সৌন্দর্য্য আর ঔষধী গুণে ভরা করমচা আকারে ছোট হলেও গুণে বড়

0
9

মিশন আলী,স্টাফ রিপোটার,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) : বর্ষার ফল করমচা ঔষধী গুনে ভরা এ ফলটি নিয়ে ছোট বেলায় আমরা ছড়া পড়েছি ”আয় বৃষ্টি ঝেপে, ধান দেব মেপে। লেবুর পাতায় করমচা, যা বৃষ্টি ঝরে যা”। অনেকের হয়তো করমচা এ ফলটার গুণের কথা জানেনা। স¤প্রতিকালে এই ফলটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে চাষ করা হচ্ছে। শহওে জীবন যাপনেও অনেকে সৌখিন ভাবে ছাদ কৃষিতে চাষ করছেন। কৃষিতে আধুনীকরনের জন্য উচ্চ ফলনশীল করমচার চারা নার্সারীতে পাওয়া যায়। আঙ্গুর ফলের আকারে ছোট এ ফলটি বিভিন্নরঙ ও স্বাদেও হয়ে থাকে। বর্ষার মৌসুমে গ্রাম এলাকার বাজার গুলোতেও বর্ষার এই ফলটি দেখা যায়। ফলিত পুষ্টিবিদদের ভাষ্য মতে, এ ফল ভিটামিন সিতে ভরপুর ও ঔষধী গুণে ভরা। যা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে কাজ করে তাই বাজারে এ ফল দেখলেই কেনার জন্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা ভিড় করে। এ মৌসুমে বৃষ্টি ভেজা করমচা ফল, পাতা ও গাছ দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। বাজাওে উপকারী এ ফলটির দাম ফলন উভয়ই ভালো। তাই অনেকেই ঝুকছেন করমচা চাষে।
তথ্য ভান্ডার উইকিমিডিয়ার থেকে জানা যায়, করমচায় ভিটামিনসি ও আয়রনে পরিপূর্ণ। করমচা দিয়ে আচার ও সুস্বাদু জেলি তৈরি করা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশে বহুকাল আগে থেকে করমচ ওষুধ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। করমচা ফলের বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসাক্যারান্ডাস। উদ্ভীদ জগতের এপোসিনেসিয়া পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। পার্শবতীর্ দেশ ভারতে এই করমোচার অতিপরিচিত নাম কারাউন্ডা।
ঔষধি এই ফলের গাছ রোপন করেছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামের বীজ ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান বাবুল। প্রথমে অনেকটা শখের বসে লাগালেও এখন বুঝতে পারছেন ফলটা অনেক দরকারী। এই ফল প্রায় সারা বছরই তরকারি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে যখন অনেক ফল আসে তখন পাকা করমচার রস দিয়ে জেলি তৈরি করা হয়। যা খেতে অনেক সুস্বাদু।
কামরুজ্জামান বাবুল জানান, সব থেকে ভালো লাগে যখন ফল আসে, তখন গ্রামের সব বয়সি মানুষ এই ফল নিতে আসে। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই ফল পেয়ে খুব খুশি হয়।
তিনি আরো জানান, ফলটি বৃষ্টির পরশ পেলেই যেন লালচে হতে শুরু করে। এটি দেখতে অনেকটা কুলের মত। খেতে টক, জিব্হায় রস আনার মত। তবে এটি পাকলে দেখতে অনেকট জামের মত কালচে রুপ ধারন করে। তখন খেতে কিছুটা মিষ্টি স্বাদ লাগে। পুরো গাছ ভরে থাকে থোকায় থোকায়। একটি থোকায় তিন থেকে আটটির মত ফল হয়।
গাছে যখন ফুল আসে দেখতে অনেকটা বকুল ফুলের মত। এই ফুল থেকে ফল হয়। ফলের রং প্রথম দিকে হয় সবুজ অথবা সাদাটে। তারপর ক্রমেই লালচে হতে শুরু করে। সম্পূর্ণ পেকে গেলে এটি গাড় লাল থেকে কাল বর্ণ ধারণ করে। এ সময় ফলটি মুখে দিলে লাল রসে ভওে যায়। খেতে টক-মিষ্টি স্বাদ। তবে ফলটি পাকার আগে যখন এর বর্ণ সবুজ থাকে তখন এতে কাঁঠালের মত সাদা আঠা জাতীয় পদার্থ থাকে। এ সময় খেতে টক লাগে।
বর্তমানে দেশের প্রায় সর্বত্র কৃষি বা বৃ মেলা হয়। এসব মেলায় বা বিভিন্ন হাটে বাজারে মাত্র ১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার মধ্যে একটি চারা কিনতে পাওয়া যায়। একটু যন্ত সহকারে রোপন করলেই দু’ এক বছরের মধ্যেই গাছে ফল আসে। এমনকি চারা রোপনের এক বছরের মধ্যেও অনেক গাছে ফল আসতে পারে।

বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষনা ও প্রশিন ইনস্টিটিউটউ বর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক প্রধান কৃষিবিদ ডঃ মোঃ নুর আলম জানান, করমচা ফলটি অত্যন্ত ঔষধী ও পুষ্টিগুণে ভরা। এতে রয়েছে ভিটামিন এ,বি ও সি। এতে থাকা কার্বহাইড্রেট কর্মমতা বৃদ্ধি করে। বাত জনিত রোগ, ব্যথা জনিত জ্বও নিরাময় করে। যকৃত ও কিডনি রোগ নিরাময়ে সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের দূষন বহিষ্কার করনে সহায়তা করে। কৃমিনাশক কাজ করে। পেটের বিভিন্ন অসুখে করমচা উপকারী। শরীরের কান্তি দূর করতে করমচার রশ বেশ কার্যকরী। স্কার্ভি ও দাঁতের রোগ নিরাময় করে। চুলকানী সহ চামড়ার নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। শরীরের অভ্যন্তরীন রক্ত রন কমাতে সাহায্য করে। করমচায় কোন ফ্যাট বা কোলেস্টেরল নেই তাই ডায়াবেটিস ও হার্টেও রোগীদের জন্য এ ফল উপকারী। মৌসুমী সর্দি জ্বর দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। সবশেষে বলা যায়, করমচা আকারে ছোট ফল হলেও ঔষধের গুণে অনেক বড়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here