মাগুরায় সহিংসতায় ৪ জন নিহত – ভয়ে গ্রাম ছাড়ছে মানুষ

0
194

মাগুরা প্রতিনিধি ॥ মাগুরা সদর উপজেলার জগদল ইউনিয়নে ইউপি নির্বাচন পূর্ব সহিংসতায় ৪ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে জগদল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দুই মেম্বর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১ জনকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আগামী ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ও সৈয়দ হাসানের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। তারই জের ধরে গত শুক্রবার বিকালে নজরুলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ হাসানের সমর্থক রহমান মোল্যা (৫৪), সবুর মোল্যা (৫২), কবির মোল্যা (৫০) কে কুপিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে সৈয়দ হাসানের সমর্থকরা নজরুল গ্রুপের ইমরান হোসেন (২৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় দু’পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়। মারাত্ব জখম অবস্থায় ৬ জনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত সবুর মোল্যার স্ত্রী মিরিনা বেগম জানান, নজরুল ইসলাম তার স্বামী সবুর মোল্যাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে। নজরুল খুব নৃশংস একজন মানুষ। সে আগে বিএনপি করতো। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। জগদল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জানান, মেম্বর প্রার্থী নজরুল ও সৈয়দ হাসানের মধ্যে দ্বন্দ্ব দীর্ঘ দিনের। স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েক বার শালিস বৈঠক হয়েছে। ইউপি নির্বাচন কে কেন্দ্র যা আবার নতুন করে দানা বাঁধে। পাশাপাশি এই সংঘর্ষ হয়। জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে মাগুরা সদর থানায় নজরুল ইসলাম ও সবুর মোল্যাকে ডেকে নিয়ে শালিস বৈঠক করা হয়। সেখানে দু’পক্ষই কোন সহিংসতায় জড়াবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে আবার তারা এ সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জগদল গ্রামে মেম্বর সমর্থকদের দ্ইু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ২০ জন আহতের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
এদিকে ৪ খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা জুড়ে চলছে আতংক। পূনরায় সংঘর্ষ ও লুটতরাজের ভয়ে দুই পক্ষের লোকজন মালামাল নিয়ে গ্রাম ছাড়ছেন। গোটা গ্রাম হয়ে পড়েছে পুরুষ শূণ্য। যদিও মাগুরা পুলিশের সদস্যরা গোটা গ্রামে একাধিক স্থানে পাহারার ব্যবস্থা করে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। কিন্তু গ্রামবাসি যে যেভাবে পারছে পালাচ্ছে। শনিবার সকালে গোটা গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে কঠোর পুলিশ প্রহরার মধ্যে যে যেভাবে পারছেন বাড়ির মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নজরুল ইসলাম সমর্থকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতংক কাজ করছে। কারণ নজরুল ইসলামের সমর্থকরাকুপিয়ে ও জবাই করে আপন দুই সহোদর সবুর মোল্যা (৫৮) ও কবির মোল্যা (৫০) এবং চাচাতো ভাই রহমান মোল্যা (৫৪)সহ একই পরিবারের ৩ জন কে হত্যা করে। পরবর্তীতে সৈয়দ হাসানের সমর্থকরা নজরুল গ্রুপের ইমরান হোসেন (২৫) কে কুপিয়ে হত্যা করে। এ কারনে এলাকায় পুরুষ শূণ্য হওয়ার পাশাপাশি মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে । নিহত সবুরের ভাতিজা ইয়াসিন আরাফাত জানান, গতকাল নজরুল মেম্বর আমার তিন চাচাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। আমি হত্যাকারিদের ফাঁসি চাই। নিহত ইমরানের চাচি গোলাপী বেগম জানান, সবুর মোল্যাসহ ৩ জন খুন হওয়ার আগেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। বিকালে সে তার মাছের ঘেরে ছিল। সেখানে তাকে হত্যা করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ভাতিজা খুনের সঠিক বিচার চাই। জগদল মধ্য পাড়ার নুরু মিয়াসহ অন্যরা জানান, এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। যে কোন সময় মালামাল লুটপাট ও বাড়িঘর ভাংচুর হতে পারে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটলে লুটপাট ও ভাংচুর হয়। এ কারনে ঘরে যা কিছু আছে আত্নীয় বাড়ি রাখতে নিয়ে যাচ্ছি। মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম জানান, এ হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। নিহতদের ময়নাতদন্ত শেষ হলেই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লুটপাটের ভয়ে যারা মালামাল নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে অভয় দেয়ার পাশাপাশি এলাকায় নতুন কোন প্রকার সহিংসতা না ঘটে এ জন্য বিভিন্ন মড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল শনিবার বিকেলে নিহত ৪ জনের জামাযে জানাযা স্থানীয় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হলেও উপস্থিতি ছিল খুবই কম। এক প্রকার আতঙ্ক নিয়ে সামান্য কিছু মানুষ এই জানাযায় অংশ গ্রহণ করে। পরে নিহতের লাশ স্ব স্ব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here