সাতীরার দেবহাটার খলিশাখালিতে ১৩’শ ২০ বিঘা জমি ভুমিহীন নামধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক জবর দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার ও প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিকদের কাছে ফিরে দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

0
96

সেলিম রেজা মুকুল সাতক্ষীরা ঃ সাতীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালিতে ১৩’শ ২০ বিঘা জমি ও মৎস্য ঘের স্থানীয় ভুমিহীন নামধারী ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী কর্তৃক অবৈধভাবে জবর দখলের প্রতিবাদে ও উক্ত সম্পত্তি উদ্ধার করে তা প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিকদের কাছে দখল ফিরে দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসকাবের আব্দুল মোতালেব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন, দাবীকৃত জমির মালিক আইডিয়াল’র পরিচালক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, কাজী গোলাম মোরশেদ ও আলহাজ¦ মোঃ আনছার আলী। তাদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, খলিশাখালিতে আমাদের রেকর্ডীয় ও লীজকৃত ৩০টি খন্ডে বিভক্ত বিস্তীর্ণ জমি স্থানীয় কিছু ভূমিহীন নামধারী এবং জেলা ও জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ৭ শতাধিক সন্ত্রাসী অস্ত্রেসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গত শনিবার ভোররাতে আমাদের লীজ গ্রহীতা ও মৎস্য ঘেরের কর্মচারীদের মারধর করে জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এসময় তারা উক্ত মৎস্য ঘের থেকে আনুমানিক ৪ কোটি টাকার মাছ লুটপাট এবং ঘেরের বাসাবাড়ি ভাংচুর করে আনুমানিক ৩৬ লক্ষাধিক টাকার তিসাধন করে। তাৎক্ষনিকভাবে প্রতিকার চেয়ে দেবহাটা থানা কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। এমনকি উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের কয়েকজন জমির মালিক দেবহাটা থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ কোন মামলা গ্রহন না করে তাদের ফিরিয়ে দেন। নিরুপায় হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা কোর্টে মামলা দায়ের করা হলে আদালত মামলা গ্রহন করে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তারা বলেন, ১৮১২ নং সিএস খতিয়ানে ১১১৭৫ নং দাগসহ ২৭টি দাগে উল্লেখিত ৪৩৯.২০ একর (১৩’শ ২০ বিঘা) জমির মালিক চন্ডীচরণ ঘোষ। সেখান থেকে বিভিন্ন কোবলা দলিল, পাট্টা দলিল ও কোর্টের রায় মোতাবেক এসএ ২৯৬২ থেকে ২৯৮০ খতিয়ানে রেকর্ড প্রকাশের পূর্বে কলিকাতা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে বিগত ০৮/০৩/৫৩ তারিখে ৬৯৪ নং বিনিময় দলিল মূলে দেবহাটা থানার তেজেন্দ্রনাথ চৌধুরীর পুত্র সুরেন্দ্রনাথ চৌধুরীরর সাথে বিনিময় করেন। এসএ রেকর্ড পরবর্তী উক্ত বিনিময় দলিলের গ্রহীতা শিমুলিয়া গ্রামের কাজী আব্দুল মালেক এর ওয়ারেশগণসহ ক্রমিক হস্তান্তর সূত্রে অপরাপর মালিকগণ বর্তমানে বিএস রেকর্ড প্রাপ্ত হন এবং তৎপরবর্তী প্রিন্ট পর্চাসহ প্রায় ৩০০ মালিকের নামে প্রায় ২০০টি পর্চায় উক্ত সমুদয় সম্পত্তি গেজেট প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে অনেক মালিকগন হালসন পর্যন্ত খাজনাও পরিশোধ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করেন যে, উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করার অসৎ উদ্দেশ্যে সাতীরা যুগ্ম জেলা জজ আদালতে জনৈক জোনাব আলী ১৮/২০১০ নং মামলাটি দায়ের করেন। উক্ত মামলার স্বত্বের কোন বিচারিক কার্যক্রম শুরু না করে বাদীপ আদালতে প্রভাব বিস্তার করে নিজস্ব ব্যক্তিবর্গের নামে রিসিভার গ্রহণ করেন। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আমাদের বিবাদী পরে দায়ের রিভিশন মামলা নং ২১৬/১২ এবং ২৫৬৮/১৬ এর আদেশে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক মহামান্য হাইকোর্ট মূল মামলা ১৮/২০১০ খারিজ করেন এবং নিন্ম আদালত কর্তৃক দেয়া রিসিভার বাতিল করেন। এরপর আমরা হাইকোর্টের আদেশ জেলা যুগ্ম আদালতে দাখিল করলে এই আদালতও মুল মামলা খারিজ এবং রিসিভার বাতিল করে দেন। পরবর্তীতে বাদীপ সুপ্রিম কোর্টে আপীল করলে সেখানে জেলা প্রশাসক উক্ত সম্পত্তির স্বত্ব প্রচারের জন্য নিন্ম আদালতে মামলা দায়ের করতে পারেন বলে আদেশ দেন। সেেেত্র মামলা চলাকালীন সময়ে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রশাসক আইনানুযায়ী নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। যেহেতু উক্ত জমির সিএস রেকর্ড থেকে এসএ ও বিএস রেকর্ডের প্রিন্ট পর্চা মালিকদের নামে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, সেহেতু সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদী প সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ মামলা দায়ের করেন। যার নং ১৬৮/২১। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তারা আরো বলেন, যে সম্পত্তি ১৯৫৩ সাল থেকে সিএস, এসএ এবং প্রিন্ট পর্চাসহ গেজেট প্রকাশিত হয়েছে এবং ৭০ বছর যাবত বিবাদী প ভোগদখলে আছেন, সেই সম্পত্তিতে অন্যপরে যাওয়ার কোন সুযোগই নেই। অথচ উক্ত সম্পত্তি রাতের আঁধারে জোরপূর্বক দখল করে প্রতিরাতে সেখান থেকে মাছ লুট করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা এ সময় উক্ত সম্পত্তি দখলমুক্ত ও প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবী জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here