শীতকালীন আগাম সব্জী চাষে ব্যস্ত যশোরের কৃষক

0
5

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোরে শীত মৌসুমের তরি তরকারি আগাম চাষের ধুম পড়েছে। আগাম এই শাকসব্জী পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লাখ লাখ চাষী। এবার বৃষ্টির কারণে চাষিরা সময়মতো সবজি চাষ শুরু করতে না পারলেও শেষ দিকে পুরোদমে তারা চাষে নেমে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে যশোরে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৪০ শতাংশ জমিতে বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়েছে। আগামি এক থেকে দেড় মাসের ভেতর এই সব্জী বাজারে তুলতে পারবেন কৃষক।
কৃষক বলছেন, সামনে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ আগাম জাতের সবজি উৎপাদন হবে। জেলার চৌগাছা পাতিবিলা, নারায়নপুর, পুড়াপাড়া, ঝিকরগাছার গদখালী, বেনেয়ালী, ছুটিপুর, কায়েমকোলা, সদর উপজেলার সাতমাইল, চুড়ামনকাটি, বারিনগর, হৈবতপুর, কাশিমপুর, বন্দবিলা, লেবুতলা, নোঙরপুর, ইছালি ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে চাষ করা হয়েছে বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম, মুলা, লালশাক-পালংশাক, সবুজ শাকসহ নানা ধরনের সবজি। আগাম শীতকালীন চাষ করলে ফসলের বেশি দাম পাওয়া যায়। তাই পুরোদমে চলছে মাঠ প্রস্তুত, বীজ বপন, চারা রোপণ ও পরিচর্যার কাজ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন শুধু সবুজের সমারোহ।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, দেশের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তরি তরকারি যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের হাত ধরে এই সব সবজি চলে যায় রাজধানীসহ বরিশাল, মাদারিপুর, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, খুলনার বিভিন্ন স্থানে। প্রায় বছরজুড়েই এ অঞ্চলের চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করে থাকেন। প্রতি বছর শীত মৌসুম ঘিরে সবজি চাষের ধুম পড়ে এ জেলায়।
যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ জুড়ে শুধুই সবজি তরি তরকারির ক্ষেত। পুইশাক, ডাটা শাক, পোল্লা, বেগুন, কাচামরিচ, শীম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পালংশাক, লালশাক, সবুজ শাক, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ শুরু করেছেন কৃষক। এসব ক্ষেত পরিচর্যা করছেন কৃষক ও তাদের দিনমজুর জন। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের পাশে রাজাপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষিদের সাথে। এরা জানান, এ বছর দীর্ঘ অনাবৃষ্টি আর তীব্র গরমে সময়মতো শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করা যায়নি। এ কারণে একটু দেরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহ থেকে এ অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় আমরা এখন পুরোদমে চাষাবাদ শুরু করেছি।
সাহেব আলী নামে আরেকজন কৃষক বলেন, শীতকালীন সবজি উৎপাদনে উপযুক্ত সময়ের আগেই আমরা সবজি বাজারে তুলতে চাই। এ জন্য একটু আগেভাগে সবজি চাষ শুরু করেছি। আশা করছি আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে এবং ভালো দাম পাবো। তবে সবজি বাজারে তোলার সময় কাক্সিক্ষত দাম পাবো কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছি আমরা। পাশেই নোঙরপুর মাঠে কথা হয় সবজি চাষি আহাম্মদ, করিম ও শরিফুল ইসলামের সাথে। শরিফুল বলেন, প্রতি বছর আমরা এ অঞ্চলের চাষিরা বিপুল পরিমাণ জমিতে বাঁধাকপির আবাদ করি। কয়েক দিনের মধ্যে এসব ফসল বাজারে তুলতে পারবেন বলে জানান তিনি।
ঝিকরগাছা উপজেলার কাশিপুরের কৃষক সাবেক মেম্বর হাফিজুর রহমান বলেন, তারা এবার বেগুন ও পুইশাক আবাদ করেছেন। পুইশাক এমাসে হাটে তোলা যাবে। তবে বেগুন উঠতে পারে অক্টোবরে। বর্ষায় বেগুনের খানিক ক্ষতি হচ্ছে। এতে অবশ্য তিনি চিন্তিত নন। কেননা আবহাওয়া যদি ঝড়ো না হয় তবে বর্ষা বেগুনে সেভাবে প্রভাব ফেলবেনা।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, যশোর সবজি জোন হিসেবে অনেক আগে থেকেই পরিচিত। প্রায় সারা বছর এ জেলার চাষিরা নানা জাতের সবজি চাষ করেন। বিগত কয়েক বছর বাজারে সবজির ভালো দাম থাকায় কৃষক লাভবান হয়েছেন। এ ধারা এবারো থাকার আশা রয়েছে। এসব কারণে চাষিরা শীত সামনে রেখে আন্তরিকতায় যতœ সহকারে সবজি চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, শীতকালীন আগাম জাতের এসব সবজি চাষ লাভজনক করে তুলতে আমাদের মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কারিগরি সহায়তার পাশাপাশি নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে নিয়মিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here