যশোর শিক্ষা বোর্ডে অর্থ কেলেংকারী – দশ প্রতিষ্ঠানই জানে না তাদের নামে চেক ইস্যুর কারণ

0
271

স্টাফ রিপোর্টার : চেক জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আতœসাতের ঘটনায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কখন না জানি কার নামের চেক জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। গতকাল দিনভর বিষয়টি ছিল কর্মকর্তা কর্মচারীদের মুল আলোচনার বিষয়। এদিকে নিজ নামীয় হিসাবে ব্যাংক এ্যাস্টেটমেন্ট তুলতে গত দুই দিন সোনালী ব্যাংক বোর্ড শাখায় রীতিমত কর্মকর্তা কর্মচারীদের লাইন পড়ে যায়। সবাই নিজেদের ব্যাংক একাউন্টের লেনদেন মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন ।
এদিকে বোর্ডের চেক জালিয়াত চক্রের হোতাদের খুজে বের করতে গঠিত অভ্যন্তরীন তদন্ত কমিটি গতকাল থেকে নতুন তদন্ত শুরু করেছে। আগের ১০টি চেকের সাথে নতুন করে ধরা পড়া ১৬টি চেক কিভাবে জালিয়াতি করে বোর্ডের কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে একটি চক্র তা খুজে বের করতে গতকাল থেকে ফের তদন্ত শুরু করেছে কলেজ পরিদর্শক গোলাম রব্বানীর নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেক জালিয়াতির মুল হোতা হিসাব সহকারী আবউদস সালাম হলেও তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বোর্ডের বিভিন্ন সেকশনে কর্মরত কমপক্ষে ১০ কর্মকর্তা কর্মচারী। আর এরা সকলেই এই জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাটকৃত টাকার হিস্যা ভোগ ককরেছে। অথচ সব দায় হিসাব সহকারী আব্দুস সালামের ঘাড়ে চাপিয়ে বহাল তবিয়তে বোর্ডে চাকুরি করছে জাতিয়াত চক্রের হোতারা। বিশেষ করে বোর্ডের কমন সার্ভিস বিভাগ, হিসাব প্রদান সেকশন, হিসাব গ্রহণ সেকশন ও অডিট সেকশনের জুনিয়র কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই চেক জালিয়াতি চক্রের অন্যতম হোতা। বিশেষ করে কমন সার্ভিস বিভাগের যোগসাজসে বিভিন্ন প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে লাখ লাখ টাকার কাজের কোটেশান মুল্যায়নের মাধ্যমে তাদেরকে কাজ পেতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের নীল নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে । যার শেষ নামিয়েছে আব্দুস সালাম নামের কখনো জুনিয়র অডিটর পদে থেকে , কখনো হিসাব প্রদান শাখার কর্মচারী থেকে, আবার কখনো হিসাব গ্রহণ শাখার কর্মচারী হিসেবে এসব চেক জালিয়াতি করে কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছে বলে দায় স্বীকার করে পরের বোঝা নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন বলেই মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে সর্বশেষ জাতিয়াতকৃত ১৬ টি চেক যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে প্রেরণ করা হয়েছে তার সবই ভূয়া বা প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। কারণ যে সব প্রতিষ্ঠানের নামে চেক গুলো ইস্যু করা হয়েছে সত্যিকার অর্থে সে সব প্রতিষ্ঠান বোর্ডে কোন কাজই করেনি। দৈনিক যশোরের অনুসন্ধানে গতকাল যশোর শহরের গাড়ীখানা রোডের মসজিদ লেনের মেসার্স খাজা প্রিন্টিং প্রেসের স্বত্বাধিকারী আবু জাফর বাচ্চু বলেন, পত্র পত্রিকায় খবর দেখি আমার নামে ৪ রাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ টাকার একটি চেক বোর্ড থেকে ইস্যু করা হয়েছে এবং ওই পরিমান টাকা নাকি আমি উত্তোলন করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমি বা আমার প্রতিষ্ঠান জীবনে কোন দিন যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোন টেন্ডার বা কোটেশানের কাজ করিনি। কে বা কারা আমার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ওই বিপুল পরিমান টাকা লোপাট করেছে। একই ধরনের বক্তব্য দেন শরীফ প্রিন্ট্রি এন্ড প্যাকেজিং প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শরিফুল ইসলাম শরীফ। তিনি বলেন, আমি খবরটা থেকে যারপরনাই বিষ্মিত হয়েছি। আমি কখনো যশোর শিক্ষা বোর্ডের কোন কাজ করিনি। তাছাড়া আমার প্রতিষ্ঠানের নাম শরীফ প্রিন্টিং । অথচ লোকজনে আমার নিয়ে কানাঘুষা করছে । আমি নাকি বোর্ডের কাজ করে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৩ টাকা লোপাট করেছি। এদিকে নিহার প্রিন্টিং প্রেসের নামে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সালের ২৯ মে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৩০ টাকা পরিশোধের জন্য একটি চেক ইস্যু করে। যার নম্বর ৫০৯৫৭৭ । অথচ ওই প্রেস টি ২০ বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। ওই প্রেসের স্বত্বাধিকারী শওকত আলী ৫/৬ বছর আগে মারা গেছেন। অথচ সেই বন্ধ হয়ে যাওযা প্রতিষ্ঠানের নামে বোর্ডের কোটেশান মুল্যায়ন কমিটি একটি ৩ লাখ টাকার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে তার নামে আবার চেকও ইস্যু করেছে। একই ভাবে মসজিদ লেনের ঠিকানা ব্যবহার করে নুর এন্ট্রারপ্রাইজ নামের একটি প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন তারিখে ৫টি চেক ইস্যু করা হয়েছে। ওই চেক ইস্যুর মুল কারণ হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান কোটেশানের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার মাল সাপ্লাই দেয় বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু বাস্তবে যশোর শহরের মসজিদ লেনে ওই নামে কোন এন্ট্রারপ্রাইজের প্রতিষ্ঠান নেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হিসেবে যার নাম ব্যবহার করা হয়েছে সেই নূও ইসলাম একটি ছোট্ট স্টেশনারীর দোকানদার। অথচ ওই ব্যক্তির নামে একটি প্রতিষ্ঠান খুলে প্রতারক চক্র বোর্ডের কমন সার্ভিস বিভাগের লোকজনদের ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকার কাজ করেছে যা খাতা কলমে। একই ভাবে কোটেশান মুল্যান কমিটি ওই নাম বা প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে কিভাবে লাখ লাখ টাকার কাজের ওয়াক পারমিট দেওয়ার জন্য অনুমোদন করেছে তা নিয়ে তৈরী হচ্ছে রহস্যের। খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে প্যাড সর্বস্ব এসব প্রতিষ্ঠানের নামে একজন ব্যক্তিই সব কাজ করেছে। কখনো নুর এন্ট্রারপ্রাইজের নামে, কখনো শরীফ প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং এর নামে, কখনো নিহার প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং এর নামে, কখনো শাহী লাল স্টোরের নামে তিনি নিজেই এসব কাজের কোটেশান দরপত্র ফেলেছেন এবং বোর্ডের কতিপয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তির সাথে বিশেষ সুসম্পর্কের কারনে তা অনুমোদনও করিয়ে নিয়েছেন। কখনও ওই কাজের অংশ বিশেষ করেছেন কখনো কোন কাজই না করেই খাতা কলমে সব বুঝিয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকার বিল তুলে নিয়েছেন। বোর্ডের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাদের অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে সম্প্রতি যে ১৬টি চেক জালিয়াতি করা হয়েছে তার মধ্যে ১১টি চেক ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখায় এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক যশোর শাখায়,ইবিএল ব্যাংক যশোর শাখায় ও বাংলাদেশ ডেভলবমেন্ট ব্যাংকের যশোর শাখায় ১টি করে ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের যশোর শাখায় ২টি চেক জমা হয়েছে। যে গুলো প্রোপার ওয়েতে সোনালী ব্যাংক শিক্ষা বোর্ড শাখা থেকে কিয়ারেন্সের মাধ্যমে স্ব স্ব ব্যাংক একাউন্টের একাউন্ট হোল্ডারগণ সমুদয় টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। এখন ওই ব্যাংক গুলোর একাউন্ট হোল্ডারগণের নাম ঠিকানা অনুসন্ধান করতে পারলেই বেরিয়ে পড়বে কে কিভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ব্যাংকে একাউন্ট খুলেছে, কিভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের নামে ট্রেড লাইসেন্স করেছে, কিভাবে কার ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করেছে এবং কিভাবে ভ্যাট, আয়কর টিন সার্টিফিকেট ম্যানেজ করেছে । এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের ক্রয় নীতিমালায় সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার কাজ কোটেশানের মাধ্যমে প্রদান করার ক্ষমতা ক্রয় কমিটি বিশেষ করে সচিব ও চেয়ারম্যান মহোদয় সংরক্ষন করেন। কিন্তু কোটেশান মুল্যায়ন করার জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি মুল্যায়ন কমিটি আছে। যার প্রধান আহবায়ক হচ্ছেন কলেজ পরিদর্শক । এই কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন শিক্ষা বোর্ডের প্রধান মুল্যায়ন অফিসার মিজানুর রহমান, যশোর সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের শিক্ষক আতিয়ার রহমান, হাইজিং এস্টেটের হিসাব কর্মকর্তা এমাদুল ইসলাম ও বোর্ডের কমন সার্ভিস বিভাগের সহকারী সচিব আশরাফুল ইসলাম। এ বিষয়ে কোটেশান মুল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত ডাকের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজের কোটেশান দরপত্র আহবান করা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ওই কোটেশান দপ্তরে পৌঁছালে তা শর্টিং করে একটি তালিকা কোটেশান মুল্যায়ন কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। ওই কমিটির অনুমোদন প্রাপ্তির পর সর্বনি¤œ দরদাতাকে কাজের জন্য ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করা হয়। কাজটি সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করার পর কমিটির সদস্যরা তা বুঝে নিয়ে বিল পরিশোধের জন্য ফাইলে নোট দেন। তার পর সচিব হয়ে চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমোদনের পরই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে একাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করা হয়। কিভাবে এসব প্যাড সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে লাখ লাখ টাকার কাজের ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান করা হলো এবং কিভাবে তাদের নামে চেক ইস্যু করা হলো এমন প্রশ্নের জবাবে কমন সার্ভিস বিভাগের সহকারী সচিব আশরাফুল ইসলাম পিয়ার বলেন এসব প্রশ্নের জবাব কর্তৃপক্ষই ভালো দিতে পারবেন।
এদিকে এসব কাজের চেক কিভাবে ইস্যু হয়েছে এবং কিভাবে তা সরকারী অডিটর দ্বারা অডিট সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কিভাবে ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে বোর্ডের একাউন্টের আয় ব্যয় হিসাব মিল করন করা হয়েছে এমন সব প্রশ্নের উত্তরে হিসাব ও নিরীক্ষা (হিওনি) উপ পরিচালক এমদাদুল হক বলেন, যেহেতু হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম চেকের মুড়ির সাথে ব্যাংকের স্টেসমেন্টের মিলকরনের দায়িত্বে ছিল ফলে প্রতি বারই অডিট করার সময় বা প্রতি মাসে বা বছরে হিসাব মিল করার কাজটি সে নিজেই করতো। সরকারী অডিটরদেরকে আব্দুস সালাম নিজেই তথ্য প্রদান করতো, তাছাড়া ব্যাংকের স্টেটমেন্ট ও হিসাবের নথিপত্র তার দপ্তরের জমা থাকতো ফলে এসব প্রশ্নের উত্তর সে ভালো দিতে পারবো। তবে এখন আমরা বুঝতে পারছি যে, কাজটি সঠিক হয়নি। আব্দুস সালাম বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তার উপর বিশ্বাস করে এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব অর্পণ করাটা কতৃপক্ষের উচিৎ হয়নি। তাহলে এখন কিভাবে এসব জালিয়াতি ধরা পড়লো – এমন প্রশ্নের জবাবে ডিডি বলেন, বর্তমানে আব্দুস সালামের স্থলে শেখ রফিক নামে একজন কর্মচারী কাজ করছেন। বাৎসরিক ব্যয়ের সাথে ব্যাংক স্টেটমেন্ট মেলানোর দায়িত্ব ছিল তার উপর। তার উপরে ছিল অডিট অফিসার আব্দুস সালাম আজাদ। তারাই প্রথম চেক জালিয়াতির বিষয়টি টের পেয়ে আমাকে বলে। তার পর আমি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পায় ২০২০-২১ অর্থ বছওে আমারা যে পরিমান অর্থের চেক ছাড় করেছি সোনালী ব্যাংক বোর্ড শাখা থেকে তার চেয়ে কয়েক গুন বেশি টাকা পেমেন্ট করা হয়েছে। তখনই খটকা লাগে। ফলে এই বিষয়ে খোঁজ খবর নেওয়ার পর চেকের মুড়ি মিল করতে গিয়ে দেখি পুকুর চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি দ্রুত সচিব কে জানালে তিনি আমাদেরকে বিষয়টি ভালো ভাবে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। তার পর এসব জালজালিয়াতি ধরা পড়ে। বিষয়টি এক পর্যায়ে গত ৭ অক্টোবর চেয়ারম্যান মহোদয়ের দৃষ্টিতে আনা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ বিষয়ে বোর্ডের অডিট অফিসার আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, দেখেন আমি বোর্ডের অডিট অফিসারের পাশাপাশি উপ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকার কারনে আমার সেকশনের কাজ বেশির ভাগ সময় জুনিয়র অডিটর আব্দুস সালামকে দিয়ে করানো হতো। তাছাড়া যেহেতু কর্তৃপক্ষ তাকে জুনিয়র অডিটর পদে পদায়ন করেছেন ফলে ফাইল প্রস্তুত করা থেকে তার অনুমোদন, বিভিন্ন সেকশনে প্রেরণ, ব্যাংক স্টেট মেন্টের সাথে চেক গ্রহণকারীর কাজের মিলকরণ সব কাজই আব্দুস সালাম করতো। তাছাড়া সরকারী অডিট ফেস করার জন্য ফাইল পত্র প্রস্তুত করার দায়িত্ব ছিল আব্দুস সালামের উপর । ফলে সরকারী অডিটর বা আমাদের বোর্ডের আভ্যন্তরীন মাসিক বা বাৎসরিক সব অডিটের ফাইল আব্দুস সালাম প্রস্তুত করে রিপোর্ট আমাদের টেবিলে বা সরকারী অডিটরের কাছে সে নিজেই উপস্থাপন করতো। কারন আব্দুস সালাম জুনিয়র অডিটর হলেও বোর্ডে তার পেছনে বড় বড় কর্মকর্তাদের আর্শিবাদ থাকার কারনে সে বেশ পাওয়ার ফুল ছিল। সে অনেক সময় আমাদের অফিসারদের কে সুপার সিড করে বিভিন্ন কাজ করেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের কাছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোন ফল না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সব মেনে নিয়ে নিজের সম্মান নিজে বাঁচিয়ে চলতাম। কিন্তু তার পরও এসব চেক জায়িয়াতির বদনাম নিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, রাত দিন পরিশ্রম করে সহকর্মীদের কাজে লাগিয়ে এই চেক জালিয়াতির রহস্য সর্ব প্রথম আমার টেবিল থেকেই উৎঘাটিত হয়। তার পর বিষয় টি পর্য়ায়ক্রমে ডিডি স্যার, সচিব স্যার ও চেয়ারম্যান স্যারকে অবহিত করা হয়। তবে এ কথা ঠিক বর্তমানে যদি আব্দুস সালাম জুনিয়র অডিটর হিসেবে আমার সেকশনে অডিট শাখায় কর্মরত থাকতো তাহলে হয়তো এসব চেক জালিয়াতি ধরতে পারতাম না। কারণ যেহেতু ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে ব্যয় হিসাব মিলকরনের প্রাথমিক কাজটি সে করতো। হয়তো অতীতের মতো সব ঠিক আছে বলেই চালিয়ে দিতো।
এদিকে বোর্ডের চেক জালিয়াতি চক্রের হোতারা এখনও বহাল তবিয়তে কর্মে নিয়োজিত থাকায় অনেকেই এসব জালিয়াতির বিচারের প্রশ্নে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি আব্দুস সালাম যতই লিখিত দিয়ে সব দোষ নিজের ঘাড়ে তুলে নিক না কেন এর পেছনে বড় বড় রাঘব বোয়ালরা জড়িত। কারন আব্দুস সালাম দুই দফায় যে ত্রিশ লাখ টাকার বেশি বোর্ডে ডিডি আকাওে ফেরত দিয়েছে ওই টাকা তার একাউন্টে বা তাকে কে দিয়েছে তার অনুসন্ধান করলেই রাঘব বোয়ালদেও নাম বেরিয়ে পড়বে। এছাড়া আরো যাদেও নামে চেক ইস্যু হয়েছে, যারা যারা এসব চেক জালিয়াতি করেছে তাদের অনেকেই চি‎িত অপরাধি। ফলেএদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন বোর্ডের কর্মচারী এ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here