যশোর ৫নং ওয়ার্ডের ৩ মহল্লায় হাজার পরিবার পানিবন্দী

0
126

মালেকুজ্জামান কাকা : যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়া, খড়কী কলাবাগান পাড়া ও খড়কী পীর বাড়ি সংলগ্ন নতুন মহল্লার মানুষ সামান্য বৃষ্টিতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কারো ঘরে হাটু পানি কারো উঠানে মাজা পানি হযেছে। পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় হাজার পরিবারের মানুষ ঐ তিন মহল্লায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী পানি নিষ্কাশনের দাবিতে হা হুতাশ শুরু করেছেন। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি নিষ্কাশনের কোন উদ্যেগ গৃহিত হয়নি কোন মহল থেকে। মঙ্গলবার ভোরের সর্বশেষ বৃষ্টিতে রেলগেট পশ্চিমপাড়া, খড়কী কলাবাগান পাড়া ও খড়কী পীর বাড়ি সংলগ্ন নতুন মহল্লার জীবন যাত্রা প্রায় অচল হয়ে গেছে। অনেকেই রান্না করতে পারছেননা। ঘরের মধ্যে পানি, উঠানে পানি, রান্নাঘরের চুলা পানির মধ্যে পতিত। সঙ্গত কারনে বসবাসকারীরা বিপাকে পড়েছেন। এদিন দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, খড়কী কলাবাগান পাড়ার আবুল বাশার মোল্যা, জমিলা খাতুন (৮৫) (স্বামী- মৃত নুর ইসলাম), সদর উদ্দীনের পুত্র সাইদুর রহমান (৪১), আতিয়ারের পুত্র বিল্লাল (২৮), নওশের কালু, মোসলেম, কাসারী বুড়োর দুই পুত্র সেলিম ও হালিম, হবিবর (৬৫), আজগার, ইদ্রিস, সালমা, রেজাউল, আক্তার, রবিউল, মৃত আসমত উল্লাহের পুত্র নুর ইসলাম (২), ফতেহ (স্বামী- নজির) এর বাড়ি সহ প্রায় ৩০০ পরিবার বর্তমানে পানিবন্দী। এদের রান্নাঘর, ঘর, উঠান পানিতে একাকার। অনেকেরই চুলায় পানি রয়েছে। ফলে এরা রান্না বান্না করতে পারছেননা। পানি সরছেনা বলে বসবাসকারিরা অভিযোগ অনুযোগ করলেন। এমনকি কোন সহায়তাও এসব বসবাসকারী দরিদ্র মহল্লাবাসী পায়নি। এদের এখন সহায়তা প্রয়োজন। এলাকাবাসী ত্রাণ সহায়তার আর্জি জানালেন। কলাবাগান পাড়ার আবুল বাশার বলেন, পানি সরছেই না। এই অবস্থায় সহায়তা প্রয়োজন। তবে কে সহযোগিতা করবে তা তিনি বা তারা বুঝে উঠতে পারছেননা। তবে দু:খ প্রকাশ করে বলেন এভাবে জীবন চলতে পারেনা। অবিলম্বে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে অবরুদ্ধ মানুষের বিপাকের কোন ঠিক ঠিকানা থাকবেনা। রেলগেট পশ্চিম পাড়ার আলী (৭০), আসাদ (৫৫), মোতাহার হোসেনের পুত্র হাশেম (৫৩), জোহর গাজীর পুত্র শাহাজাহান, মনছুরের পুত্র আলমগীর ও মনিরুল, নাছিম (স্বামী- শুকুর), বাশারের পুত্র তুহিন, ইবাদত, খোকন সাত্তারের পুত্র মনি, আহমদ আলীর পুত্র নুর ইসলামসহ প্রায় ১৫০ পরিবারের মানুষ পানিবন্দী। কিছুতেই পানি সরছেনা। হাশেম ড্রাইভার জানালেন, বড্ড বিপাকে পড়েছি আমরা। রান্নাবান্না নেই, লকডাউনে কাজও বন্ধ, এখন পরিবার পরিজন নিয়ে সকলে দিশেহারা হয়ে গেছি। রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহিম ও শরিফুল জানান, তাদের উঠানে হাটু পানি। বাড়ির শিশুরা বাইরে বের হতে পারছেনা। প্যান্ট গুটিয়ে জুতা হাতে তাদের ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে। আবার একই ভাবে ঘরে ফিরতে হচ্ছে। এই এলাকায় প্রায় ১০০ পরিবার পানিবন্দী। খড়কী পীর বাড়ির চারিপাশে তিনটি নতুন মহল্লায় বসবাসকারি পরিবারের সংখ্যা সহস্রাধিক। এদের সিংহভাগ পরিবার পানিবন্দী। দিশেহারা এরাও পরিবার পরিজন নিয়ে পানিতে অবরুদ্ধ জীবন যাপন করছেন। পরিস্থিতির কারনে বাড়ি থেকে জ্বর জারি যাচ্ছেনা তা বলাই বাহুল্য। শিশু ও মাঝ বয়সী পুরুষ নারীদের উঠানে মাছ ধরতে দেখা যায়। এরা জাল যোগাড় করে মাছ ধরতে নেমে পড়েছেন। ভূক্তভোগী পানিবন্দী এলাকার বয়স্ক নারীরা জানান তাদের ও শিশুদের জীবন এই মুহুর্তে দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেকের ঘরে চাল ডাল নেই। একদিকে লকডাউন আরেক দিকে জলাবদ্ধতা ফলে এখানে জীবন যাত্রা থমকে পড়েছে বলা যায় নি:দ্বিধায়। এলাকাবাসি এ বিয়ে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে। এখন তাদের মানবিক সহায়তার প্রয়োজন। তবে তারা প্রাথমিকভাবে ৫নং ওয়ার্ড কমিশনার রাজিবুল আলম কে বিষয়টি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালেই কমিশনার জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ৫নং ওয়ার্ড কমিশনার রাজিবুল আলম বলেন, কি কারনে পানি সরছেনা তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেননা। তবে তিনি বিষয়টি সমাধানে প্রানান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সুষ্ঠ ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এই পানিবন্দী দশা। তিনি অনুযোগ করে বলেন ঐ এলাকাগুলোতে পৌর কতৃপক্ষ উন্নয়ন করেনি বলেই এই শনির দশা তাদের। এতদিন তারা উপেক্ষিত ছিল। ঘনবসতিপূর্ন ৪/৫টি মহল্লায় এখন কয়েক হাজার পরিবার বসবাস করে। এরা প্রত্যেকেই সমস্যায় বসবাস করছেন। কারো পানিবন্দী দশা কারো আবার রাস্তা নেই, কাঁচা রাস্তা কাঁদা পানিতে একাকার। ইতিমধ্যে তিনি খড়কির খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে পানি সরানোর উদ্যেগ নিয়েছেন। এর ফলে ডালমিল ও চোরমারা দিঘীর পাড়ের চারটি মহল্লার মানুষ কিছু সুবিধাভূক্ত হয়েছেন। রেলগেট পশ্চিমপাড়ার একাংশের পানি সরাতে নিজ খরচে ড্রেন করা হয়েছে। এরা এখন পানিবন্দী অবস্থা থেকে মুক্ত হয়েছেন। তবে আরো কিছু মহল্লায় সমস্যা রয়েছে। এগুলো দ্রুতই ড্রেনেজ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here