আর্বজনা ও পঁচা কাদায় বেহাল অবস্থা চৌগাছার কাঁচাবাজার, চরম দূর্ভোগে ক্রেতা-বিক্রেতারা

0
175

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছা উপজেলার অন্যতম বৃহত্তম কাঁচা বাজার শহরের সরকারি হাইস্কুল মাঠ সংলগ্ন একমাত্র পাইকারি কাঁচাবাজারটি। এই বাজারে অবস্থা এতোই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের মধ্যে হাঁটার অনুপোযুক্ত হয়ে পড়ে। বেহাল দশায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই কাঁচা বাজারের অবস্থা এখন বেহাল। হাট ইজারাদার, ও পৌর কর্তৃপ কার্যকর কোন উদ্যোগ না নেয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতা ও কৃষকেরা। বাজারটিতে ঢুকতে আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা। তবে, বাধ্য হয়েই কাঁদা মাড়িয়ে উৎপাদিত ফল-ফলাদি, কৃষি পণ্য নিয়ে যাচ্ছে প্রান্তিক কৃষকরা। বাজারটির অভ্যন্তরে যাওয়ার রাস্তা ও দোকানের জায়গা কাদায় মাখা মাখি। এ নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ােভের শেষ নেই। পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা না থাকার কারনে এ সমস্যা। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়তে হয় চলাচলরত কাঁচা সবজি ব্যবসায়ী, ক্রেতা বিক্রেতাসহ সকলকেই। দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থার সৃষ্টি হলেও কর্তৃপ ও বাজার কমিটি বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিষয়টি বাজার কমিটি, জনপ্রতিনিধি, পৌর মেয়রসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপকে জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে ভোগান্তি নিয়েই ব্যবসা করতে হচ্ছে এখানে। বর্তমানে বাজারে সপ্তাহে তিনদিন সবজির হাট বসে। এখানে প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। এত বড় এ বাজারটিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পরিমাণ কাঁদা জমে ক্রেতা সাধারণের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার এই কাঁচা বাজারে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পন্য, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বাজারে নিয়ে আসেন। কিন্তু জমে থাকা কাঁদার কারণে গাড়ি ঢোকাতে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব কারণে কৃষকসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের এখন বাজারবিমুখ করে তুলছে। এতে বাজারগুলোর সাধারণ ব্যবসায়ীরা তিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন বাজরের ব্যবসায়ীরা। বাজারের ব্যবসায়ী সেলিম রেজা অভিযোগ করে বলেন, আমরা আয়কর ও খাজনাসহ সবই দিচ্ছি, কিন্তু বাজারে চলাচলের রাস্তা ও দোকান বসানোর জায়গাটা সংস্করণ না করায় সবাইকে সীমাহীন ভোগান্তি শিকার হতে হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই আবর্জনার পঁচা গন্ধে আর মশার কামড়ে এখানে টেকাই মুশকিল হয়ে পড়ছে। আরেক ব্যবসায়ী ওহিদুল ইসলাম বলেন, এই কাঁদার কারণে সবজি বোঝাই দেয়া গাড়ি গুলো আড়ঁতে আসতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। গাড়িগুলো ৬-৭ জনে মিলে ঠেলে আনতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা এই বাজারে আসতেই চাইছেনা।
পাইকারি ক্রেতা শ্রী কুমার, সাইফুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, ঝনুমিয়াসহ আরো কয়েকজন জনায় তারা এই এই বাজার থেকে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সবজি কিনে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, বরিশাল, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন। তারা বলেন শুরু থেকেই এই বাজারের একই অবস্থা দেখে আসছি। অন্য বাজারের তুলনায় বর্ষা মৌসুমে চৌগাছা বাজারে সবজিতে বাড়তি লেবার খরচ হয়। আর এই তি গিয়ে পড়ে কৃষকের ঘাড়ে। তারা বলেন কাঁদার জন্য এখন আর এ বাজারে আসতে মন চায়না। শুধু কৃষদের দিকে তাকিয়ে আসতে হয়। এদিকে সরকারি হাইস্কুলের জমি ভাড়া নিয়ে উপজেলার এই বৃহত্তম কাঁচাবাজারটি মোটা অংকের টাকায় ইজারা দেয় চৌগাছা পৌরসভা। অন্যদিকে সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক আজিজুর রহমান বলেন, আমরা এই জমি নামমাত্র টাকায় ভাড়া দিয়েছি। এখানে স্কুল কতৃপরে মাটি ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। বাজার মালিক পৌর মেয়রের ভাই ইয়ামুল ইসলাম টিটোর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পৌরসচিব আবুল কাশেম বলেন, বাজারে কাঁদা মুক্ত করার জন্য বাজার মালিকের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ইটের গুড়া দিয়ে ভরাটের চেষ্টা করেছেন। পৌর মেয়র নুর উদ্দীন আল মামুন হিমেল বলেন, বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য বিগবাজেটের ড্রেন নির্মানের কাজ চলছে। ড্রেন নির্মান কাজ শেষ হলে কিছুটা সমাধান হবে। বাজরে মাটি ভরাটের ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তানে যে স্থানে কাঁচাবাজার চলছে সে জায়গা পৌরসভার ভাড়া নেওয়া। পৌরসভা নিজস্ব স্থানে কাঁচা বাজার স্থানান্তর করার চিন্তা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here