কালীগঞ্জে ঐতিহাসিক বারোবাজার হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

0
168

মাহাবুবুর রহমান , কালীগঞ্জ ॥ বারো আওলিয়ার বারোবাজার ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দেিণ। ঢাকা খুলনা মহাসড়কের দুই ধারে শত শত পুকুর ও দিঘির ুদ্র ুদ্র ঢেউ,বুড়ি ভৈরব নদীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত ঐতিহাসিক মসজিদ পরিবেষ্টিত এই বারোবাজার। ১২ জন আওলিয়ার নামানুসারে এখানকার নামকরন করা হয় বারোবাজার। আওলিয়ারা হলেন এনায়েত খাঁ, আবদাল খাঁ, দৌলত খাঁ, রহমত খাঁ,শমসের খাঁ, মুরাদ খাঁ, হৈবত খাঁ,নিয়ামত খাঁ, সৈয়েদ খাঁ, বেলায়েত খাঁ ও শাহাদত খাঁ। এসব আওলিয়ার নামে শুধু বারোবাজার নয় পাশ্ববর্তী অন্কে গ্রামগঞ্জের নাম আওলিয়াদের নামানুসারে রাখা হয়েছে। কিংবদন্তি আছে বঙ্গ বিজয়ী বীন ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি নদীয়া দখলের পর নদীয়ার দনি বা দণি পূর্বে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের দিকে মনোযোগী না হয়ে উত্তর দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ফলে তার বিজিত রাজ্য উত্তরদিকে প্রশস্ত হতে থাকে। পরিশেষে সামছুদ্দিন ইলিয়াস শাহের পৌত্র নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ(১৯৪২) সালে এর শাসনামলে যশোর ও খুলনার কিংবদ তার রাজ্যভুত হয়। ওই অঞ্চলে বিজয়ের গৌরব অর্জণ করেন বৃহত্তর খুলনা জেলার বাগেরহাটের পরশমণি শ্রেষ্ট আওলিয়ার হযরত খান জাহান আলী। তিনি ১৬৫৯ সালে (৮৬৩) হিজরী ২৩ অক্টোবর ইহধাম ত্যাগ করেন। তিনি এক সময় নিজের আত্মরার্থে একটি ুদ্র সেনাবাহিনীর অধিনায়খ হয়ে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতগঞ্জ প্রবেশ করেন। সেখান থেকে বৃহত্তর যশোর জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার হাকিমপুর হয়ে বারবাজার অভিমুখে রওনা দেন। পথিমধ্যে জনসাধারনের পানীয় জলের তীব্র কষ্ট দেখে তিনি এ অঞ্চলে অগনিত দিঘি আর পুকুর খনন করেন। কিংবদন্তি আছে,একই রাতে এ সব জলাশয় খনন করা হয়েছিল। ফলে বারবাজার অঞ্চলে ৮৪ একর পুকুর ও দিঘি এখনও বিদ্যমান। এ অঞ্চলে ১৮টি উল্লেখযোগ্য দিঘির মধ্যে পীরপুকুর ৪ একর, গোড়ার পুকুর ৫ একর, সওদাগর দিঘি ১১ একর, সানাইদার পুকুর ৩ একর, সাতপীরের পুকুর ৩ একর, ভাইবোনের দিঘি ৪ একর, আনন্দ ২ একর, গলাকাটা দিঘি ৪ একর, জোড়াবাংলা দিঘি ৩ একর, চোরাগদা দিঘি ৪ একর,মাতারানী দিঘি ৮ একর, নুনো গোলা দিঘি ৩ একর, কানাই দিঘি ৩ একর, পাচ পীরের দিঘি ৩ একর, মনোহর দিঘি ৩ একর, আদিনা দিঘি ৩ একর, শ্রীরাম রাজার দিঘি ১০ একর ও বেড় দিঘি ৮ একর। সর্বমোট ৮৪ একর দিঘি। এক সময় হযরত খানজাহান আলী বেলাট দৌলতপুরের পূর্ব দিকে বাদুগাছা গ্রামের প্রভাবশালী শ্রীরাম রাজাধীরাজের মুখোমুখি হয়ে পড়েন। এবং কিটুটা বাধাগ্রস্থ হন। ফলে তিনি মুসলিশ ধর্ম প্রচারে অধিক উৎসাহী হয়ে এই বারোবাজারে এক যুগকাল অবস্থান করেন তার দৃঢ় মনোবল উদারতা, দানশীলতা ও মাহনুবভতায় এলাকাবাসী মুগ্ধ হয়ে পড়েন। এলাকার অনেক অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহনে ঝুকে পড়েন। এভাবে একযুগ অবস্থানের পর তিনি এক শিষ্যের তত্ত্বাবধানে দিয়ে তিনি শেষ জীবন বাগেরহাটে অতিবাহিত করেন। খানজাহান আলীর এক যুগ সাধনার স্থাপত্য নিদর্শণ রয়ে গেছে এই বারোবাজারে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নিদর্শন ৩২ গম্বুজ বিশিস্ট সাত গাছিয়া আদিনা মসজিদ ও বারোবাজার গলাকাটা দিঘির ৬ গম্বুজ বিশিস্ট একটি মসজিদ। যে মসজিদটি অনন্তকাল ধরে মাত্র দুটি ভিত্তির উপর দন্ডমান রয়েছে। এছাড়াও এখানে রয়েছে অগণিত মসজিদ। যে কোন মাটি ডিবি সরালেই মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। যার অনেকগুলো ইতোমধ্যে আবিস্কার করে আংশিক সংস্কারও করা হয়েছে। এখনও অনেক মসজিদ মাটির নিচে রয়েছে বলে ধারণা করা যায়। কারণ এ পর্যন্ত যতগুলো মাটির ডিবি সরানো হয়েছে ততগুলো মসজিদের সন্ধান পাওয়া গেছে। কিংবদন্তি আছে বহুকাল আগে এই বারোবাজার যুদ্ধে অথবা মহামারিতে জনশুন্য হয়ে পড়ে। এরপর এখানে বারোজন আওলিয়ার আগমন ঘটে এবং তখন থেকেই সৃষ্টি হয়েছে অগণিত মসজিদ,পুকুর আর দিঘি। জলাশয়ের ঘটনাগুলো জনসাধারণ উপলব্ধি করলেও মসজিদগুলো মাটির ডিবির নিচে থাকতে পারে এর গুরুত্ব এতদিন কেউ উপলব্ধি করতে পারেনি। কারণ প্রতিটি জলাশয়ের পাশেই অবস্থিত একটি করে মসজিদ। আর সেই মসজিদের সিড়ি জলাশয় পর্যন্ত পাকা করা ছিল। এসব পাকা সিড়ির ওপর প্রায় ৮/১০ ফুট পর্যন্ত মাটি চাপা পড়ে জনসাধারনের অদৃশ্যে হয়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের খুলনাস্থ প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের কর্মকর্তারা কয়েক বছর আগে এখানে ক্যাম্প স্থাপন করে কিছু মসজিদ ও পাকা সিড়িগুলো আবিস্কার করেছেন। এছাড়াও কয়েকটি মসজিদ সংস্কার করেছেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিক ঠান্ডু দৈনিক দিনকাল কে জানান, বারোবাজারের এই প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের তেমন প্রচার না থাকায় মুলত পর্যটক শুন্য। এছাড়াও আবাসিক হোটেল না থাকায় পর্যটকদের নজর কাড়তেও ব্যর্থ হচ্ছে ফলে বর্তমান প্রজন্মের ইতিহাস- ঐতিহ্য সম্পর্কেও জানতে পারছে না। সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে পর্যটকদের উৎসাহিত করলে এবং সরকারিভাবে মসজিদগুলোর শোভাবর্ধনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করলে হতে পারে এটি পর্যটনকেন্দ্র ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here