ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না বেনাপোল কাষ্টমসে

0
177

নাভারণ (যশোর) সংবাদদাতা ॥ পণ্য খালাশে সময় পেণ, সিএন্ডএফ কমর্চারিদের সাথে দুর্ব্যবহার, ফাইল আটকিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়ের মহোৎসব চলছে বেনাপোল কাষ্টমসে। কাষ্টমসের এসব অনাচারের প্রতিবাদ করে লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত হয়েছে অনেক মালিকের। আর কর্মচারিদের পারমিট বাতিল হচ্ছে হরহামেশা। সিএন্ডএফ এজেন্টরা জানান, রাজস্ব জোগানে সিএন্ডএফ এজেন্টরা সহযোগী হলেও কতিপয় কর্মকর্তার সাথে সম্পর্ক সাপের নেউলের মত। লাইসেন্সিং বিধিমালার ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন দুর্ব্যবহার করে যাচ্ছে। কথায় কথায় লাইসেন্স সাসপেন্ড এবং কর্মচারীদের কার্ড বাতিল করা ট্রাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি কোন অনিয়ম হয় সে েেত্র দু’প দোষী হলেও শাস্তি ভোগ করে শুধু সিএন্ডএফ এজেন্টরা। বছরে ১০ /২০ টা লাইসেন্স বাতিল হলেও একজন কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী চাকুরিচ্যুত হয় না।
পণ্য খালাশের ফাইল নিয়ে কতিপয় কর্মকর্তার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাটা দুঃখজনক। কোন কোন কর্মকর্তা তাদের কে প্রবেশের অনুমতি নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি করেন। মালিক কর্মচারিদের সাথে তাদের ব্যবহারও পীড়াদায়ক । দীর্ঘদিন একই চেয়ারে বসে থাকার কারনে কর্মকর্তারা হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া। সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় ডেপুটি কমিশনার শামীমুর রহমান, ডেপুটি কমিশনার অনুপম চাকমা, সহকারি কমিশনার আন্জুমানারা’র নামে কমিশনার আজিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত কমিশনার নেয়ামুল ইসলামের নিকট একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাননি বরং উৎকোচের পরিমান ফাইল প্রতি ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে ঠেকেছে । সাথে কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুন। কাষ্টমস হাউজে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ ডেপুটি কমিশনার শামীমুর রহমানের বিরুদ্ধে। ফাইল আটকিয়ে টাকা আদায় করা, টাকা না পেলে মনগড়া নোট দেয়া, ৩ দিন পর্যন্ত ফাইল আটকে রাখা তার নিত্যদিনের অভ্যাস। কর্মচারী ইউনিয়নের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার দাবি জানিয়ে বলেন, বেনাপোলের বড় বড় সাংবাদিকরা সিএন্ডএফ ব্যবসা করেন তাই ভয়ে দুর্নীতিবাজ কাষ্টমস কর্মকর্তাদের নামে লেখেন না। টাকা ছাড়া কোন ফাইল উনাদের রুম থেকে বের হয় না। বিশেষ করে শামীমুর রহমানের রুমের সামনে রাত ৯ টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেও উনার সাক্ষাত মেলে না । অদৃশ্য কারনে উনি বেনাপোলে যোগদানের পর থেকে বছরের পর বছর একই চেয়ারে রয়ে গেছেন। অথচ উনার পরে যোগদান করে অন্য কর্মকর্তারা এখনো পরীণ গ্রুপে কাজ করে যাচ্ছেন। অবিলম্বে উনার দপ্তর পরিবর্তন করা না হলে কর্মচারীরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে। এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান ডেপুটি কমিশনার শামীমুর রহমানকে আইআরএ ও অনুপম চাকমাকে শুল্কায়ন গ্রুপে বদলী করা হয়েছে। তিনি কাস্টমসের বিরুদ্ধে সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here