দেলুটিতে ভদ্রা নদীর ব্যাপক ভাঙ্গণে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে এলাকাবাসী

0
124

জি,এ, গফুর, পাইকগাছা ॥
আবারও নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে দেলুটি কালিনগর ও দারুনমল্লিক ভাঙন কবলিত এলাকাবাসী। বির্স্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ব্যাপক ফাটল দেখা দেয়ায় জনমনে মারাত্মক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটা মুহুর্ত বিশেষ করে নদীতে জোয়ার শুরু হলে তাদের আতংকের সীমা থাকে না। খুলনা জেলার অধিক দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপ-বেষ্ঠিত দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর এবং দারুনমল্লিকের নলডাঙা এবং গাইনের মল নামক স্থানের ওয়াপদা বেঁড়িবাঁধে ব্যাপক ফাটল সৃষ্ট হয়েছে। যে কোন সময়ে নদী গর্ভে বেঁড়িবাঁধটি বিলীন হয়ে এলাকাটি প্লাবিত হতে পারে। উপজেলার দেলুটি ইউনিয়ন চারিদিকে নদী। দ্বীপ বেষ্টিত একটি ইউনিয়ন। প্রতি বছর সিডর, আইলা আম্ফানের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা আক্রান্ত হয়েই আসছে। বিপদ সংকেত পেলেই এলাকাবাসী চরম আতংগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এর মধ্যে নদী ভাঙ্গন লেগে আছে ২৫/ ৩০ বছর ধরে। বার বার ভদ্রা নদীর ভাঙ্গনে পরিবর্তন হচ্ছে মানচিত্র। অসংখ্য বাড়ী ঘর জায়গা জমি বিলীন হয়েছে দেলুটি ইউনিয়নের এ অভিশপ্ত ভদ্রা নদীর গর্ভে। ভুমিহীন হয়েছে শত শত পরিবার। আম্পানের ভাঙ্গনে বির্স্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হলে কোটি কোটি টাকা ফসলের ক্ষতি হয়। ভেসে যায় অসংখ্য বাড়ী ঘর। এ মৌসুমে মাঠে আমন ধান, উচ্ছে, করোলা লাউ সহ বিভিন্ন ফসল থাকায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাদের একটাই দাবি ত্রাণ চাই না টেঁকসই বেঁড়িবাঁধ চাই। কথা হলো ভুক্তভূগি অবিনাশ মন্ডল এর সাথে। তার বাড়িটি বেঁড়িবাঁধের গাঁ ঘেঁষে। ভদ্রা ইতোমধ্য তার জমাজমি গ্রাস করেছে। বাকী আছে শুধু বসতবাড়ীটা। এটা চলে গেলে তার মাথাগুজার কোন ঠাঁই থাকবে না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিপদ জনক ভাংগন, রাতে ঘুম হয় না, যখন নদীতে ভাটা লাগে সে সময়ে ঘুমাতে যাই। নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য পলাশ রায় বলেন, ১০ থেকে ১৫ ধরে একতৃতীয়াংশ জমির মাথা এলাকার মানুষ বাড়ি করে বসবাস করছে। প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে লড়তে হচ্ছে এলাকার মানুষের। তিনি টেঁকসই বেঁড়িবাঁধের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইতিমধ্যে রবিবার বিকালে দেলুটি ইউনিয়নের পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রিপন কুমার মন্ডল ভাংগন কবলিত এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন এবং তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক সহযোগীতায় আশু কয়েক শত জিও ব্যাগের ব্যবস্তা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামীলীগ নেতা তরুন কান্তি সরকার, নিশীত মজুমদার, সুভাষ সরকার, জহিরুদ্দীন শেখ, শেখ মোহাম্মদ আলী, ইউপি সদস্য সুকুমার কবিরাজ, রাম টিকাদার,পলাশ রায়, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগ নেতা রনধীর মন্ডল, নিরাপদ দফাদার, জিয়াউর রহমান,শ্রীকৃষ্ণ রপ্তান,নিতীশ রায়,মান্নান শেখ, নিমাই মন্ডল, স্মৃতিশ রায়, শ্যামপ্রসাদ মন্ডল, সত্য সরকার, কৈলেশ শীল, আনন্দ ঢালী সহ এলাকাবাসী। ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল ভাংগন রোধে এমপি সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here