বাঘারপাড়ায় কাদায় বেহাল অবস্থা কাঁচাবাজার, চরম দূর্ভোগে ব্যবসায়ীরা

0
207

প্রতিনিধি, বাঘারপাড়া (যশোর) : যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম কাঁচা বাজার “থানার হাট “(কাঁচা বাজার)। করোনায় লকডাউনের কারণে পুরাতন স্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে বসানো হয়েছে বাঘারপাড়া পাইলট স্কুল মাঠে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই কাঁচা বাজারের অবস্থা এখন বেহাল। হাট ইজারাদার, ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কার্যকর কোন উদ্যোগ না নেয়ায় চরম দুর্ভোগে পরেছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতা ও কৃষকেরা। বাজারটিতে(স্কুল মাঠ) ঢুকতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে, বাধ্য হয়েই কাদা মাড়িয়ে উৎপাদিত ফল-ফলাদি, কৃষি পণ্য নিয়ে যাচ্ছে প্রান্তিক কৃষকরা। বাজারটির (স্কুল মাঠ) অভ্যন্তরে যাওয়ার রাস্তা ও দোকানের জায়গা কাদায় মাখা মাখি । এ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ােভের শেষ নেই। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকার কারনে এ সমস্যা । ফলে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয় চলাচলরত কাঁচা সবজি ব্যবসায়ী, ক্রেতা বিক্রেতাসহ সকলকেই । দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থার সৃষ্টি হলেও কর্তৃপ ও বাজার কমিটি বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার এই কাঁচা বাজারে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য, ফল-ফলাদী বিক্রয়ের উদ্দ্যোশে বাজারের নিয়ে আসে। কিন্তু জমে থাকা কাদার কারণে গাড়ি ঢোকাতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূর-দূরান্ত হতে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের। এসব কারণে কৃষকসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের এখন বাজারবিমুখ করে তুলছে। এতে বাজারগুলোর সাধারণ ব্যবসায়ীরা তিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বাজার ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমরা আয়কর ও খাজনাসহ সবই দিচ্ছি, কিন্তু বাজারে চলাচলের রাস্তা ও দোকান বসানোর জায়গাটা সংস্করণ না করায় সবাইকে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই আবর্জনার পচা গন্ধে আর কাঁদায় এখানে টেকাই মুশকিল হয়ে পড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী তহিদুল ইসলাম বলেন, এই কাদার কারণে সবজি বোঝাই দেয়া গাড়ি গুলো আড়ঁতে আসতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। গাড়িগুলো ৬-৭ জনে মিলে ঠেলে আনতে হচ্ছে। এভাবে যদি সব গাড়ি ঠেলে আনতে যায় তাহলে বেচাকেনা করবো কখন? খোরশেদ নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজার করতে গেলে হাটু সমান কাদা উঠছে। পরিষ্কার কাপড় পরে বাজারে আসলে বাড়ি যেয়ে আবার তা পরিষ্কার করতে হচ্ছে। সামান্য কিছু বালু অথবা ঘ্যাস (ইটের ছোট কুচি) দিলে একটু চলাচলের উপযোগী হতো। হাট ইজারাদার সিদ্দিক হোসেন বলেন , লকডাউনের কারণে বাজারটি সরিয়ে স্কুল মাঠে আনা হয়েছে। আজ ক’দিন বৃষ্টি হওয়ায় হাটটি কাদায় পরিণত হয়েছে। ফলে অনেকে বাজারবিমুখ হয়েছে। খাজনা আদায় কম হচ্ছে। এতে আমরাও তিগ্রস্ত হচ্ছি। এমন সমস্যার কথা স্বীকার করে স্থানীয় পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বাজারের আগের জায়গা পাকা করে ছাউনি দেয়া আছে। এখন সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আগের জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয়রা বলছেন এতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠটি বিকল হচ্ছে, সবুজের মাঠ এখন কাদার প্রলেপে ঢাঁকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here