যশোরে বন্ধ কিস্তিতে সুদের উপর সুদ ধার্য্য ঋণ গ্রহীতারা বিপাকে

0
142

মালেক্জ্জুামান কাকা : যশোরে সরকার ঘোষিত ঋনের কিস্তি আদায় বন্ধ ঘোষনা ঋণ গ্রহীতার উপর মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঋনদাতা সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ কিস্তির উপর নতুন সুদ আরোপ করেছে। ভূক্তভোগী ঋণ গ্রহীতারা এই অভিযোগ করেছেন। এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এমনিতে করোনার টালমাতাল পরিস্থিতিতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। এখন সুদের নতুন চার্জ তাদের বেসামাল করে দিচ্ছে। সারা বিশ্ব যখন মরন ব্যধি করোনায় দিশেহারা তখনো সুদ আসলের কি্িস্ত আদায় বন্ধ রাখেনি ঋণদাতা প্রতিষ্টান। নাগরিক সমস্যা বিবেচনায় বাধ্য হয়ে সরকার ঋনের কিস্তি আদায় বন্ধে আদেশ জারি করে। এতে লকডাউনের শেষ পর্যায়ে এসে কিছুটা হলেও উৎফুল্ল হয় ঋণগ্রহীতা দরিদ্র নি¤œ আয়ের জনগন। কিন্তু লকডাউন শেষ হতেই কিস্তি আদায়ে ঋনদাতা প্রতিষ্ঠান গুলোর কর্মকর্তা কর্মচারিরা মাজায় কাপড় বেঁেধ কিস্তি আদায় শুরু করেছে। ভয়ঙ্কর বিষয় এই, যেকটি কিস্তি বন্ধ ছিল তার উপর নতুন করে আবারো ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান সুদের চার্জ যোগ করেছে। এমনিতে বন্ধ কিস্তি দিতে পেরেশান হয়ে পড়েছে কর্মহীন মানুষ। তার উপর নতুন করে সুদের উপর সুদ চার্জ করায় ঋণ গ্রহীতারা এখন চোখে সর্ষফুল দেখতে শুরু করেছে। অনেক ঋণ গ্রহীতা নতুন সুদ দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের সঞ্চয় থেকে সুদ কাটা হচ্ছে। ঋণ গ্রহীতা ভ্যান-রিক্সা-ইজিবাইক চালক ও নি¤œ আয়ের মানুষ জানায় দীর্ঘদিন তাদের কর্ম বন্ধ ছিল। এ কারনে তাদের আয় রোজগারও প্রায় বন্ধ ছিল। সংসার চালাতে প্রায়ই প্রত্যেকেই কোন না কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কম-বেশি ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছে। তার মধ্যে সরকার কিস্তি বন্ধের আদেশ দেওয়ায় তারা কিছুটা হাফ ছাড়তে পারে। কিন্ত বন্ধ কিস্তির উপর নতুন করে সুদের চার্জ বসিয়েছে তাদের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। এতে তাদের বিপদ আরো বেড়েছে। এমনিতে বন্ধ কিস্তির অর্থ যোগাড় করতে তারা নানা ভাবে নাকাল হচ্ছেন। এর উপর নতুন সুদ তাদের এখন চোখে সর্ষেফুল দেখিয়ে ছাড়ছে। প্রসঙ্গত বলা প্রয়োজন, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, জাগরনী চক্র, ব্রাক, সিএসএস সহ সকল প্রতিষ্ঠান একই নিয়মে বন্ধ কিস্তির উপর নতুন সুদ বসিয়ে আদায় করছে। বন্ধ কিস্তির উপর ১০ থেকে ২৫ পার্সেন্ট পর্যন্ত নতুন সুদ বসানো হয়েছে বলে ঋণগ্রহীতারা জানিয়েছেন। কয়েকজন ভূক্তভোগী ঋণ গ্রহীতা জানান, তাদের কাজ বন্ধ দীর্ঘদিন। অনেকের পরিবারে হাড়ি চুলায় উঠছে না ঠিকমতো। এখন তাদের উপর ধার্য্যকৃত নতুন সুদ ও কিস্তি পরিশোধে তারা যেন পানিতে ডুবে মরতে বসেছেন। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় এই অনিয়ম শুরু করেছে ঋণ দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। অনেক সাংবাদিককে বিষয়টি জানানো হলেও তারা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি বলে ভূক্তভোগীরা অনুযোগ করেন। শহরের একজন খুচরা চা স্টলের মালিক বলেন, আশা ও আদ দ্বীন থেকে তার ঋণ নেওয়া আছে। লকডাউনে তার কিস্তি বন্ধ থাকায় সঞ্চয় থেকে টাকা কেটে নিয়েছে তার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান। তিনি দুটি প্রিিতষ্ঠান থেকে ২০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। তার একটি প্রতিষ্ঠান সঞ্চয়ের পাঁচ হাজার টাকা কেটে নিয়েছে। এর কারন জিজ্ঞাসা করেও কোন সদুত্তর জানায়নি ঐ প্রতিষ্টানের ঋন আদায়কারী কর্মকর্তা। বলেছেন অফিসের অর্ডার। সে কিছুই জানেনা। সে হুকুমের দাস মাত্র। শহরের রায়পাড়ার কয়েকজন ঋণগ্রহীতা জানান, তাদের বন্ধ কিস্তির উপর নতুন সুদ বসানো হয়েছে। নতুন সুদসহ ধার্য্যকৃত কিস্তি না দিলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনেরও হুমকি দিয়েছে ঋণদাতা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। অনেকে আবার নতুন সুদ দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের সঞ্চয় থেকে ব্যালেন্স কর্তন করা হয়েছে বলে এই ভূক্তভোগী ঋণ গ্রহীতারা অভিযোগ করেছেন। বন্ধ কিস্তির উপর নতুন সুদ চার্জ বসানোর ফলে নি¤œ আয়ের মানুষ তা পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কিস্তি আদায় ফিল্ড অফিসার বা তৃণমূলের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের উপর থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার বাইরে একপা দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। আপনারা ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে পারেন। তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। আমার কিছুই করার নেই এ ব্যাপারে। একটি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের আঞ্চলিক ম্যানেজার এ বিষয়ে জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে আইন রয়েছে কোন কারনে কিস্তি আদায় বন্ধ হলে সেই বন্ধ কিস্তির উপর নতুন চার্জ বসবে। সেই নিয়মেই নতুন সুদ বসেছে। এখানে তাদের কোন দোষ নেই। বন্ধ কিস্তি আদায়ে সরকারি কোন অর্ডার এসেছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন বন্ধ কিস্তি আদায়ের সরকারি আদেশ সম্পর্কে সে কিছুই জানেনা। শুধু জানে লক ডাউনে বন্ধ কিস্তি গুলো ষোলআনা আদায় করতে হবে। নইলে তার উপর প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা নেবে। তবে কি ব্যবস্থা নেবে সে সম্পর্কে তিনি কিছু মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। যশোর পৌরসভার একজন জন প্রতিনিধি বলেন, সরকারি আদেশ অনুসারে আমার আওতাভূক্ত ওয়ার্ডে ঋনের কিস্তি আদায় বন্ধ করেছিলাম। সরকার এখনো বন্ধ কিস্তি আদায়ে নতুন আদেশ জারি করেনি। সেই হিসেবে ঋনের কিস্তি আদায় এই মুহুর্তে ঠিক বৈধ নয়। তার উপর যদি বন্ধ কিস্তির উপর যদি নতুন সুদ বসানো হয় তবে তা হবে মরার উপর খাড়ার ঘা। এটি কোন সভ্য সমাজে কাম্য হতে পারেনা। এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। তিনি বলেন এ বিষয়ে খোজ খবর নিয়ে দেখা হবে ঠিক কি করছে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কেননা জনগনকে মেরে কোন কিছুই হতে দেওয়া হবেনা। বর্তমান সরকার জন কল্যাণমূূূূূূলক সরকার। সরকার কে বিষয়টি ঠিকঠাক জানানো গেলে হয়তো একটা সহজ সর্ব গ্রহণযোগ্য সমাধান মিলবে। যশোর শহরের কয়েকজন সমাজসেবী বলেন, বন্ধ কিস্তির উপর নতুন সুদ চার্জ করা হলে ঋণগ্রহীতার বিপদ বাড়বে বৈ কমবেনা। এমনিতে বন্ধ কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করবে সেই চিন্তায় ঋণগ্রহীতা নি¤œ আয়ের ভ্যান রিক্সা ঈজিবাইক চালকরা দিশেহারা। তার উপর নতুন চার্জ যোগ হলে তাদের বিপদ বরং আরো বেড়ে ওদের সংসারে নতুন অশান্তি সৃষ্টি করবে। সমাজসেবীরা জানান, লকডাউনে সহযোগিতার পরিমান ছিল খুবই নগন্য। অনেক কর্মজীবি মানুষ এই সময়ে খেয়ে না খেয়ে কোনরকমে দিন কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। তারপরেও সরকারি আদেশের আগে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখেনি। এতে অনেকেই নানা বিপদে পড়েছেন বলে তারা জেনেছেন। এদের কেউ কেউ ঈজিবাইক, ভ্যান-রিক্সা বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে হাত পা গুটিয়ে বাড়ি বসে ছিল। তাদের পরিবারের দূর্দশার কথা জানলেও কেউ সহযোগিতা করেনি- এটাই বাস্তবতা। কেননা নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের কাছের মানুষ না হওয়ায় তারা সরকারি বা পৌরসভা বা রাজনৈতিক এমপি নেতাদের কোন সহযোগিতা পাননি। এরা আয়ের একমাত্র অবলম্বন বিক্রি করে কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছে। এছাড়া তাদের আর কিই বা করার ছিল। এমনকি বাস বন্ধ থাকায় অনেক বাস শ্রমিক বেকার ভবঘুরে হয়ে গেছেন। এরা সরকারি বা পৌর সেবা সহযোগিতা পাননি তা বলাই বাহুল্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here