প্রতিমাসে ৭ কোটি টাকার গরিবের ঔষুধ চলে যাচ্ছে যশোরের ফার্মেসিগুলোতে

0
6

ডি এইচ দিলসান : ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বর্তমানে বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ হলে বর্তমানে যশোরের কিছু অতি মুনাফাভোগী ঔষধ ব্যবসায়ীদের কাছে এর চাহিদা অনেক বেশি। দরিদ্র রোগিদের জন্য ঔষুধ কোম্পানির দেওয়া এ সব ফ্রি স্যাম্পল ডাক্তার এবং মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের হাত হয়ে চলে যাচ্ছে ফার্মেসিতে। বিক্রয় নিষিদ্ধ ঔষধ হওয়ায় ফায়দা লুটছে ব্যবসায়ীর। তারা অর্ধেক দামে ডাক্তার এবং রেপ্রেজেন্টেটিভদের কাছ থেকে এই ঔষুধ কিনে থাকে, এতে লাভবান হয় তিন পক্ষই।
যদিও ঔষুধ প্রশাসনের সুত্র মতে গত ১ বছরে প্রশাসন যশোরের বিভন্ন ফার্মেসিতে ফিজিসিয়ান মেডিসিন পাওয়ার কারনে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না ফিজিসিয়ান মেডিসিন ক্রয় বিক্রয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যশোরে দায়িত্বরত একটি স্বনামধন্য ঔষুধ কোম্পানির ম্যানেজার বলেন, আমাদের একজন এমপিও প্রতি মাসে কমপক্ষে ৬০ হাজার টাকার ফিজিশিয়ান স্যাম্পল পেয়ে থাকেন। যশোরে বর্তমানে ৭০টি ঔষুধ কোম্পানির ডিপো আছে, প্রতিটি ডিপোর নিয়ন্ত্রনে কম পক্ষে ১৫-২০ জন এমপিও আছে সেই হিসাবে প্রতি মাসে যশোর জেলায় প্রায় ৭ কোটি টাকার ফিজিশিয়ান স্যাম্পল চলে যাচ্ছে দোকানীদের হাতে, যেটি ঔষুধ কোম্পানিগুলো প্রোভাইড করে দরিদ্র রোগিদের জন্য।
ঔষধ কোম্পানি ঔষধ বাজারজাত করতে বিভিন্ন ধরণের কৌশল অবলম্বন করে থাকে তার অন্যতম হলো স্যাম্পল দিয়ে সুবিধা দেয়া। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির মার্কেটিং রিপ্রেজ্ন্টেটিভরা ঔষধ বিক্রয় করতে টার্গেট পেয়ে থাকে যা পূরণ করতে হয়। প্রতি মাসে কমার্শিয়াল ঔষধের সাথে তাদের প্রচুর পরিমানে স্যাম্পল ঔষধ দেয়া হয় যা আসলে দরিদ্র রাগীদের জন্য ডাক্তার সাহেবরা পাওয়ার কথা। কিন্তু কোম্পানির মার্কেটিং রেপ্রেজেন্টেটিভরা অর্ধেকটা ডাক্তার আর অর্ধেকটা ঔষধের দোকানদারদের দিয়ে দেয় যা থেকে দুপক্ষই সুবিধা নেয়।
শংকরপুরের মহিউদ্দিন নামে এক ঔষুধ ক্রেতা বলেন আমি আদ্বদীন হাসপাতালের সামনে তরফদার ফার্মেসি থেকে ঔষুধ নিয়ে দেখি ঔষধের গায়ে ফিজিসিয়ান স্যাম্পল লাগানো। তিনি বলেন যদিও আমি ফিজিসিয়ান ব্যাপারটা বুঝতাম না, কিন্তু এখন জানি ফিজিসিয়ান মানে বিক্রয় নিশিদ্ধ ফ্রি ঔষুধ।
নুর পুরের রবিউল ইসলাম নামে এক ক্রেতার সাথে কথা হলো বঙ্গবাজারের সামনে। কি ঔষুধ কিনেছেন দেখতে চাইলে ঔষুধ কোম্পানির লোক মনে করে একটু দ্বিমত প্রকাশ করলেও সংবাদ কর্মী পরিচয় দিলে দেখান। তার বাচ্চার জন্য হানিবাস, জিথ্রক্স ও এইচ সিরাপ কিনেছেন।এর একটিতে কোন রেট নেই আর ২টিতে ফিজিসিয়ান স্যাম্পল লাগানো। রবিউলেল কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে কোন কিছু জানেন না বলেন, প্রথমে ক্ষেপে গেলেও যখন জানতে পারে ঔষুধটি ভেজাল নয়, কিন্তু বিক্রয করার জন্যও নয় তখন একটু শান্ত হয়ে দোকানীর উপর চড়াও হয়, পরে ওই ঔষুধ ফেরত নিয়ে নতুন ঔষুধ দিতে বাধ্য হন ও দোকানী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানী জোর গলায় বলেন, এই বঙ্গবাজারের প্রত্যেকটা দোকানে ফিজিসিয়ান ঔষুধ পাবেন। কেন রাখেন এই ঔষুধ, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডাক্তারের এ্যাটেনডেন্স আর কোম্পানির এমপিওরা অর্ধেক দামে আমাদের ঔষুধ দিয়ে যায়, তারপরও বলে বেচে টাকা দিতে, তাই নিয়ে থাকি। তিনি আরো বলেন গ্রাম গজ্ঞের গ্রাম্য ডাক্তাররা এসে এই ঔষুধ খোজে, তারা একটু কম দাম পেলে বেশি লাভ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, শুধু বঙ্গবাজার নয় বিসিডিএস মার্কেট সহ সদর হাসপাতালের সামনে ভেজাল আর নিমাœমানের ঔষুধের ডিপো সব।
এ ব্যাপারে স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যালের ম্যানেজার মাহামুদুল হক বলেন, যশোর শহরের ডাক্তারদের জন্য আমার কোম্পনি প্রতি মাসে ২০ লক্ষ টাকার পিজিসিয়ান স্যাম্পল দেয়। এগুলো আমার এমপিওরা ডাক্তারদের দিয়ে দেয়। এই ঔষুধগুলো কিভাবে দোকানে চলে যায় জানতে চাইলে তিনি বলেন আমিও শুনেছি দোকানে এই ঔষুধ গুলো পাওয়া যায়, তবে কিভাবে যায় আমার সেটা জানা নেই।
ঔষধ প্রশানাসন অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত বাজার মনিটিরিং করছি, কয়েকটি ফার্মেসির নিবন্ধন বাতিলের জন্য সুপারিশও করেছি। তিনি বলেন আপনাদের সহযোগিতায় বন্ধ হতে পারে বিক্রয় নিশিদ্ধ এসব স্যাম্পল ঔষুধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here