নড়াইলে মঞ্জু রানী পাল ছয় লাখ শিকের মধ্যে দেশ সেরা

0
180

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক মঞ্জু রানী পাল। ছাত্র জীবনে কখনো পেছনে ছিলেন না। চেষ্টা, শ্রম আর মেধা কাজে লাগিয়ে সবেেত্র তিনি প্রথম সারিতে । শিকতা জীবনেও তিনি অগ্রভাগে। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কর্তৃক পরিচালিত পোর্টালের পাকি “সেরা কনটেন্ট নির্মাতা” ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়ে দেশ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন মঞ্জু রানী পাল। গত ৩১ জুলাই রাতে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) বিভাগ তাকে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। জানাগেছে,শিার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাল্টিমিডিয়া কাসরুম, সকলের জন্য মানসম্মত শিার সুযোগ সৃষ্টিতে মুক্তপাঠ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিার্থীসহ সকলের একীভূত ও মানসম্মত শিা নিশ্চিতকল্পে মাল্টিমিডিয়া যথাযথ মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনার জন্য কাসরুম মনিটরিং, ড্যাশবোর্ড এবং শিকদের মাঝে কন্টেন্ট ও আইডিয়া আদান প্রদানের জন্য শিক বাতায়ন। একুশ শতকের শিার্থীদের জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের শিাব্যবস্থা। এ শিাব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজন একুশ শতকের শিক। তাই শিকদের উপর আস্থা রেখে দেশের শিাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের ডিজিটালিস করে গড়ে তুলতে এবং শিকদের দ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে, প্রায় ছয় লাখ শিকের একটি প্রতিষ্ঠান “শিক বাতায়ন”। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ শিা বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল হচ্ছে, শিক বাতায়ন। মঞ্জু রানী পাল ২০১০ সালে শিকতা (সরকারি প্রাইমারি স্কুলে) পেশায় যোগদান করেন। তাঁর বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের রায়গ্রামে। ২০১০ সালের ১৬ ই সেপ্টেম্বর লোহাগড়া উপজেলার শাহাবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে শিকতা জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ সদর উপজেলায় বদলী হয়ে গোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তিনি ২০১১ সালে সিইনএড, ২০১৫ সালে বিএড এবং ২০১৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এমএড প্রশিণ সম্পন্ন করেন । নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিা অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে দেশের শিা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন সরাসরি পাঠদান বন্ধ রাখা হয় সে সময় শিকিা মঞ্জু রানী পাল দেশের কোমলমতি শিার্থীদের কথা চিন্তা করে অনলাইনে কাস নেওয়া শুরু করেন। নিজ বিদ্যালয়, ঘরে বসে শিখি, নড়াইল অনলাইন প্রাইমারি স্কুল, বাংলাদেশ আলোকিত প্রাথমিক শিক, ডিজিটাল অনলাইন প্রাইমারি স্কুল নড়াইল পেজ সহ ১০ টি অনলাইন পেইজে কাস নিয়েছেন তিনি। নড়াইল জেলা প্রাথমিক শিা অফিসার মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময়ই শিার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে শিা ব্যবস্থাকে মিলাতে পারে না। পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় শিার্থীর এই নানামূখী চাহিদা পূরণ করা এবং শিা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার ল্েয একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগাম শিা েেত্র উদ্ভাবন নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিা উপকরণ, সময়োপযোগী শিক প্রশিণ এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ চাহিদার সাথে বর্তমান শিাব্যবস্থার যোগসূত্র স্থাপনে কাজ করে চলেছে এটুআই। এদিকে “সেরা কনটেন্ট নির্মাতা” ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা নির্বাচিত হওয়ার নড়াইল জেলার সর্বপ্রথম শিক হলেন মঞ্জু রানী পাল। তিনি ২০২০ সালের ১৮ আগষ্ট থেকে “শিক বাতায়ন” এ নড়াইল জেলার অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করে আসছেন। মঞ্জু রানী পাল দৈনিক নড়াইলকে বলেন, শিক বাতায়নে কাজ করেছি ধৈর্য, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে। যারা শিক বাতায়নে দিন রাত কাজ করেন তারাই ভালোভাবে অনুভব করেন সেরা হওয়ার আনন্দ আর অনুভূতিটা কি। তিনি বলেন,কাজ করি ভালোলাগা থেকে, এইভাবেই করে যাব সব সময়। আমার এই প্রাপ্তি আমার চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমার এই প্রাপ্তিতে আমি প্যাডাগজি রেটার, প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকর্মীবৃন্দ ও শিকমন্ডলী এবং যারা উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিশেষ করে আমার পরিবারের প থেকে আমার এই প্রাপ্তি আমাকে আগামি দিনে আরো ভালো কাজ করার েেত্র অনুপ্রাণিত করবে। স্বামী সুবাস পাল পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ২০০২ সালে আমাদের বিবাহের পরও আমার স্বামী আমাকে লেখাপড়া করার সুযোগ দিয়েছেন। আমার এই সফলতার সমস্ত কৃতিত্ব আমার সহকর্মীসহ উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তাবৃন্দদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here