ভালো নেই নাসরিন

0
218

মুজাহিদ সামিউল্লাহ : পুরান ঢাকায় বেড়ে ওঠা উচ্ছল মেয়ে যার প্রতিটি ক্ষণ পাড়ার অলিগলি ঘুরে বেড়ানো, সময় অসময়ে কার্জন হলের পুকুরে ঝাঁপ দেয়া, আশেপাশের গাছ থেকে পেয়ারা পেরে খাওয়া- এই মেয়েটিই স্বপ্নের জাল বুনতেন রূপালী পর্দায় নিজেকে নায়িকা রূপে দেখার। প্রতি সপ্তাহে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখা, কখনো আবেগী দৃশ্য দেখে অশ্রু ফেলা বা নায়িকার গানে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা। পুরান ঢাকার কৃষ্টি-কালচার অনেকটা ধর্মীয় ঘেরাটোপে সীমাবদ্ধ। নাচ-গানকে সব সময় নিরুৎসাহিত করা হয়। সব কিছুর বেড়াজাল থেকে নিজেকে মুক্ত করে ১৯৯৩ সালে রূপালী পর্দায় নিজের স্বপ্নকে পূরণ করলেন সোহানুর রহমান সোহান-এর ‘অগ্নিপথ’ ছবিতে। একজন চিত্রনায়িকার সিনেমায় কাজ করতে যা যা প্রয়োজন তার সব ছিল নাসরিনের ভেতর। কিন্তু তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন ছিল না। নায়িকার বদলে পরিচালকরা তাকে ভ্যাম্প বা কমেডিয়ান চরিত্রে ফিক্সড করে ফেললেন।
কাজ করেছেন অসংখ্য ছবিতে। তবে দীর্ঘদিন নাসরিনের পর্দা উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তিনি কেমন আছেন? মুঠোফোনে নাসরিন বলেন, দীর্ঘদিন আমি অসুস্থ। বছরখানেক আগে আমার পেটে টিউমার অপারেশন করেছি। কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। এখনো তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়ে গেছে। আবার আমাকে অপারেশন করতে হবে। তখন টিউমার পুরোপুরি রিমুভ করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তার বলেছেন আবার টিউমারটি বড় হচ্ছে। বেশ ক’বছর ধরে এই অসুস্থতার ভেতর দিয়েই যাচ্ছি, তার উপর করোনার ভয়াবহতা- সব মিলিয়ে ভালো নেই আমি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে সহশিল্পী একমাত্র শাবনূরের সঙ্গেই আপনার সখ্য গড়ে উঠেছিল। এখনো কি যোগাযোগ রয়েছে? শাবনূর আমার শুধু সহশিল্পীই নয়, আমার বোন। শাবনূরের আম্মা আমাকে মেয়ে মনে করেন। আমাদের মাঝে মান অভিমানও হয়। দীর্ঘদিন আমাদের দেখা হয় না কিন্তু টেলিফোনে মাঝে মধ্যে কথা হয়। শিল্পী সমিতির প্রতি নির্বাচনকালীন আপনার যা অভিযোগ ছিল তা কি আজও রয়েছে? নাসরিন বলেন, একবিন্দুও কোনো রাগ-অনুযোগ, অভিযোগ কিছুই নেই। বরং মিশা ভাই, জায়েদ তাদের প্রতি প্রতিনিয়তই আমার শ্রদ্ধা বাড়ছে। করোনাকালীন এই দু’জনের যে অসচ্ছল শিল্পীদের প্রতি মমতা ও ভালোবাসা সত্যিই আমাদের ঋণী করে দিলেন। এক পরিবারে এক সঙ্গে থাকলে মাঝে মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি হতেই পারে। তাই বলে কারও ভালো কাজকে সাধুবাদ না জানানো অকৃজ্ঞতার লক্ষণ। এদিকে নাসরিনকে শেষ রূপালী পর্দায় দেখা গিয়েছিল, ‘সত্তা’ ছবিতে ২০১৭ সালে। এখন সময় কাটে কীভাবে? অসুস্থতাই আমাকে দীর্ঘদিন ভুগাচ্ছে। ঘরে শুয়ে বসেই সময় পার করছি। স্বামী আর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে সংসারের কাজ করেই চলে যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here