যশোর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কমিশনার রাশেদ আব্বাস রাজের উন্নয়ন ভাবনা – সকলের ভালোবাসায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত একটি আধুনিক পৌর ওয়ার্ড গড়তে চাই

0
121

আবিদ হাসান: ঐতিহ্যবাহী যশোর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের অবহেলিত রাস্তাঘাট, অপরিষ্কার বাজার ব্যবস্থা, নেই পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, কালভার্ট সংস্কারসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এই ওয়ার্ডের নাগরিকবৃন্দ। বর্তমানে উন্নয়নের তেমন কোন ছোঁয়া লাগেনি বারান্দিপাড়া কদমতলা রাস্তার ,মোল্লাপাড়া হতে কদমতলার মোড় সড়ক , লোন অফিস পাড়া হতে সোফ ফ্যাক্টেরী পর্যন্ত ও বিভাগীয় প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে হতে যশোর পৌর ভূমি অফিস পর্যন্ত রাস্তার বেহালদশা। এই ওয়ার্ডেও অদিকাংশ রাস্তা দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ভাঙ্গা অবস্থায় রয়েছে। ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শেখ রাশেদ আব্বাস রাজ দৈনিক যশোরকে জানান,২নং ওয়ার্ড একটি বাণিজ্যিক মহল। প্রতি বছরে যশোর পৌরসভা এই ওয়ার্ড থেকে ১(এক) কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে থাকে। অথচ যশোর পৌরসভার অর্ন্তগত বড় মাছ বাজারের তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন,আমি বার বার যশোর পৌরসভার মেয়রকে বলেছি বড় মাছ বাজারের টিনসেট দিয়ে হলেও সেটি মেরামত করে দিতে। অথচ বর্ষা আসলেই বাজারে দোকানীদের চরম সমস্যা সৃষ্টি হয়।অনেকের বিভিন্ন মালামাল নষ্ট হয়ে যায়।বাজার করতে আসা ক্রেতাদের ও বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হয়। এবং সামান্য বৃষ্টি হলেই শুরু হয়ে যায় বাজারে ভেতরে জলাবদ্ধতা, আমি বড় বাজারে জলাবদ্ধতা ও কাঁচা বাজারের জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য যশোর পৌরসভার মিটিং এ একাধিকবার অবকাঠামোগত কালভার্ট নির্মাণের জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু কোনটিই এখনও সমাধান হয়নী। বাজার করতে আসা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নেই কোন গণ-শৌচাগার। এতে বাজার করতে আসা বিভিন্ন ক্রেতাদের বিভিন্ন সমস্যা ল্য করা যায়। তিনি আরও বলেন, যশোরের বড় মাছ বাজার ও কাঁচা বাজারে বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম থেকে মানুষজন প্রতিনিয়ত বড় বাজারে আসে বাজার করতে। তাদের সকলের সাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জন্য সি সি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। কাউন্সিলর শেখ রাশেদ আব্বাস রাজ আরও জানান, এই ওয়ার্ডে মোট ৭০ হাজার মানুষের বসবাস এবং প্রায় ১৩হাজার মানুষ স্থানীয়ভাবে বসবাস করছে। গত ৩১শে মার্চ যশোর পৌরসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে এই ওয়ার্ডের ভোটাররা আমাকে পুনরায় ২ হাজার ৩শত ১৩ ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত করেছেন ।২নং ওয়ার্ডবাসীসহ সাধারণ মানুষের সুপেয় পানি পান ও সরবরাহের জন্য মোট ২০টি টিউবওয়েল তিনি নিজ অর্থায়ন ও এলাকার ধনী ব্যক্তিদের সাহায্যে বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করেছেন। এলাকার মাদক ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাশেদ আব্বাস রাজ সাফ জানান,মাদক যুবসমাজ ও আগামী দিনের ভবিষ্যংকে প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। আমার ওয়ার্ডে দুইটি সুইপার ডোম কলোনী রয়েছে। এবং দুইটি পতিতালয়সহ অসংখ্য লাইসেন্সবিহীন মাদকের রমরমা ব্যবসা চলছে। মাদক শুধু ২নং ওয়ার্ডের সমস্যা নয়। এটি একটি জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই আমাদের সকলের মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিা ও সাংস্কৃতিক এবং এলাকার যুবকদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাজ বলেন,আমি এলাকার শিক, ক্রীড়া সংগঠক ও সকলের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি। এলাকার যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার জন্য ক্রিকেট, ফুটবল,ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টর মাধ্যমে তাদের খেলাধুলা ও শরীরচর্চা সঠিকভাবে বিকশিত হচ্ছে। এছাড়াও তাদের খেলাধুলার জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছি। এলাকায় দরিদ্র অসহায় মানুষের জন্য বয়স্ক ভাতা ,বিধবা ভাতা,মাতৃত্বকালীন ভাতা, ও বিভিন্ন চিকিংসার জন্য নগদ অর্থ সাহায্য ইত্যাদি বিতরণ অব্যাহত রেখেছি এবং এলাকায় কোমলমতী শিশুদের জন্য বিভিন্ন এন জি ও সংস্থা শিশু সুরা কমিটি প্রধান উপদেষ্টা ও বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া আমার বাবার নামে গড়ে ওঠা মরহুম আব্বাস উদ্দীন হারুন স্মৃতি সংসদের প থেকে প্রতিবছর এলাকার দরিদ্র, অসহায়, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে স্কুল ব্যাগ, বই,খাতা,কলম ইত্যাদি বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। প্রতিবছর রোজার ঈদে এলাকার মানুষের মাঝে খাবার, বস্ত্র ও নগদ অর্থ আমি নিজ হাতে বিতরণ করি। প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ০৫টি পূজা মন্ডপে আর্থিক সাহায্য প্রদান ও সাবিক নিরাপত্তা জোরদার করা ইত্যাদি আমার নিত্যদিনের কাজ । ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত রয়েছে সব বৃহং বাজার ,শপিং কমপ্লেক্স, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী ব্যাংক, কোতয়ালী মডেল থানা, সদর পুলিশ ফাঁড়ি, পৌরভূমি অফিস,মা ও মহিলা বিষয়ক জেলা অফিস,শহর সমাজ সেবা অফিস, বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর শত শত সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান । শিা ব্যবস্থার জন্য রয়েছে যশোরের স্বনামধন্য সন্মিলনী ইনস্টিটিউশন ও যশোর আদর্শ বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং যশোর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। আরও রয়েছে যশোরের স্বনামধন্য ধমীয় প্রতিষ্ঠান দড়াটানা মাদ্রাসা,বারান্দিপাড়া ঢাকা রোডস্থ জামিয়াতুল উলুম মাদ্রাসাসহ বেশ কয়টি শিা- প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত খোঁজ খবর নেন কমিশনার রাজ।কাউন্সিলর রাশেদ আব্বাস রাজ জানান,করোনা মহামারীর ভিতরে ধনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যখন নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করেছে ঠিক তখন আমি সাধারণ দরিদ্র অসহায় মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ সকলের ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিয়েছি বিনামূল্যে । নিজের অর্থে হ্যান্ডসানিটাইজার, মাস্ক ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরা সামগ্রী বিতরণ করেছি। ২নং ওয়ার্ডকে আধুনিকায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর রাজ বলেন,আমি অবশ্যই আমার ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে আমি আমার এলাকাবাসীকে উপহার দিতে চাই। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত একটি স্বপ্ন রয়েছে তা হলো আমি যশোর আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসার সামনের যে সোজা রাস্তা রয়েছে অর্থাং খালধার রোডের বরফ কলের মোড় হতে আর এন রোড আখ পট্টির মাথা পর্যন্ত আমি দৃষ্টি নন্দন সকলের বসার উপযোগী একটি সড়ক নির্মাণ করতে চাই। অপরদিকে ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ সালাউদ্দিনকে ২নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন ভাবনা সম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২নং ওয়ার্ড আমাদের সকলেরই শহর। দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলে মিলে মাদকমুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত,এলাকা গড়ে তুলতে হবে।এ সকল বিষয়সহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে আমি বর্তমান কাউন্সিলর রাজকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করব। তার সকল ভালো কাজের সাথে আমি অতীতে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব এই ওয়াদা করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here