স্বামীর হাত থেকে বাঁচতে রওশন আরা পারভীনের পলাতক জীবনযাত্রা

0
116

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : স্বার্থ এমন বস্তু যে তার কাছে হারমানে স্বামী-স্ত্রী, পিতা ও সন্তানের সামাজিক সম্পর্ক। যশোর জেলার বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা পুখুরিয়া গ্রামের এমনি এক গ্রাম্য পশু ডাক্তার কাওছার আলী স্ত্রীর নামে থাকা অতি মূল্যবান জমি বাড়ি দোকান হস্তগত করতে স্ত্রী ও সন্তানকে বার বার হত্যার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। নিজে যেমন তাদের হত্যার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তেমনি ভাড়াটে কিলার ও মাস্তান ভাড়া করেছেন তাদের হত্যা ও লাশ গুমের জন্য। প্রাণভয়ে স্ত্রী ও পুত্র বর্তমানে পালিয়ে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। ঐ নরাধম স্বামী ও পিতা এখন হন্যে হয়ে স্ত্রী ও সন্তান কে খুন করার অভিপ্রায়ে খুজে বেড়াচ্ছেন। স্ত্রীর নামে থাকা জমি ও বসতবাড়ি দুটোই সে জবর দখলের মাধ্যমে ভোগ দখল করছে। ঘটনার এখানেই শেষ নয়, স্ত্রী ও পুত্র কে হত্যার জন্য এই নরাধম গ্রাম্য ডাক্তার ভাড়াটে খুনী ভাড়া করেছেন। পালিয়ে না খেয়ে না দেয়ে এরা এখন মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। জানা গেছে, স্ত্রী রওশন আরা পারভীনের নামে থাকা ৮৭ দশমিক ৬৬ শতক জমি জবর দখলে রেখে স্ত্রী ও পুত্র কে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে গ্রাম্য পশু ডাক্তার। জোর পূর্বক স্ত্রীকে তালাক পত্রে স্বার দিতে বাধ্য করার পাশাপাশি একটি জাল দলিল তৈরি করেছেন অন্যকে রওশন আরা পারভীন সাজিয়ে। এতদ সংক্রান্ত একটি মামলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী বাঘারপাড়া আদালতে করেছেন ভূক্তভোগী এই নারী। মামলা নং পি ৭৪/১৭। বিজ্ঞ সদর সহকারী জজ ও পারিবারিক জজ আদালতে আরো একটি মামলা করেছেন এই ভূক্তভোগী নারী। নাম্বার ৯৮/১৭। দেনমোহর ও খরপোষের দাবিতে এই মামলাটি করা হয়েছে। অথচ মামলা যথাযথ পরিবীনের অভাবে আদালত খারিজ করে দিয়েছে। তবে বাদি আবারো মামলাটি নতুন ভাবে লড়তে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ছাতিয়ান তলা ভায়া বাঘারপাড়া লিংক পাকা রোড সংলগ্ন পাঁচতলা প্লানের এক তলা বাড়ি, ছয়টি দোকান ও জমি যার বর্তমান বাজার দর প্রায় দুই কোটি টাকা দখলে নিয়েছে স্বামী ও পিতা নামের ঐ নরাধম গ্রাম্য পশু ডাক্তার কাওছার। বিপরীতে একমাত্র পুত্র কে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে সু-বিচারের আশায় ঘুরছেন রওশন আরা পারভীন। প্রাণ ভয়ে তিনি নড়াইলের পিতার বাড়ি ছেড়ে যশোর শহরে আত্মগোপন করে পলাতক জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। বাঘারপাড়ার সাব রেজিস্ট্রার মো: রিফাতুল ইসলাম জাল দলিলের বিষয়ে বাদি বিবাদি উভয় পকে তার দপ্তরে ডাকলেও কাওছার আলী বিশ্বাস হাজির হননি। অথচ আসামি একজন নারীকে রওশন আরা পারভীন সাজাইয়া একটি দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন যার নাম্বার ২৭০৫/১৬। এই দলিলটি বাতিলে ১টি মামলা ভূক্তভোগী বিজ্ঞ আদালতে করেছেন। অথচ মৃত দ্বীন মোহাম্মদ বিশ্বাসের পুত্র কওসার আলী মৃত মুনসুর খানের কন্যা এবং তার স্ত্রী রওশন আরাকে জেএল ৯১ নং পুখুরিয়া মৌজায় ৭১ শতক জমি হেবা দলিল করে দিয়েছেন। আর এস ৩৯২৯ দাগে ২৬ শতক, ৩৭১৫ দাগে এক শতক, ৩৯২৭ দাগে ৩০ শতক, ৩৯৭০ নং দাগে আট শতক, ৩৯২৮ দাগে ছয় শতক জমি দিয়েছেন। ছাতিয়ানতলা জানা যায়, ২৮/১২/২০০৯ সালে উভয় পরে অভিভাবকদের মতামতে উভয়ের বিবাহ হয়। এই বিয়ের দেন মোহর ছিল তিন লাখ টাকা। এরপর তাদের একটি সন্তান হয়। কাওছার আলী বিশ্বাস একটি তালাক পত্র রেজিস্ট্রি করে নড়াইল সদর পোষ্ট অফিসে পাঠিয়েছেন। বাদি ২৪/০১/২০১৯ তারিখে পিতার বাড়ির ঠিকানায় তা গ্রহন করেন। খুলে তিনি দেখতে পান তাকে ৬/০২/১৮ তারিখে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন। এই দম্পতির একমাত্র পুত্র মেহতাব চৌধুরী রুপম এখন ১২ বছরের কিশোর। সে সেক্রেড হার্ট মিশন স্কুলের ছাত্র। তারা ্এখন আত্মগোপনে যশোর শহরে বসবাস করছেন। তালাকের পর কখনো ছেলের কোন খোজ খবর নেননি ঐ কাওছার আলী। বরং তাকে ও তার মা কে কয়েক বার হত্যা করতে অপচেষ্টা চালিয়েছে এই পাষন্ড পিতা। সে ও তার ভাড়াটে খুনী মাস্তানরা হন্যে হয়ে মা ও পুত্রকে খুজে বেড়াচ্ছে। আদালতে গত ৪/০৯/২১ তারিখে আরেকটি পিটিশন দাখিল করেছেন অভিযুক্ত কাওছার আলী বিশ্বাস।
রওশন আরা পারভীন ও তার কিশোর পুত্র মেহতাব চৌধুরী রুপম তাদের অধিকার ও নিজ বসতবাড়ি, জমি ও দোকান ফিরে পেতে সুধীজন ও সংশ্লিষ্ট কর্তপরে হস্তপে কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here