তরুণ নেতৃত্বকে ঘিরে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ, অস্তিত্ব সংকটে জামায়াত-বিএনপি

0
190

শেখ সিরাজউদ্দৌলা লিংকন কয়রাঃ(খুলনা)- রাজনীতির উর্বর ভূমি হিসেবে সুপরিচিত খুলনার সর্বদক্ষিণে সুন্দরবন কোল ঘেঁষা কয়রা উপজেলা। বঙ্গবন্ধু কণ্যাসহ অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তির পদচারণা রয়েছে প্রান্তীক এ উপজেলায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে রাজনীতি, ভূ-রাজনীতি, কৃষ্টি-কালচারে সমৃদ্ধ উপজেলাটি ওপর মহলের নজর কাড়ে। একসময় এ উপজেলায় নেতৃত্বে বেশ দাপট ছিল আওয়ামী লীগ ও জামায়াত-বিএনপির।

তবে জামায়াত-বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়রা উপজেলা এখন আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু রাজনীতি ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জামায়াত-বিএনপিরা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব জনবান্ধব ও জনগণের আস্থায় পরিণত হয়েছে।

দুর্যোগ প্রবণ, অবহেলিত এ উপজেলা এখন বঙ্গবন্ধুর মানস কন্যার উন্নয়নের আলোয় আলোকিত। আগে এই অঞ্চলের মানুষ যা কল্পনাই করতে পারেনি, তার বাস্তবায়ন হচ্ছে এখন। মুজিব শতবর্ষে গৃহ নির্মাণ, ঘরে-ঘরে সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ সরবরাহ, করোনায় অসহায়দের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন, মুক্তিযোদ্ধা ভবন, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণসহ প্রভূত উন্নয়নে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কয়রা উপজেলা। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব উন্নয়ন ও জনসেবায় সময়ের স্রোতে জামায়াত-বিএনপি জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। একই সাথে বর্তমানে কয়রায় সুষ্ঠু নেতৃত্ব, জনসেবায় শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী অঙ্গ সংগঠন।

সম্প্রতি কয়রায় অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং জামায়াত-বিএনপিপন্থী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভরাডুবি তারই প্রমাণ বহন করে।

উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের একটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট ৭টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ করে। অপরদিকে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের নিদারুণ ভরাডুবি কয়রা উপজেলায় আওয়ামী লীগের সুষ্ঠু রাজনীতি চর্চা ফলপ্রসূ হলো।

বর্তমানে কয়রায় আওয়ামী লীগের জনসমর্থন একচেটিয়া। টানা তিনবার শাসন ক্ষমতায় থেকে মানুষের জীবন মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করায় এবং করোনা মহামারি, দুর্যোগসহ যে কোনো সংকটে মানুষের পাশে থাকায় এ উপজেলায় জনগণের আস্থার প্রতীক হয়েছে উঠেছে আওয়ামী লীগ। অপরদিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনীহা, দলীয় কোন্দল, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং দুর্যোগ-দুর্ভোগে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে জামায়াত-বিএনপি। তারা মানুষের পাশে না থাকায় জনগণের আস্থা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত-বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড কমিটি গঠিত না হওয়ায় জনবিচ্ছিন্ন জামায়াত-বিএনপি তাছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় না থাকায় আমরা নেতৃত্বশূন্যে পরিণত হচ্ছি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, যোগ্য ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও একই বাড়িতে বিরোধী দলের নেতৃত্বে সম্পৃক্ত আত্মীয়-স্বজনদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল, সুবিধাবাদীদের আগমন প্রভৃতিতে নেতাকর্মীদের অনেকেই নিষ্ক্রিয় হওয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি ও জনগণের আস্থা অর্জন করে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন উপজেলা জামায়াত ও বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এসব কথা মানতে নারাজ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল। তিনি বলেন, আমরা মানুষের পাশেই আছি, জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা কেন্দ্রের নির্দেশে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছি।

করোনা দুর্যোগে মানুষের পাশে ছিলেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, করোনাকালীন আমরা দলীয়ভাবে ত্রাণ বিতরণ করেছি। এ ছাড়া আমি ব্যক্তিগতভাবে ত্রাণ নিয়ে মানুষের পাশে আছি।

এ দিকে, উপজেলা বিএনপির এই নেতার এসব কথার সাথে অসঙ্গতি প্রকাশ করেছেন খোদ সাধারণ জনগণই। তারা বলছেন, উপজেলায় জামায়াত-বিএনপি আদৌও আছে কি না? সেটাই তো আমরা জানি না। গত ২২ সেপ্টেম্বরের ইউপি নির্বাচনে উপজেলা জামায়াত-বিএনপির বড় পদধারী নেতা ও অনেক নেতা কর্মীকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া উপজেলা জামায়াত-বিএনপির একটি অংশকে নিয়ন্ত্রণ করেন সরকার দলীয় প্রভাবশালী কতিপয় নেতা এবং তাদের পরামর্শে চলে এ অংশটি। তারা আক্ষেপ করে বলেন, এত দুর্যোগ, দুর্বিপাক গেল; জামায়াত-বিএনপির তো দেখাই মিলল না। তাদের আছে শুধু কথার ফুলঝুরি, জনসেবায় ভারে ভবানী।

অন্যদিকে, কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শরিফুল আলম বলেন, সভাপতির অনুপস্থিতির জন্য সংগঠন ঝিমিয়ে গেছে। তিনি খুলনা বারে আইন পেশায় ব্যস্ত থাকায় কয়রায় কম আসেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ইউনিয়ন কমিটি না হওয়ায় ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েক দশকে কয়রা উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পটভূমি ছিল কিছুটা ভিন্ন। খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খুলনা ৬ (কয়রা- পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আক্তারুজ্জামান বাবুর দিকনির্দেশনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মোহসিন রেজা সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এস এম বাহারুল ইসলামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। তার প্রমান সদ্য ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়রা সদর ইউনিয়নসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় লাভ।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের শতশত অসহায় মানুষকে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান প্রদান। জেলে কার্ড, বয়স্ক, বিধবা, ও প্রতিবন্ধী ভাতা, মানুষের জীবনমানউন্নয়ন সহ ব্যাপক উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের উপর আস্থা এনেছে । এ দিকে, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এমপি বাবু এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মহসীন রেজা সহ সদ্য ইউপি নির্বাচনে বিজয়ী তরুণ নেতৃত্ব কে ঘিরে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীরা। সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের কার্যক্রমে প্রাণবন্ত তারা। মুকুটমণি শেখ হাসিনার নির্দেশে উপজেলার প্রতিটি জায়গায় উন্নয়নের বার্তা নিয়ে পদচারণা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনগণের কল্যাণে যেখানে যা প্রয়োজন, তাই করছেন তারা। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কয়রার সাধারণ মানুষ। একটানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে দেশ ও জনগণের মানোন্নয়নে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধুর কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগ।

ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের নেতারা বলছেন, সুসংগঠিত দলীয় কার্যক্রম ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা থাকায় এ উপজেলায় আওয়ামী লীগের অবস্থান জনবান্ধব ও শক্ত। বর্তমান সরকারের হাত ধরে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে কয়রায়। মানুষের কল্যাণে কাজ করায় বিশ্বাসের জায়গা দখল করেছে আওয়ামী লীগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here