ঢাকা ব্যাংক লি: কর্মকর্তা কৌশিকের বিরুদ্ধে যশোরের আদালতে যৌতুক মামলা

0
9

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : ঢাকা ব্যাংক লি: এর নারায়নগঞ্জ নিতাইপুর শাখার একজন ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী সদর) আদালত যশোরে মামলা হয়েছে। মো: জামেরী মোস্তফা কৌশিক নামে ঐ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ (২০১৮) এর ৩ ধারায় মামলাটি রজ্জু হয়েছে। মামলা নং সি আর ১২৬২/২১। মামলার বাদি যশোর সদর উপজেলার আরবপুর পঞ্চগলির জি এম জুলফিকার আলীর কন্যা তাহমিনা আলী (৩৫)। আসামি নারায়নগঞ্জ জেলার টান বাজার ১১ এস এম সালেহ রোডের বাসিন্দা।
মামলার বিবরনে বাদি বলেছেন, তার পিতা ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে চাকুরিকালীন সময়েই ঢাকা ব্যাংকের কর্মকর্তা এই আসামির সাথে বিগত ২৯/০৮/২০১৪ তারিখে তার বিয়ে হয়। বিবাহের সময়েই আসামি ফ্লাট ক্রয়ের জন্য ত্রিশ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এছাড়াও বিয়ের সময় সোনার আংটি, স্বর্নের চেইনসহ বিভিন্ন আসবাব পত্র প্রদান করা হয়। বিয়ের পর থেকে আসামি তার স্ত্রীকে নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে জামেরী মোস্তফা কৌশিককে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দেন তাহমিনা আলীর পিতা। এরপরেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি বাকি ২৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মারধোর তথা শারিরীক নির্যাতন করে শিশু সন্তানসহ স্ত্রী কে তার পিতার বাড়ি পাঠায়ে দেয়। পরে মামলার স্বাক্ষীরা আসামিকে মীমাংসার কথা বলিলে তিনি শশুরালয়ে এসে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে যৌতুকের বকেয়া টাকা ২৫ লাখ না দিলে সে সংসার করিবেনা। প্রয়োজনে সে অন্যত্র বিবাহ করবে বলেও দম্ভোক্তি করে। যৌতুক গ্রহন যে সামাজিক অপরাধ তা তার কথাবার্তায় মনেই হয়না। সে যৌতুকের টাকা ছাড়া একদিনও সংসার করবে না বলে বারবার শশুর পক্ষকে আল্টিমেটাম দেয়। এই আসামি ও স্বামী ভয়ঙ্কর নির্যাতনকারী ও যৌতুকলোভী।
মামলার বাদির পরিবারের লোকজন বলেন, জামেরী মোস্তফা কৌশিক একজন অতি ধুরন্ধর ও চালাক। সে শশুরের টাকায় নিজের বাড়ি গড়ার স্বপ্নে বিভোর। যৌতুক অপরাধ করাকে সে কিছুই মনে করেনা। এমনকি সে এতদ আইনের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল নয়। সে লেখাপড়ায় শিক্ষিত হলেও একজন নরপিশাচ। নইলে কি করে তিনি স্ত্রীকে বর্তমান ভদ্র ও আধুনিক সমাজে মারধোর করতে পারেন। এই স্বামীর নির্যাতনে বাদি তাহমিনা আলী বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার আরবপুরে নিজ পিত্রালয়ে অবস্থান করছেন।
যৌতুক এই মামলার স্বাক্ষী হলেন চারজন। এরা হলেন, ১. আরবপুর পঞ্চগলির মৃত জোহর আলী গাজীর পুত্র জি এম জুলফিকার আলী, ২. একই এলাকার মৃত আবুল খায়েরের পুত্র মাহবুবুর রহমান ( মোহন) ৩. আরবপুরের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র আ: কাদের ও ৪. একই গ্রামের মৃত মহর আলী বিশ্বাসের পুত্র আ: আজিজ। আইনজীবি কাজী ফরিদুল ইসলাম বাদির পক্ষে মামলাটি আদালতে পরিচালনা করছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here