মহম্মদপুরে তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় বছর জুড়ে হাজারো মানুষের দূর্ভোগ

0
167

মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি : একটি কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষের। মহম্মদপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওার্ডের চরপাচুড়িয়া গ্রামের সবুর মেম্বরের বাড়ী থেকে তেুলপুকুর বাজার পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এই কাঁচা রাস্তার বেহাল অবস্থা। পায়ে হেঁটে যাওয়াই দূস্কর ওই রাস্তা দিয়ে। অথচ এই রাস্তাটি পাকাকরণ করা হলে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের চলাচলে সুবিধা হবে। স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে ধূলোময় হয়ে খানাখন্দে ভরা এই রাস্তাটি চলাচলে যেমন দূর্ভোগ। তেমনই বর্ষাকালেও বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। ফলে যানবাহন চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে এলাকার কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে বেকাদায় পড়তে হয়। ফলে তাদের ভোগান্তি ও ব্যয় দুটিই বাড়ে। আর তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থী ও এলাকার হাজারো মানুষের বছরের সকল সময়ই দূর্ভোগ যেন পিছু ছাড়েনা।
অথচ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে মহম্মদপুর উপজেলার চরপাচুড়িয়া, পাচুড়িয়া, নৈহাটি, তেলিপুকুর আড়মাঝি, রায়পাশা গ্রামের প্রায় দশ থেকে বারো হাজার মানুষ। এছাড়াও পাশেই আলফাডাঙ্গা উপজেলার চরনারান্দিয়া ও নারান্দিয়া গ্রামের লোকজনও আত্মীয় স্বজনের বাড়ী আসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। চরপাচুড়িয়া গ্রামের কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, এই কাচা রাস্তার কারণে আমাদের কৃষি পণ্য নিয়ে যাতায়াতে চরম দূর্ভোগ পোয়াতে হয়। কৃষক হাশেম মোল্যা, ওবাইদুর রহমান, আছাদুজ্জামান ও আব্দুল জলিল একইভাবে তাদের কষ্টের কথা বলেন এবং এই কাচা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবী জানান। চরপাচুড়িয়া গ্রামের গৃহিনী রাশিদা বেগম বলেন, এই রাস্তার কারণে ভালো ঘরে এবং ভালো পরিবেশে একটা মেয়েকেও বিয়ে দিতে পারিনা আমরা। বিয়ের সম্বদ্ধ আসে মেয়েকে দেখেও তাদের পছন্দ হয় কিন্তু এই কাচা রাস্তার কারণে কুটুমরা ফিরে যায়। তাই এই রাস্তাটি পাকা হলে আমরা বাঁচতাম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. জাফর মোল্যা জানান, এই এলাকায় ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি এবতেদায়ী মাদ্রাসা, গোস্তান, ঈদগাহ ও এতিমখানা রয়েছে। শুকনো মৌসুমে ধূলাবালি ও খানা-খন্দ এবং বর্ষা মৌসুমে কাদা পানিতে পরিনত হয় এই রাস্তাটি। ফলে এলাকার মানুষের দূর্ভেগের শেষ থাকেনা। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থী ও পথচারীদের চলাচলে এবং কৃষিকদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাত করতে চরম দূর্ভোগ হয়। ফলে রাস্তাটি পাকাকরণ হলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। মহম্মদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বর মো. হাবিবুর রহমান জানান, এই কাচা রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করেছি এবং আইডি দেওয়া আছে। পরবর্তীতে বাজেট আসলে পাকা করা হবে। উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, এই রাস্তা পাকাকরণের জন্য ডেন্ডার হয়ে গেছে। কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here