সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও মশা নিধনের কোন পরিকল্পনা নেই যশোর পৌরসভার কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা

0
102

ডি এইচ দিলসান : দেশে করোনার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আর এ মরনব্যাধীতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা। দেশ যখন এমন ক্রান্তীকালের মুখোমুখি তখন হাত পা গুটিয়ে বসে আছে যশোর পৌরসভা। মশা নিধনের নুন্যতম পরিকল্পনাও নেই যশোর পৌর কর্তপক্ষের। কবে নাগাদ মশা নিধনের কর্মসূচী শরু হবে এটাও জানেন না তারা। শুধু মশা নিধনই না পৌরসভার সৌন্দয্য বজায় রাখার ব্যাপারেও নেই কোন মাথা ব্যাথ্যা। সরজমিনে দেখা গেছে শহরের প্রায় প্রতিটা রাস্তার পাশে পলিথিনসহ নানান জিনিসে জমে থকা পানি আর ঝোপ ঝাড়ে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া শহরের অধিকাংশ বাড়িতে ছাদ বাগান ও বারান্দাতে গাছ লাগানোর প্রবনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব গাছের গোড়াতে জমে থাকা পানিতেও মশার প্রজনন হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন মশা নিধনের কোন অভিযান না থাকায় মশার উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সচিব আজমল হোসেন বলেন, এখনো পর্যন্ত আমরা মশা নিধনের কোন পরিকল্পনা হাতে নিতে পারিনি। তবে তিনি বলেন খুব দ্রুতই তারা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ডেঙ্গু রোগী ২ হাজার ৬৫৮ জন। এদিকে গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে পাঁচ গুণ বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। এেেত্র এডিস মশা বেশি ঘায়েল করছে ১ থেকে ৫ বছর বয়সীদের। আক্রান্তের সংখ্যা এভাবে বাড়তে থাকলে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা চিকিৎসকদের। এ ব্যাপারে ডা. ইউসুফ আলী জানান, বাসায় যদি হাইজিন মেন্টেইন না করি, পরিষ্কার-পরিছন্নতা বজায় না রাখি, তাহলে কিন্তু ডেঙ্গুর প্রকপ দিনদিন বাড়তে থাকবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পেটে ব্যথা, বমি, মাথা ব্যথা ও ইউরিন আউটপুট কমে যেতে পারে। এছাড়া শরীরে লাল র‌্যাশ ওঠা, মাংসপেশীতে ব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। এসব লণ দেখা দিলে শিশুকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। এদিকে ডেঙ্গুর হাত থেকে বাচতে হলে কি করনিয় সে সম্পর্কে জেলা প্রশাসক তমিজুল ্ইসলাম খান বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সর্বাগ্রে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো সচেতনতা। তিনি বলেন, মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে হবে, ঘর ও আশপাশের যে কোনো পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা যাতে এডিস মশার লাভা বিস্তার না করতে পারে। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারকেলের মালা, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারি সেল ইত্যাদি প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করা; যাতে এডিস মশা বিস্তার না করতে পারে। রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে। মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে কিংবা কয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। উল্লেখ্য দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ মানুষ প্রাণ হারান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ওই বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here