মণিরামপুর মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মান শুরুর অপেক্ষায় সুধীজনেরা

0
144

মালিকুজ্জামান কাকা, যশোর : যশোর জেলার মণিরামপুর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে টেন্ডারের আড়াই বছর পার হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, গণপূর্ত বিভাগ, যশোর একে অপরকে দোষারোপ করছেন। সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত কর্তৃপ বলছে করোনার কারনে শুরু করা সম্ভব হয়নি, তবে অচিরেই নির্মান কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেন পিডব্লিউডি (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট-গণপূর্ত বিভাগ) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী। এই নির্মাণ শুরুর অপেক্ষায় স্থানীয় সুধীজন মুসল্লীরা। দ্রুত কাজ শুরুর প্রক্রিয়ায় উপজেলা পরিষদের দ্বিতল ভবনের মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে পাশেই একটি অস্থায়ি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু মসজিদটি টিনসেড নির্মিত। ফলে বর্ষা হলেই পানি পড়ে। এতে করে মুসুল্লিদের নামাজ পড়তে অসুবিধা হয়। মসজিদ নির্মান অপেক্ষায় মুসুল্লীরা। সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় উন্নত মসজিদ নির্মানের। এই আলোকে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি (৫৬০) করে মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৮৭২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রকল্প গ্রহন করা হয়। ইতিমধ্যে কাজ সমাপ্তির এক বছর অতিক্রম হয়েছে। তবু নির্মাণ কাজই শুরু করা যায়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ি, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কর্মচারিরা বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ করেছেন। তবে সকল সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে এরা দ্রুত কাজ শুরুর আশা করছেন। কেননা নামাজ পড়তে ও অযু করতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষজন দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন। জেলা পর্যায়ে চার তলা ও উপজেলা পর্যায়ে তিন তলা এ মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতি কেন্দ্রে একযোগে ৯০০ মুসল্লি নামাজ আদায়ের সুবিধা পাবেন। এছাড়া নারী ও পুরুষের আলাদা ওযু ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। সেখানে আরো থাকবে লাইব্রেরী গবেষণা, ও দীনি দাওয়া, কোরআন হেফজ, শিশু শিা, অতিথি শালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোছলের ব্যবস্থা, হজ্জযাত্রীদের নিববন্ধন, প্রশিণ, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা। সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের জুন মাসে টেন্ডারসহ আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন হয়। এ উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে মোঃ নূর হোসেন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হন। প্রথমে উপজেলার জালঝাড়া ছিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় এই মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু ওই জায়গাটি পৌর শহর থেকে দূরে হওয়ায় পৌর শহরের কাছাকাছি স্থানে নির্মাণের জন্য স্থানীয় সর্বমহল থেকে দাবি উঠে। বিভিন্ন মহলের দাবির প্রেেিত পরবর্তিতে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে এই মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণের জন্য নির্ধারন করা হয়। এই প্রেেিত তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠান। সে মোতাবেক ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল তৎকালিন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল পরবর্তি নির্মাণ স্থলের জমির প্রস্তাব ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর মহাপরিচালক বরাবর পাঠান। প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (উন্নয়ন) মোঃ সাখাওয়াত হোসেন স্বারিত একটি পত্রে প্রস্তাবের প্রেেিত ওই স্থানে সয়েল টেস্ট, ডিজিটাল সার্ভে, মসজিদের স্ট্রাকচার ডিজাইন এবং ব্যয় প্রাক্কলন প্রস্তুত পূর্বক জরুরি ভিত্তিতে টেন্ডার আহবানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গণপূর্ত বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ জাকির হাসান বলেন, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত ২ আগস্ট নির্মাণ স্থল বুঝে দেওয়ার পরও অদ্যবধি কাজ শুরু হয়নি। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ড. হেলাল উদ্দীন জানান, বর্তমানে উপকরনের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ঠিকাদার এখনি কাজ করতে অনীহা দেখাচ্ছেন। তবে তার এই বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে ঠিকাদার কাজী মনিরুজ্জামান ােভ করে বলেন, অনেক আগেই ইট আনা হয়েছে। কাজ শুরু করতে তিনি জেলা প্রশাসক, গণপূর্ত বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন জানান, করোনার কারনে কাজ শুরু করা হয়নি। অচিরেই কাজ শুরুর আশ্বাস দেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here