যশোরে পৃথক দুই মামলায় দুই আসামির প্রবেশনে মুক্তি

0
161

স্টাফ রিপোর্টার : যশোরে পৃথক দুই মামলায় দুই আসামিকে সাজা প্রদান করে প্রবেশনে মুক্তি দিয়েছে আদালত। রোববার যুগ্ম দায়রা জজ শিমুল কুমার বিশ্বাস মামলা গুলোর রায় প্রকাশের দিনে এ আদেশ দেন। আসামিদের নির্দিষ্ট শর্তদেয়া হয়েছে। শর্তমেনে প্রবেশন কর্মকর্তার অধীনে থেকে বাড়িতেই তাদের সাজা ভোগ করতে হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের এপিপি ভীমসেন দাস।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর সন্ধা সাড়ে ছয়টায় চৌগাছা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে শুকুর আলী ওরফে ধুর শুকুর নিজ বাড়িতে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে আটক হয়। এসময় তার বাড়ি থেকে ১৯ বোতল ভারতীয় মদ সহ শুকুরকে আটক করে। এঘটনায় উপ পরিদর্শক মোহাম্মাদ আলী শেখ বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। এ মামলায় আসামিকে দোষি সাব্যস্ত করে আট শর্তে দুই বছরের প্রবেশনে মুক্তি দেন।
অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, তার এলাকার মসজিদটি প্রতি শুক্রবার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে খাদেমকে বিনা পারিশ্রমিকে সহযোগিতা করবেন ও নিজ এলাকার একজন আত্বীয় পরিচয়হীন একজন কর্মক্ষম অথবা মুক্তিযোদ্ধাকে দেকভাল করবেন।
অন্যদিকে, ২০১২ সালের ১৮ জুন রাত সাড়ে নয়টায় রেলষ্টেশন এলাকা থেকে ২০ বোতল ফেনসিডিল সহ পুলিশের হাতে আটক হয় আশ্রম রোড এলাকার ওলিয়ার রহমানের ছেলে শফিয়ার রহমান। এঘটনায় কোতোয়ালি থানার এস আই সম্ভু বিশ্বাস বাদী য়ে কোতায়ালি থানায় মামলা করেন। এ মামলায় এ মামলায় আদালত শফিয়ারকে ১১ শর্তে দুই বছরের জন্য প্রবেশনে মুক্তিদেন। তার উল্লেখযোগ্য শর্ত প্রবেশনকালীন সময়ে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ৫ টি পূর্ণ দৈর্ঘ চলচিত্র দেখতে হবে। ৫ জন হতদরিদ্রকে প্রতিমাসে একবার করে দুপুরের আহার করাতে হবে। ৫টি বনজ গাছ লাগাতে হবে। নিজ এলাকার পাঁচজন নিরক্ষরকে অক্ষরজ্ঞান শেখাতে হবে এবং নিজএলাকার অসহায় মানুষকে লিগ্যাল এইড সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
এছাড়াও আসামিকেই প্রবেশনে মুক্তির অন্যশর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, সবাইকে নিজ নিজ বাড়িতে প্রবেশন কর্মকর্তার অধীনে থাকতে হবে। সৎ ও শান্তিপূর্ন জীবন যাপন করতে হবে। কোনো প্রকার অপরাধের সাথে জড়িনো যাবেনা। মাদকের সংস্পর্শে যাওয়া যাবেনা। দেশত্যাগ করতে পারবে না ও ট্রাইবুন্যাল কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে তলব করলে যথা সময়ে হাজির হতে হবে। আদেশ অমান্য করলে সাজা ভোগ করতে বাধ্য থাকতে হবে। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা আটকের পর এ যাবৎকাল হাজিরা কামায় দেয়নি ও তাদের বিরুদ্ধে অন্যকোনো মামলাও নেই। আসামির সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী পুর্নবাসনের জন্য শর্ত সাপেে প্রবেশন অফিসারের নিয়ন্ত্রণে প্রবেশনে মুক্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন বিচারক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here