শ্যামনগরে স্বামীর বিরুদ্ধে কণ্যা হত্যার অভিযোগ, যথাযথ তদন্তের দাবী

0
104

ডেস্ক রিপোর্টঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পরিবারের প্রতি অভিমান করে ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ ভিন্নভাবে মোড় নিয়েছে। নিহত মুনিরা খাতুন(১৩) এর মাতা কুমকুম বেগম কণ্যার মৃত্যুতে আহজারী প্রকাশ করে জানান, তার কন্যা মুনিরা খাতুনকে তার পিতা আবু মুসা ছোট স্ত্রী নাজমা পারভীনের কথায় প্রভাবিত হয়ে মারধর করে হত্যা করে আত্মহত্যার অপপ্রচার করেছে। তার কন্যা মুনিরা মাছের তরকারি খাওয়া কে কেন্দ্র করে বেমাতা নাজমা পারভীনের সাথে তিক্তার সৃষ্টির জেরে হত্যার কী বলি হল মুনিরা।শনিবার সকাল ১১ টার দিকে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তার পরিবার। মুনিরা খাতুন (১৩) ঈশ্বারীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের জি এম আবু মুসার মেয়ে। মনিরা খাতুন হেতালখালির নাসিরবাদ দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্রী।তার পিতা আবু মুসা ঐ মাদ্রাসার ইবতেদায়ী ক্বারী শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে মসজিদ, মাদ্রাসা , এতিমখানা, নিয়োগ বাণিজ্য ও ৩টি বিবাহে সন্তানদের কষ্ট দেওয়া সহ বহুবিধ অভিযোগ রয়েছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা জানান, তার সকল অনৈতিককাজে ঐ মাদ্রাসার সুপারঃ মাওলানা আব্দুল বারীর সাথে তার সখ্যতা রয়েছে মর্মে জানান। সে কারণে প্রায় ১০লক্ষ টাকার আর্থিক বিনিময়ে সুপারঃ প্রচেষ্টায় আবু মুসার ছেলে ইলিয়াস হোসেনকে ঐ মাদ্রাসার সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে অন্যায়ভাবে নিয়োগ করার অভিযোগ উঠে।সুপারঃ মাদ্রাসার জমি উদ্ধার দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও সময় খরচ করে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকেন সুপারঃ ও আবু মুসা।ফলে মাদ্রাসায় লেখাপড়ার ও ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি খুবই নগন্য বলে এলাকাবাসী জানিয়ছেন।
পরবর্তীতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। মাদ্রাসায় সুপারের মেয়ে ও নাতী, আবু মুসা ও তার ছেলে ইলিয়াস হোসেন, তাদের পরিবারের কয়েকজন চাকুরী করায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন হতে চলেছে।
সম্পূর্ন এলাকায় নিয়োগ কার্যক্রম গোপন রেখে অন্যায়ভাবে জনবল নিয়োগ করায় কমিটির মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগের বিরুদ্ধে শ্যামরগরের একজন সুশীলসমাজ ব্যক্তি বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা প্রমানিত হলে মাদ্রাসার এমপিও স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সুপার ও আবু মুসা কে এর দায়ভার গ্রহণ করতে হবে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। সুপারঃ মাওলানা আব্দুল বারী প্রায় সময় আবু মুসার ছেলের চাকুরী সুবাদে অতিরিক্ত ২লক্ষ টাকা দাবী করায় মানসিক ভাবে চিন্তায় বাড়িতে যাওয়ার পরের দিনে মুনিরার মৃত্যুর ঘটনা জানার অভিযোগ উঠে। মৃত্যুর ঘটনা জানার পরপরই সুপারঃ মাদ্রাসা অজ্ঞাত কারণে বাড়ী ছাড়া আত্মগোপনে থাকেন। রাত্রে অন্যত্রে অবস্থান নিয়ে পুরা ঘটনার যোগসূত্রের তীর তার দিকে আসে কিনা, সে থেকে রেহাই পেতে বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুল বারী জানান, তার বিরুদ্ধে আণীত সকল অভিযোগ সত্য নহে।
শ্যামনগর থানা অফিসার ইনচার্জ কাজী ওয়াহেদ মূর্শেদ জানান, আবু মুসা ও তার স্ত্রী নাজমা পারভীন কে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে,বিষয়টি যথাযথ তদন্ত অব্যহত রয়েছে। এ মৃত্যুর সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা যথাযথ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here