একটি হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের একটি গ্রামের ২০টি পরিবার বাড়ি ছাড়া

0
154

কামরুজামান লিটন ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় দোগাছী ইউনিয়নের পুটিয়া গ্রামে একটি হত্যা কান্ডকে কেন্দ্র করে গ্রামের ২০টি পরিবার ২৩দিন যাবৎ বাড়ি ছাড়া রয়েছে। হত্যা মামলার আসামীদের ৩/৪জনের বাড়ি ঘরে অগ্নি সংযোগ, গরু ছাগল ছিনতাই, স্যালো মেশিন , টিউবয়লের মাথা এবং বাড়ির আসবাবপত্রসহ সকল কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে প্রতিপরা বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। হত্যা এবং হত্যা পরবর্তি সহিংসতার অভিযোগে উভয় পরে ৪টি মামলা হয়েছে। উল্লেখ যে, গত ২৯জুলাই পুটিয়া গ্রামের মসজিদে মাগরীবের নামাজের একামত দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জের ধরে গ্রামের দুটি প সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তি ৩০জুলাই সকালে সংঘর্ষ চলা কালে মোদাচ্ছের হোসেন মোল্লা (৫৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়। এই ঘটনায় একই দিনে থানায় একটি হত্যা ও নাশকতার মামলা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামী ওমর আলীসহ ১১জন আসামী আত্মসমার্পন করেন। তারা এখনো জেল হাজতে রয়েছে। হত্যা মামলার পরে গ্রামে শুরু হয় লুটপাট, অগ্নী সংযোগ এবং প্রতিপরে উপর হামলা। একই গ্রামের ইবনে মিলন, মোফাজ্জেল হোসেন, তাহের মোল্লা, রাশেদ মোল্লা, হাসিব মোল্লা, মোকাদ্দেছ, রইচ, নজির, ইমরান, জাকিরসহ সংঘবদ্ধ একটি দল জয়নাল , মিল্টন, পাতা ও ওমর আলীসহ অনেকের বাড়িতে হামলা চালায় এবং অগ্নি সংযোগ করে বাড়ির মালামাল পুড়িয়ে দেয়। এই হামলায় নারী শিশুসহ বেশ কয়েকজনকে আহত করে গ্রাম ছাড়া করে। পরবর্তিতে হামলার ভয়ে তারা আর গ্রামে ডুকতে পারছে বলে জানান। হামলা এবং সহিংসার ভয়ে গ্রামের ২০টি পরিবার ২১/২২দিন যাবৎ বাড়ি ছাড়া রয়েছে। রবিবার সরেজমিনে গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের একটি পরে প্রায় ২০টি পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। তাদের বাড়িতে কোন মালামাল, পুরুষ, মহিলা কাউকেই খুজে পাওয়া যায়নি। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে জানতে চাইলে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন হামলার ভয়ে তারা বাড়ি ছাড়া রয়েছে। গ্রামে ডুকলেই তাদের উপর হামলা করা হবে বলেও অনেক মহিলারা জানান। জয়নাল, মিল্টন, এবং পাতার বাড়িতে আগুন দিয়ে কিছু অংশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, প্রশাসনের হস্তপে ছাড়া গ্রামে ফিরে যাওয়ারমত অবস্থা নেই বলেও জানান অনেকে। ভুক্তভোগি মোছাঃ লালমতি বেগমের একটি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিক জানান নাশকতা যা ঘটেছে তা হত্যার পর পরই হয়েছে পরে আর কোন ভাংচুর বা নাশকতা হয়নি। যারা মামলার সাথে জড়িত নয় তাদের কে আমরা গ্রামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। যেহেতু বিষয়টি এখন বিচারাধীন রয়েছে সেহেতু নতুন কোন সহিংসার সৃষ্টি না করে প্রশাসনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ভাবে উভয় পরে সহ-অবস্থানের দাবি জানান অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here