্যু বেড়েছে।
গত এক দিনে ৪৩ জনের মৃত্যুর খবর শনিবার দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৩৪।
২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৪৪৭ রোগী। আগের দিন এক হাজার ৮৮৭ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।
শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে আট লাখ নয় হাজার ৩১৪ জন হয়েছে।
আর করোনাভাইরাসে মৃতের মোট সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২ হাজার ৮০৩ জন।
সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে আরো এক হাজার ৬৬৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন সাত লাখ ৪৯ হাজার ৪২৫ জন।
ভারতে উদ্ভূত ‘ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট’ দেশে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে গত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা যায়, এক সপ্তাহের ব্যবধানে রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে, মৃত্যুর হার বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
সাত দিনে নমুনা পরীক্ষাও ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। আর সুস্থতার হার বেড়েছে ৫৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছরের ৮ মার্চ; তা সাড়ে সাত লাখ পেরিয়ে যায় গত ২৭ এপ্রিল। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৬২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়।
প্রথম রোগী শনাক্তের দশ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ১১ মে তা ১২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ১৯ এপ্রিল রেকর্ড ১১২ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বিশ্বে শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ২৬ লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩৭ লাখ ১২ হাজারের বেশি মানুষের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৫০৯টি ল্যাবে ১৩ হাজার ১১৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬০ লাখ ৩৪ হাজার ২৬০টি নমুনা।
শনিবার নমুনা পরীক্ষা অনুযায়ী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ০৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৪ লাখ দুই হাজার ৪০৬টি; বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৬ লাখ ৩১ হাজার ৮৫৪টি।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের ৩০ জন পুরুষ আর নারী ১৩ জন। তাদের ৩৭ জন সরকারি হাসপাতালে, পাঁচজন বেসরকারি হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা যান।
মৃতদের মধ্যে ২১ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ১৩ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, দুইজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, পাঁচজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছর, একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছর এবং একজনের বয়স দশ বছরের কম ছিল।
মৃতদের মধ্যে ১২ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন রাজশাহী বিভাগের, আট জন চট্টগ্রাম বিভাগের, পাঁচজন খুলনা বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের, তিনজন রংপুর বিভাগের এবং দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
এ পর্যন্ত মৃত ১২ হাজার ৮০১ জনের মধ্যে নয় হাজার ২৩১ জন পুরুষ এবং তিন হাজার ৫৭০ জন নারী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here