লোহাগড়ার শাহাবাজপুর মহিউদ্দিন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ের এতিমরা শিক্ষা ও জীবণযুদ্ধে এখনও শত সমস্যায়

0
181

রাজিয়া সুলতানা,লোহাগড়া(নড়াইল)প্রতিনিধি : শিশুকালে কেউ হারিয়েছে পিতাকে। কেউ হারিয়েছে মাতা কে। আবার কেউ হারিয়েছে পিতা-মাতা দুজনকেই। তাই শিশু বেলায়-ই জীবণযুদ্ধে অসহায় হয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছে এতিম খানায়। এতিমখানা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি থাকলেও শিশুদের চাহিদা মাফিক আবদার পূরণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। সরকারি সামান্য সহযোগিতা আর বেসরকারি ও ব্যাক্তি বিশেষদের সহযোগিতায় পড়াশোনার মান অনেক ভাল হওয়া সত্বেও শত অপূর্ণতার মাঝে যেন ”মানুষ” হবার যুদ্ধে নেমেছে প্রায় দেড় শতাধিক এতিম শিশু। এতক্ষণে বলছিলাম নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের শাহাবাজপুর মহিউদ্দিন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর এতিমদের কথা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে শাহাবাজপুর মহিউদ্দিন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর শুভ সূচনা হয়। বর্তমান শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় দেড়শত। এর মধ্যে আবাসিক ১২০জন। এখানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, দাখিল, হেবজখানা, নুরানী বিষয়ে পড়াশোনা করে এতিম শিশুসহ দুস্থ্য শিশুরা। এতিমখানাটিতে পাঁকা ভবন দরকার। পুকুরঘাট বাঁধানো দরকার। এতিম খানায় ঢোকার রাস্তার প্রায় দুইশ মিটার রাস্তা কাঁদা মাটির। সামান্য বৃষ্টি হলেই এতিমখানার উঠানে (মাঠে ) বৃষ্টির পানি জমে থাকে। সেখানে মাটি ভরাট করা দরকার। কাঁদা হয়ে যাওয়ায় অসহায় শিশুরা খেলতে পারে না। এই এতিম খানায় বালিকা শাখাও আছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পাঁকাঘাট না থাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এতিমরা খাদ্য, বাসস্থান সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা চাহিদামত পায় না। মাউলী গ্রামের ইকরাম মোল্যার মেয়ে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা(৭) জানায়, আমার বাপ ৩ বছর আগে মারা গেছে। আমি ১ বছর এখানে পড়ি। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মেহেদি মোল্যা জানায় ২ বছর আগে আমার বাবা মারা গেছে। এখন এখানেই থাকি খাই। আমাগে অনেক সমস্যা। খেলতে পারিনা। থাকার ঘর কাঁচা। শাহাবাজপুর মহিউদ্দিন এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিং এর পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোঃ আবুল বাশার এ বিষয়ে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৭৩ জন শিক্ষার্থীর খরচের টাকা পাই। অথচ আবাশিকে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২০জন। চরম সমস্যা ও অনাটনের মধ্যে শিক্ষার মান ঠিক রেখে শিক্ষার্থীদের নিয়ে দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। এতিমদের সমস্যা সমাধানে নড়াইল-২ আসনের এমপি মহোদয়, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সহ ভালমনের মানুষদের এগিয়ে আসার বিনীত আহবান জানাচ্ছি। লোহাগড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ শামীম রেজা বলেন, ওই এতিম খানা পরিদর্শন করে সমস্যাগুলি শুনেছি ও দেখেছি। আমি ব্যাক্তিগতভাবে দুটি সিলিং ফ্যান দেবো। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির চেষ্টা করবো। সেখানে পড়াশোনার মান অনেক ভাল। এতিমদের সহযোগিতায় সকলকেই এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here