লাভলুকে আসামী করে আদালতে মামলা , সমন জারি বিদ্যুৎ চুরির দায়ে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার হলি হ্যাভেনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

0
12

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ চুরির দায়ে যশোর শহরের লোন অফিস পাড়ার আদর্শ গার্লস স্কুলের সামনে হলি হ্যাভেন নামক বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। একই সাথে বিদ্যুৎ চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ৩টি প্রিপেইড মিটার জব্দ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। গতকাল রোববার সকালে যশোর ওজোপাডিকোর ম্যাজিষ্ট্রেট আয়শা আক্তার মৌসুমীর নেতৃত্বে একটি টিম এই অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ উপ বিভাগ -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মইন, সহকারী প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন, উপসহকারী প্রকৌশলী মজিরুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, বাবলু চৌবেসহ বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মচারীবৃন্দ ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন । এঘটনায় বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলাম লাভলুর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আগামী ২০ অক্টোবর বিদ্যুৎ আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আসামীর প্রতি সমন জারি করেছে আদালত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ চুরি প্রতিরোধে গতকাল ম্যাজিষ্ট্রেট আয়শা আক্তার মৌসুমীর নেতৃত্বে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় যশোর শহরের উপশহর ঘোপ ও লোন অফিস পাড়ায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় খবর আসে লোন অফিস পাড়ায় আদর্শ গার্লস স্কুলের গেটের সম্মুখে উত্তর পাশের্^ রাস্তা সংলগ্ন হলি হ্যাভেন নামে তিন তলা বাড়িতে অবৈধ ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে তারা এসিসহ নানা রকম বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে। যার কারনে প্রতি মাসে সরকার লাখ লাখ টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ওই হলি হ্যাভেনে অভিযান চালায়। অভিযানে দেখা যায়, ওই বাড়িতে মোট ৫টি প্রিপেইড মিটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি মিটারে টেম্পারিং করে চোরাই পথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। উপ সহকারী প্রকৌশলী বাবলু চৌবে এই টেম্পারিং বিষয়ে বলেন, ওই ৩টি মিটারে ৮/১০টি এসির সংযোগ রয়েছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে ওই তিনটি মিটারেই ইনকামিং লাইন থেকে ডাইরেক্ট সংযোগ নেওয়া। অর্থাৎ মিটারের সাথে সঞ্চালন লাইনটি সেখানে সংযুক্ত হয়েছে তার বাইরে ওই সঞ্চালন লাইনের তার কেটে সেখানে নতুন করে তার সংযুক্ত করে মেইন সুইচে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে যেহেতু মিটারের আউট গোয়িং লাইনে কোন লোড পড়ছে না ফলে মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোন চাপ পড়ছে না। ফলে মিটারে বিল বা বিদ্যুৎ খরচের বিষয়টি শো করছে না। যার ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিষয়টি সরেজমিন ধরা পড়ায় তাৎক্ষনিক ওই ভবনের সমস্ত লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া যে তিনটি মিটারে টেম্পারিং করা হয়েছে সেই তিনটি মিটারসহ অবৈধ সংযোগের কাজে ব্যবহৃত তার, সুইচসহ যাবতীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বিদ্যুৎ চুরি একটি আইনত অপরাধ । ফলে বিদ্যুৎ আদালতের বিচারক তাৎক্ষনিক আসামী রফিকুল ইসলাম লাভলুর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ আইনে মামলা রুজু করে। যেহেতু আসামী পলাতক ছিল ফলে আদালত আগামী ২০ অক্টোবর তাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, হলি হ্যাভেনের মালিক রফিকুল ইসলাম লাভলু ওরফে আবুলের পাঠা ওরফে টাক লাভলু সুকৌশলে দীর্ঘ দিন এভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে কাজ সারছিল। কিন্তু কথায় আছে চোরের দশ দিন গেরস্তের একদিন। গতকাল সেটাই প্রমানীত হয়েছে। টাক লাভলুর বাড়িতে ম্যাজিষ্ট্রেট ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন অভিযান চালিয়ে বিদ্যুৎ চুরির বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। এ বিষয়ে মামলাও হয়েছে। ঘটনা টের পেয়ে টাক লাভলু সটকে পড়ে। এদিকে সূত্র বলছে ওই হলি হ্যাভেন বাড়িটি টাক লাভলুর স্ত্রী সাবরিন নাহার হলির নামে। কিন্তু বৈদ্যুতিক মিটার টাক লাভলুর নিজের নামে। এটা কি করে হয় তা বোধগম্য নয়। এলাকাবাসী এই বিদ্যুৎ চুরির ঘটনার যারা বা যিনি জড়িত তার বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here