মহম্মদপুরে রাস্তার পাশে হাট-বাজারের ময়লা-আবর্জনায় নষ্ট হচ্ছে এলাকার পরিবেশ, দূর্গন্ধে অতিষ্ট পথচারিরা

0
129

মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর হাট-বাজারের ময়লা আবর্জনায় ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের উত্তর সিমানা প্রাচীরের রাস্তারপাশে ও সরকারি আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আশপাশ। সাপ্তাহিক দুটি হাট ও প্রতিনিয়ত বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা অবাধে ফেলা হচ্ছে বিদ্যালয়ের আশপাশে এবং পুকুরে। এতে যেমন দূষিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, তেমনই স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে এলাকাবাসী এবং তীব্র পচা দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ পথচারীরা। সরেজমিনে দেখা ও জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের উত্তর সিমানা প্রাচীরের পরের এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পিছনে রাস্তার পাশে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। গড়ে উঠেছে ভাগাড়, দুগৃন্ধ ছড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্জ্য ফেলার পরিবেশবান্ধব কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে না বা কোনো পদ্ধতি নাই। ফলে পাশেই বসবাসরত পরিবারের শত শত লোকজন ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রাস্তার পাশে গড়ে উঠা ময়লা-আবর্জনার স্তুপের দুর্গন্ধে। এ দূষণের শিকারো পথচারীরা। ফলে এলাকাবাসী, সচেতনমহল ও অভিভাবকরা হাট-বাজার স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য কতৃপক্ষেকে অনুরোধ করেছেন। জানা যায়, প্রতিদিন বাজারের ময়লা-আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। এছাড়াও বাজারে মাছ বিক্রয়ের বর্জ্যসহ অন্যান্য প্রাণীর বর্জ্যও এখানে ফেলা হয়। এসব বর্জ্য থেকেই এই দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। তাই পথচারীদের নাক-মুখ বন্ধ করে এ রাস্তায় চলাফেরা করতে হয়। সচেতনমহল ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রাণঘাতি করোন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট লকডাউন এবং সরকার ঘোষিত ছুটিতে সারাদেশের ন্যায় মহম্মদপুর উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে। বন্ধের এই সময়ে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মানার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় হাট ও প্রতিদিনের বাজার সরকারি আর এস কে এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্ত্বরে স্থানান্তর করেন। কিন্তু এই হাট-বাজারে কোন পরিচ্ছন্ন কর্মী এবং আবর্জনা ফেলার ডাস্টবিন না থাকায় হাট-বাজরের যাবতীয় ময়লা-আবর্জনা অবাধে বিদ্যায়ের আশপাশ ও পুকুরে ফেলা হয়। ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ঠের পাশাপাশি এডিস মশা জন্মানোর শঙ্কাও রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরও হাট-বাজর এখানে আনা হয়েছিলো, পরে সরিয়ে নিয়েছিলো। এবছর আবার করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় বিদ্যালয় চত্বরে হাট-বাজার আনা হয়েছে। এতে প্রতিদিন কয়েক হাজার ক্রেতা বিক্রেতার সমাগম ঘটে এই বিদ্যালয় চত্ত্বরে। আর এ কারণে বাজারের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা পুকুর ও আশপাশে ফেলা হয়। ফলে একদিকে যেমন পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে তীব্র পচা দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নাসিরুল ইসলাম জানান, সরকারি নির্দেশনা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন হাট-বাজার বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করেছেন। তাই উপজেলা সদর বাজারের প্রতিদিনের ময়লা-আবর্জনা স্কুলের আশপাশে ফেলা হচ্ছে। আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাহী অফিসার স্যারের সাথে কথা বলেছি স্যার এই ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করে দেবেন বলে জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও কাচা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ আলাউল হক বলেন, আমাদের ভালোবাসার বিদ্যালয়ের আশপাশ ও পুকুরটি ডাস্টবিন পরিনত হয়েছে। তবে ব্যবসা করি তাই এখানে থাকতে হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রামানন্দ পাল জানান, করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সরকারি নির্দেশনায় হাট-বাজর খোলা স্থানে নেওয়া হয়েছে। সরিয়ে ফেলার নির্দেশনা এখনো আসেনি। তবে কিছুদিনের মধ্যেই বিদ্যালয় চত্বর থেকে হাট-বাজার সরিয়ে ফেলা হবে এবং আমি সরেজমিনে দেখে বর্জ্যও অপসারণের ব্যবস্থা করবো। তবে জনস্বার্থে সবাইকে অনুরোধ ময়লা-আবর্জনা যেকানে সেখানে না ফেলার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here