যশোরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তির চেক প্রদান

0
182

যশোর প্রতিনিধি : যশোরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে শহরতলী ধর্মতলা এলাকায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র যশোর জোনাল অফিস থেকে পিকেএসএফ’র শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রমের আওতায় এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বৃত্তি প্রদান করেন সংস্থার জোনাল ম্যানেজার গাজী এনামুল কবীর। এসময় গাজী এনামুল কবীর বলেন, যে কোন বিষয়ের স্বীকৃতি একটা বড় ব্যাপার। আজকে যারা বৃত্তি পেয়েছে, আগামী দিনে তাদের লেখাপড়া অগ্রগতি আরো বেড়ে যাবে। খেলাপড়ার প্রতি তাদের মনোযোগ আরও বাড়বে। তিনি বলেন, দেশে যোগ্য ও সুনাগরিক গড়ে তোলার জন্য শিক্ষার্থীদের বৃত্তির বিকল্প নেই। সবার জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর এ কারণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র আজ দেশের মানুষের কাছে নির্ভরতার প্রতীক। এই সংস্থা করোনা মহামারি মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশে বিভিন্নভাবে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করেছে। যার অংশ হিসেবে আজ সংস্থার উপকার ভোগীদের মেধাবী সন্তানদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হলো। পিকেএসএফ প্রদত্ত এ বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজাউল করিম, যশোর এরিয়ার এরিয়া ম্যানেজার আনোয়ারুল ইসলাম, যশোর সদর ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে যশোর ও ঝিনাইদহ জেলার পাঁচ শিক্ষার্থীর উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষে বৃত্তির চেক দেওয়া হয়। আজ দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের হাতে ৬০ হাজার টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সঞ্জু দাসের বাবা একজন জুতা সেলাই ও রং করার কাজ করেন। তার মা পরের বাসা-বাড়িতে কাজ করে তাদের সংসার চলে। তিনি বলেন, এই বৃত্তির টাকায় তার লেখাপড়া চলে। উচ্চ মাধ্যমিকের লেখাপড়ার সব খরচ বহন করেছে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। এই বৃত্তি টাকা না হলে তার লেখাপড়া বন্ধের উপক্রম হত। পড়াশুনোর পাশিপাশি সে টিউশনিও করেন বলে জানান। বৃত্তিপ্রাপ্ত যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পায়রাডাঙ্গা গ্রামের রাবেয়া সুলতানা বলেন, তার বাবা একজন ট্রাক চালক (ড্রাইভার)। মা গৃহীনি। করোনা মহামারির মধ্যে বাবা ঠিকমত গাড়ী চালাতে পারিনি। বাবার আয়ে তাদের সংসার চালানো দুস্কর। এই বৃত্তির টাকা পাওয়ায় বাবা-মা লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি করে। রাবেয়ার বাবা কামরুল হাসান বলেন, বৃত্তির টাকা না পেলে তার মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হত। মেয়ের ভালো রেজাল্ট ও লেখাপড়ার প্রতি মনযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি মেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here