কালীগঞ্জে হলুদ ড্রাগন চাষ করে ব্যাপক সফলতা

0
141

মাহাবুবুর রহমান , কালীগঞ্জ ( ঝিনাইদহ ) প্রতিনিধি ॥ এলাকার লোকজন কিছুটা ঠাট্টা করে বলতেন, এসব কাঁটার গাছ কেন? কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই কাঁটার গাছগুলো ফলবতী হয়ে উঠেছে। এই প্রথম হলুদ ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করে বেশ লাভবান হয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগর গ্রামের সুরোত আলী। গড়ে তোলা ড্রাগন বাগানটি বাণিজ্যিক ভাবে সফল হয়েছে। কালীগঞ্জ উপজেলার শিবনগর , চাঁচড়া , আজমতনগর গ্রামে এই হলুদ জাতের ড্রাগনের চাষ শুরু হয়েছে। এই জাতটি সম্পুর্ন ভিন্ন জাতের। শিবনগর গ্রামের সুরোত আলী এক একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করে ব্যাপক সফল হয়েছেন। সে প্রথমে সখের বশিভুত হয়ে পরে বানিজ্যিক ভিত্তিতে ফলের চাষ করেছেন। সুরোত আলী বলেন, আমার এক আত্বীয় হলুদ ড্রাগন ফলের চাষ করেছে। তার ড্রাগন ফলের চাষ দেখে তিনি সে এ ফলের আবাদ করার সখ পোষন করেন। টেলিভিশনে বিভিন্ন প্রতিবেদন দেখে ও তিনি উৎসহিত হন। শুরুতে সামান্য কিছু চাষ করেন। বর্তমানে এখন এক একর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ করেছেন। প্রতিটি চারা ৫শ টাকা করে ক্রয় করছেন। এ জাতের ফল বাগান খুব বেশি আবাদ হয় না,কারন সম্পর্কে সুরোত আলী বলেন, হলুদ রং এর কারনে চারার দাম অনেক বেশি। তার বাগানের ড্রাগন গাছকে ওপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে দেয়া হয়েছে। ড্রাগনের চারা বা কাটিং রোপণের ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই ড্রাগন গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। এ ফল ৪০০ গ্রাম ৫০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হচ্ছে। আন্তজার্তিক বাজারে এ ফলের দাম অনেক বেশি বলে জানান। শুরুতেই প্রতিটি গাছে ১৫ টি করে ফল ধরেছে। ফল পেকে গেলে ও অনেক দিন গাছে রাখা যায় ও নিজের ইচ্ছামত কাটা যায়। পাইকারি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা দরে। এ ছাড়াও এখন প্রতিদিন তার খামার থেকে বিক্রি হচ্ছে ড্রাগন গাছের চারা। ড্রাগন বাগান দূর থেকে দেখলে মনে হয় সযত্নে ক্যাকটাস লাগিয়েছে কেউ। মৌসুমে বাাগনে গেলে চোখ জুড়িয়ে যায় বাহারি রঙের ফুলে ভরা খামার দেখে। ফলের চারা রোপণের জন্য ২০-৩০ দিন আগে প্রতি গর্তে ৪০ কেজি গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি ১০০ গ্রাম করে এবং জিংসাম, বোরন ও জিংক সালফেট ১০ গ্রাম করে দিয়ে, গর্তের মাটি উপরে-নিচে ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। তবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো ভালো বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here