রাইটস যশোরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশ জোরদারকরণ’ – শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যশোরের ৫ ইউপি চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় জনসম্মুখে তাদের সম্পত্তির আর্থিক বিবরণী পেশ করেছেন

0
156

স্টাফ রিপোর্টার: স্বেচ্ছায় নিজেদের আর্থিক সম্পত্তির হিসাব বিবরণী প্রকাশ করে তা জনগণকে জানার সুযোগ করে দিলেন যশোরের ৫ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ। এই বিবরণী প্রকাশকারী চেয়ারম্যানগণ হলেন যশোরের কেশবপুর উপজেলা সদরের কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন, যশোরের বাঘারপড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সবদুল হোসেন খান, অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মফিজ উদ্দিন, শার্শা উপজেলার বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বজলুর রহমান ও যশোর সদরের নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোদাচ্ছের আলী।
গতকাল সোমবার যশোর শহরের একটি হোটেলের কনফারেন্স রুমে ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশ জোরদারকরণ’ – শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে গণমাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সম্পদ বিবরণী প্রকাশ বিষয়ক সভায় চেয়ারম্যানগণ তাদের সম্পদের আর্থিক বিবরণী তুলে ধরেন।
মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের আয়োজনে এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. হুসাইন শওকত। তিনি বলেন, যশোর জেলায় ৯৩টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভা আছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের জনপ্রতিনিধিরা আগামীতে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তাদের সম্পদ বিবরণী যা নির্বাচনের আগে গতানুগতিক প্রকাশ করে থাকে, তার বাইরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। এছাড়া মেয়াদ শেষে এটি প্রকাশ করবে গণমাধ্যমের মাধ্যমে। যা দেখে জনগণ তাদের মূল্যায়ন করতে পারবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল, প্রেসকাব যশোর সেক্রেটারি এসএম তৌহিদুর রহমান, দাতা সংস্থা দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম অফিসার আচিনুর রেজা প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাইটস যশোরের সভাপতি ডা. ইয়াকুব আলী মোল্লা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, আজ যশোরের জন্য একটি বিশেষ দিন। যশোরের ৫ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ স্বেচ্ছায় জনসম্মুখে তাদের সম্পদ বিবরণি পেশ করছে। পর্যায়ক্রমে জেলার সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণকে এই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে তাদেরও সম্পদ বিবরণী জনগণকে জানান সুযোগ তৈরী করতে হবে। একই সাথে এই মডেলকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে তৃণমুল থেকে অবৈধ পন্থায় সম্পদের মালিক হওয়ার প্রবণতা রোধ করা শুরু হবে। কালক্রমে দেশের সকল স্তরের যেমন উপজেলা পরিসদ, জেলা পরিষদ, পৌর পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্যগণ যারা জণগণের ভোটে নির্বাচিত তারা জনসম্মুখে তাদের সম্পদের বিবরণ ও আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে দূর্নীতি ও ঘুষ বিদায় নিতে শুরু করবে। এক পর্যায়ে দেশের সকল সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাগণকেও এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদরে অর্জিত স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি ও তার আর্থিক বিবরণী জনসম্মুখে পেশ করতে পারলেই দেশ সত্যিকারের সোনার দেশে পরিণত হবে। জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। দেশ বিশ্বে মাথা তুলে দাড়াতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ ব্যাপী ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্তকরণের যে অভিযান শুরু হয়েছে তা চলমান রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here